‘রবীন্দ্রনৃত্য নয়, এটা পেটিন্দ্রনৃত্য!’ ‘কি দুঃসাহ, পেট বের করে, নাভি দেখিয়ে কবিগুরুর গানে নাচ!’ চিরাচরিত সাদা-লাল পোশাক ছেড়ে ভিন্ন সাজে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত! রবীন্দ্রসঙ্গীতে শরীর প্রদর্শনের অভিযোগে সমালোচনার ঝড় নেটপাড়ায়!

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত’ (Rituparna Sengupta) দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় দক্ষতার জন্য দর্শকদের প্রশংসা পেয়ে আসছেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর জুটি একসময় বাংলা ছবির বড় আকর্ষণ ছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর পোশাক, মেকআপ এবং জনসমক্ষে উপস্থিতি নিয়েও বারবার আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত বছর রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাঁর শাড়ি পরার ধরন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিস্তর সমালোচনা দেখা গিয়েছিল। সেই বিতর্ক পুরোপুরি থামার আগেই চলতি বছরে আবারও নতুন একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন অভিনেত্রী।

এবার বিতর্কের বিষয় তাঁর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনৃত্য পরিবেশন। সম্প্রতি কলকাতার একটি জাদুঘরে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে। অনুষ্ঠানে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় গান ‘খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি’-র সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই সামাজিক মাধ্যমে নানান ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে শুরু করে। অনেকেই নাচের চেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন তাঁর সাজপোশাক নিয়ে। কেউ কেউ মনে করছেন, রবীন্দ্রনৃত্যের ক্ষেত্রে যে ধরনের পোশাক ও উপস্থাপনা সাধারণত দেখা যায়, তার থেকে এই পরিবেশনা অনেকটাই আলাদা ছিল।

ভিডিওতে অভিনেত্রীকে নীল শাড়ি ও সবুজ ব্লাউজে দেখা যায়। মাথায় খোঁপা, তার সঙ্গে বেণী এবং খোঁপায় ছিল হলুদ ও লাল ফুল। হাতে ছিল আলতা ও সবুজ রঙের চুড়ি। তবে নেটিজেনদের একাংশের নজর সবচেয়ে বেশি গিয়েছে শাড়ি পরার ধরনের দিকে। তাঁদের দাবি, রবীন্দ্রনৃত্যের পোশাকে সাধারণত শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঢাকা থাকে এবং একটি নির্দিষ্ট সৌন্দর্য ও শৈল্পিকতা বজায় রাখা হয়। কিন্তু এই পরিবেশনায় শাড়ির আঁচল এমনভাবে নেওয়া হয়েছে, যাতে পেট ও নাভি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। সেই কারণেই অনেক দর্শক প্রশ্ন তুলেছেন, এই ধরনের উপস্থাপনা আদৌ রবীন্দ্রনৃত্যের প্রচলিত রীতির সঙ্গে মানানসই কি না।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর কমেন্ট বক্সে একের পর এক মন্তব্য জমা পড়তে থাকে। একজন লিখেছেন, “উনি রবীন্দ্র নয়, পেটিন্দ্র নৃত্য করছেন!” আবার অন্য একজনের মন্তব্য, “রবীন্দ্র একক নৃত্য পরিবেশনের জন্য সাদা শাড়ি লাল পাড় হলে একটা অন্য রকম সৌন্দর্য ফুটে উঠতো। আর এই শাড়ির সাথে লাল ফুল একদম মানাচ্ছে না ,সাদা জুই এর মালা দারুন। ওনার ড্রেস সেন্স দেখে অবাক হচ্ছি। লাল ফুল লাগালেই কি বয়স কম লাগবে? বয়সকালীন সৌন্দর্যটা উপভোগ করার কথা ভাবুন।” সমালোচনা অবশ্য সেখানেই থেমে থাকেনি।

আরও একজন নেটিজেন লিখেছেন, “কি দুঃসাহ! পেট বের করে, নাভি দেখিয়ে রবীন্দ্র নৃত্য!” অন্য একজন আবার কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছেন, “ডিম থেরাপি প্রয়োজন, না হলে শুধরবে না!” অনেকের বক্তব্য, বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বিশেষ নৃত্যরীতিকে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে আরও সংযমী হওয়া উচিত ছিল। তাঁদের মতে, পোশাকের নির্বাচন এবং পরিবেশনার ধরন নিয়ে ভাবনা-চিন্তা আরও বেশি হওয়া দরকার ছিল। ফলে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রশংসার তুলনায় সমালোচনার পরিমাণই বেশি চোখে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ ছোট শহরের ছেলের বড় স্বপ্ন! উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে উঠে এসে গোটা বাংলার হৃদয়ে জায়গা, সারেগামাপার ফাইনালে আয়ুষ গুপ্তা! জাদুকরী কণ্ঠের কামাল, তিনিই হচ্ছেন এবারের চ্যাম্পিয়ন? কী বলছে সূত্রের খবর? জেনে নিন এক্ষুনি!

এদিকে আরও এক শ্রেণির দর্শক সরাসরি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম টেনে প্রশ্ন তুলেছেন এই উপস্থাপনা নিয়ে। একজন লিখেছেন, “এ কী! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এরকম ভাবে নাভির নিচে শাড়ি পরে নাচতে বলেছিলেন! ঋতুপর্ণা ওনার খেলাঘর দেখাচ্ছেন নাকি?” সব মিলিয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নৃত্য পরিবেশনা ঘিরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তাঁর পোশাক ও উপস্থাপনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মতভেদ থাকলেও, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি যে নতুন করে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা বলাই যায়।

You cannot copy content of this page