অভিনেতাদের জীবন মানেই শুধু ক্যামেরার সামনে অভিনয় নয়, তাদের ব্যক্তিগত জীবনেও লুকিয়ে থাকে অসংখ্য অজানা গল্প, পারিবারিক ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের ছাপ। অনেক সময় সেই গল্পগুলোই একজন শিল্পীর ব্যক্তিত্ব ও জীবনদর্শন গড়ে তোলে। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের জীবনের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরতে গিয়ে এমনই এক সমৃদ্ধ পারিবারিক ইতিহাসের কথা শোনালেন জনপ্রিয় অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু। তাঁর কথায় উঠে এসেছে কয়েক শতাব্দী পুরনো পারিবারিক ঐতিহ্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতি এবং বাংলার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের এক বিরল অধ্যায়।
দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ বিশ্বনাথ বসু। অভিনয়, সঞ্চালনা এবং কমেডির মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। তবে অভিনয় জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি নিজের শিকড় এবং পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে তিনি সবসময়ই গর্ববোধ করেন। ‘সোল কানেকশন’ পডকাস্টে সঞ্চালক অরুণাভ খাসনবিশের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি ছোটবেলার স্মৃতি থেকে শুরু করে নিজের পরিবারের ইতিহাস নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
অভিনেতা জানান, তাঁর পরিবারের বসবাস উত্তর ২৪ পরগনার আরবেলিয়া গ্রামে। তাঁদের বংশের ইতিহাস কয়েকশো বছরের পুরনো। বিশ্বনাথের দাবি, তাঁদের পরিবার ১৭২৫ সাল থেকে ওই এলাকায় বসবাস করছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বাড়িতে ১৭৭৫ সালে শুরু হওয়া দুর্গাপুজো এখনও সমান আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়। সেই হিসেবে আগামী বছর তাঁদের দুর্গাপুজো ৩০০ বছরে পা দেবে। পরিবারের নানা প্রাচীন রীতিনীতির কথাও উল্লেখ করেন অভিনেতা। তিনি জানান, তাঁদের বাড়িতে এখনও ১০০৮টি বেলপাতা দিয়ে বিশেষ হোমের প্রথা রয়েছে। অতীতে সেখানে মহিষ বলির রীতিও ছিল, যার স্মৃতি এখনও পরিবারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
পরিবারের গৌরবময় ইতিহাসের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বনাথ বসু বিশেষভাবে উল্লেখ করেন উপেন্দ্রনাথ বসু এবং নরেন্দ্রচন্দ্র বসুর নাম। অভিনেতার দাবি, উপেন্দ্রনাথ বসুই ছিলেন সেই বাঙালি আইনজীবী, যিনি বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর মামলায় লড়াই করেছিলেন। পাশাপাশি নরেন্দ্রচন্দ্র বসুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্বনাথের কথায়, ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুর পর যে ঐতিহাসিক ছবি দেখা যায়, সেখানে নরেন্দ্রচন্দ্র বসুর উপস্থিতির কথাও পরিবারের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। এই দুই ব্যক্তিত্ব তাঁর পরিবারের সদস্য ছিলেন বলেই জানান অভিনেতা। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে পরিবারের এই যোগসূত্র তাঁর কাছে বিশেষ গর্বের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ তাপস পালের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করে একসময় বাংলা সিনেমার পর্দা কাঁপিয়েছিলেন মাস্টার স্বর্ণেন্দু! ‘আক্রোশ’, ‘মঙ্গলদীপ’-এর সেই জনপ্রিয় শিশু শিল্পী আজ কোথায়? কেন নায়ক হওয়ার বয়সে অভিনয় ছেড়েছিলেন তিনি? জানেন, কোন পেশায় নিজের নতুন পরিচয় গড়েছেন স্বর্ণেন্দু রায়?
এছাড়াও বিশ্বনাথ বসু জানান, সম্প্রতি তিনি একটি নাটক দেখতে গিয়ে রামরাম বসুর চরিত্র দেখতে পান এবং তখনই মনে পড়ে যায় নিজের পারিবারিক ইতিহাসের কথা। তাঁর দাবি, রামরাম বসুও তাঁদের পরিবারেরই সদস্য ছিলেন। সেই সূত্রেই বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁদের পরিবারের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। অভিনেতার কথায়, ছোটবেলা থেকেই তিনি এমন এক পরিবেশে বড় হয়েছেন যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা একসঙ্গে মিশে ছিল। আর সেই পারিবারিক উত্তরাধিকারই তাঁর জীবন ও শিল্পীসত্তাকে আজও গভীরভাবে প্রভাবিত করে চলেছে।







