প্রবাসে থেকেও বাঙালিয়ানা, ঘরোয়া জীবন আর পরিচিত সংস্কৃতিকে ডিজিটাল মাধ্যমে তুলে ধরে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর মহুয়া। তাঁর ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ পেজ আজ শুধুমাত্র একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাঙালিদের কাছে এক আবেগের নাম। রান্নাবান্না, উৎসব, পারিবারিক মুহূর্ত এবং প্রবাস জীবনের নানা অভিজ্ঞতা সহজ ভাষায় তুলে ধরে তিনি তৈরি করেছেন বিশাল দর্শকগোষ্ঠী। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাঁর নতুন ভিডিওর অপেক্ষায় থাকেন। দীর্ঘদিনের এই সফল যাত্রার মধ্যেই এবার সামনে এসেছে এক নতুন আশঙ্কার খবর। আর সেই খবর ঘিরেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি বিশেষ পোস্ট করেন মহুয়া। সেই ছবিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী এবং কন্যাও। তবে পারিবারিক ছবির পাশাপাশি তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও ভাগ করে নেন অনুগামীদের সঙ্গে। সেই পোস্টে তিনি বর্তমান সময়ে ফেসবুকের বিভিন্ন নিয়ম এবং অ্যালগরিদম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বড় বড় পেজ হঠাৎ করে ডিলিট হয়ে যাচ্ছে অথবা নানা ধরনের বিধিনিষেধের মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতি তাঁকেও চিন্তায় ফেলেছে বলে জানান তিনি। কারণ তাঁর নিজের পেজও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।
মহুয়া জানান, কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁর পেজে ইতিমধ্যেই দুটি কপিরাইট স্ট্রাইক এসেছে। এই ঘটনায় তিনি যথেষ্ট হতাশ এবং উদ্বিগ্ন। কারণ দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তৈরি করা একটি প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বর্তমানে ফেসবুকের অ্যালগরিদম ও নিয়মের বেড়াজালে পড়ে অনেক বড় বড় পেজ ডিলিট হয়ে যাচ্ছে এবং নানারকম কঠোর বিধিনিষেধ বা রেস্ট্রিকশন আসছে।” পাশাপাশি তিনি আরও জানান, “আমার নিজের পেজেও কোনও কারণ ছাড়াই দুটি কপিরাইট স্ট্রাইক চলে এসেছে।” এই মন্তব্যের পর থেকেই অনুরাগীদের মধ্যে পেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুক পেজ নিয়ে এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য বিকল্প পথের কথাও জানিয়েছেন মহুয়া। তিনি বলেন, ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ নামে তাঁর একটি ইউটিউব চ্যানেলও রয়েছে, যেখানে নিয়মিত নতুন ভিডিও আপলোড করা হয়। যদি ভবিষ্যতে ফেসবুক পেজে কোনও বড় সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে দর্শকরা যেন সেখানেও তাঁর পাশে থাকেন, সেই অনুরোধ করেছেন তিনি। এই কারণেই তিনি সকলকে ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করার আবেদন জানান। একই সঙ্গে পোস্টের কমেন্ট বক্সে নিজের ইউটিউব চ্যানেলের লিঙ্কও শেয়ার করে দেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা ‘প্রবাসে ঘরকন্না’র সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের অনেকেই এই পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকে মহুয়ার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে। দর্শকদের একাংশের মতে, এতদিন ধরে যে কনটেন্ট মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে, তা কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়। ফলে পেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সমর্থনের অভাব নেই বলেই মনে করছেন অনুরাগীরা।
আরও পড়ুনঃ ‘রবীন্দ্রনৃত্য নয়, এটা পেটিন্দ্রনৃত্য!’ ‘কি দুঃসাহ, পেট বের করে, নাভি দেখিয়ে কবিগুরুর গানে নাচ!’ চিরাচরিত সাদা-লাল পোশাক ছেড়ে ভিন্ন সাজে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত! রবীন্দ্রসঙ্গীতে শরীর প্রদর্শনের অভিযোগে সমালোচনার ঝড় নেটপাড়ায়!
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সত্যিই কি ‘প্রবাসে ঘরকন্না’র ফেসবুক পেজ কোনও বড় সমস্যার মুখে পড়তে চলেছে? নাকি এই সংকট সাময়িক? যদিও সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মহুয়ার পোস্টে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি নিজেও পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। একই সঙ্গে তিনি তাঁর দর্শকদের পাশে থাকার আবেদন জানিয়েছেন। অনুরাগীদের আশা, ফেসবুকের এই জটিলতা কাটিয়ে খুব দ্রুতই আবার আগের মতো স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ এবং নতুন নতুন ভিডিওর মাধ্যমে মহুয়া আবারও পৌঁছে যাবেন তাঁর লক্ষ লক্ষ দর্শকের কাছে।






