“তখন আমার বয়স মাত্র এক বছর…” “মা কাঁদত আর আমি দেখতাম, এবার মা শুধুই হাসুক আমি চাই!” কোলের শিশু ও স্ত্রীকে রেখে চলে যান স্বামী! একলা মায়ের সংগ্রামের নীরব সাক্ষী মেয়ে, শেষ করে দিতে চেয়েছিল নিজেকে! জীবনের অন্ধকার অধ্যায় প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী মেঘনা হালদার, মেঘনা-অক্ষরার লড়াই ছুঁয়ে যাবে হৃদয়!

বিনোদন জগতের ঝলমলে আলো, জনপ্রিয়তা আর সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক না-বলা গল্প। ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে ধরা দেওয়া তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনেও থাকে সংগ্রাম, বিচ্ছেদ, একাকীত্ব এবং সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন। সেই সমস্ত অভিজ্ঞতা খুব কম শিল্পীই খোলাখুলিভাবে ভাগ করে নেন দর্শকদের সঙ্গে। সম্প্রতি এমনই এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের বহু অজানা অধ্যায় তুলে ধরলেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেঘনা হালদার। প্রথমবার তাঁর মেয়ে অক্ষরাকে পাশে নিয়ে তিনি কথা বললেন বিবাহবিচ্ছেদ, সিঙ্গেল মাদার হিসেবে লড়াই এবং মা-মেয়ের গভীর বন্ধুত্ব নিয়ে।

সাক্ষাৎকারে মেঘনা জানান, প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন তিনি। মুম্বইয়ে কাজের সূত্রেই পরিচয় হয়েছিল প্রাক্তন স্বামী ঋষি মিত্তালের সঙ্গে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই হয়েছিল তাঁদের বিয়ে। বিয়ের আগে ও পরে মিলিয়ে প্রায় চার বছর একসঙ্গে কাটিয়েছেন তাঁরা। সেই সময়টাকে নিজের জীবনের অন্যতম সুন্দর সময় বলেই মনে করেন অভিনেত্রী। সিনেমা দেখা, ঘুরতে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো সব মিলিয়ে সুখের সংসারই ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই পরিবারের সাংস্কৃতিক পার্থক্য, জীবনযাপনের ভিন্নতা এবং পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে অশান্তি বাড়তে থাকে। মেঘনার কথায়, স্বামী মানুষ হিসেবে অত্যন্ত ভালো হলেও পরিবার ও দাম্পত্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দুজনেই বুঝতে পারেন, একসঙ্গে থাকার চেয়ে আলাদা থাকাই হয়তো সবার জন্য ভালো হবে।

সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল তখন, কারণ সেই সময় তাঁদের মেয়ে অক্ষরার বয়স মাত্র এক বছর। মেয়েকে নিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন মেঘনা। তিনি জানান, প্রথমদিকে ভেবেছিলেন কিছুদিন দূরে থেকে পরিস্থিতি বুঝে আবার হয়তো সংসারে ফিরবেন। এমনকি দীর্ঘ সময় পর একবার চেষ্টা করার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ফিরে যাওয়া হয়নি। তবে বিচ্ছেদের পরেও তাঁদের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠেনি। মেয়ের স্বার্থে দুজনেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। মেঘনার কথায়, “আমরা কখনও চাইনি আমাদের সমস্যার প্রভাব মেয়ের জীবনে পড়ুক।” একা হাতে মেয়েকে বড় করলেও তিনি বারবার কৃতিত্ব দিয়েছেন তাঁর বাবা-মা এবং মেজদির অবদানকে। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এই পথ চলা সম্ভব হতো না বলেই জানান অভিনেত্রী।

তবে ছোটবেলায় অক্ষরার উপর বিচ্ছেদের প্রভাব পড়েছিল। মেঘনা জানান, সমাজের নানা মন্তব্য ও প্রশ্নে মেয়ে মানসিকভাবে কষ্ট পেত। অনেকেই তাকে বাবা-মায়ের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করত। সেই সময় নিজের অনুভূতি কাউকে প্রকাশ করত না অক্ষরা। এমনকি একসময় মানসিক চাপে নিজের হাতও কেটেছিল বলে জানান অভিনেত্রী। তখন তিনি বিষয়টিকে অন্যভাবে ভেবেছিলেন, কিন্তু পরে বুঝতে পারেন মেয়ের মনের ভেতরে কতটা দ্বন্দ্ব কাজ করছিল। অক্ষরার বয়স যখন প্রায় ১১ বছর, তখন প্রথমবার খোলাখুলি বসে মা-মেয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। মেঘনা জানান, তাঁর মেয়ে খুব পরিণতভাবে বিষয়টি গ্রহণ করে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মা-বাবা যে সিদ্ধান্তে সুখী, সে সেটাকেই সমর্থন করে।

আরও পড়ুনঃ প্রবাসে থেকেও বাঙালির ঘরের গন্ধ পৌঁছে দিয়েছেন তিনি! হাজারো মানুষের নিত্যদিনের অভ্যাস, এবার বন্ধ হতে চলেছে সেই ‘প্রবাসে ঘরকন্না’? উদ্বেগ বাড়াল মহুয়ার জরুরি বার্তা! আর দেখা যাবে না নতুন ভিডিও, আবেগঘন কন্ঠে কী জানালেন তিনি?

বর্তমানে অক্ষরা বাবার কাছে থাকে এবং প্রায় তিন বছর ধরে মুম্বইয়ে পড়াশোনা করছে। দূরে থাকলেও মা-মেয়ের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও গভীর হয়েছে বলে জানান মেঘনা। অক্ষরা নিজের জীবনের সব কথা মাকে জানায়, কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে আছে সবই ভাগ করে নেয়। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও বেশ আশাবাদী অভিনেত্রী। অক্ষরার ইচ্ছে শেফ বা ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার। অন্যদিকে অক্ষরা চায় তাঁর মা-ও জীবনে একজন ভালো সঙ্গী খুঁজে সুখে থাকুন। যদিও মেঘনা বর্তমানে নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট। কাজ, পরিবার, বন্ধু এবং মেয়েকে ঘিরেই তাঁর পৃথিবী। অতীতের স্মৃতি তাঁকে কষ্ট দেয় না, বরং সেই অভিজ্ঞতাগুলোকেই তিনি জীবনের মূল্যবান সম্পদ বলে মনে করেন।

You cannot copy content of this page