অনুপম খেরের প্রযোজনায় দীর্ঘ ২৬ বছর পর তৈরি হতে চলা নতুন বাংলা ছবি ‘শুরু থেকে শুরু’-এর সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক ‘রূপা গঙ্গোপাধ্যায়’ (Rupa Ganguly)। সেই অনুষ্ঠানের ফাঁকেই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে মারার ঘটনা এবং জনজীবনে ক্রমশ বাড়তে থাকা অশান্তি নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন তিনি। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি রাজনৈতিক হিংসা, সামাজিক পরিবেশ এবং জনসমক্ষে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কুরুচিকর আচরণ প্রসঙ্গেও খোলাখুলি মন্তব্য করেন।
তাঁর বক্তব্যের একাধিক অংশ ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এইসব ডিম ছুঁড়ে মারা আমাদের সংস্কৃতি নয়! কাউকে এমনভাবে আক্রমণের সমর্থক আমি নই! আজকেও শুনলাম একটা বাচ্চাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে পিটিয়েছে, এইসব কেন হবে? এগুলো করে বাংলাকে আমরা আরও ছোট করে দিচ্ছি সারা দেশ ও বিশ্বের কাছে। আসলে এতদিন পশ্চিমবঙ্গের একটা বৃহৎ অংশের মানুষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ফলে এখন সেই সব দুর্নীতি করার পথ বা কালো টাকা পকেটে ঢোকা যেই বন্ধ হয়েছে ওমনি রাস্তায় আন্দোলনের নামে নেমে পড়েছে!
চিৎকার করছে, একে মারছে ওকে মারছে…এদের জন্যই এখন শান্ত থাকা মানুষদের ‘ন্যাকা’ বলে ডাকে সবাই!” তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই কারণে হিংসা বা অপমানের পরিবেশ তৈরি হওয়া কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আলোচনার সময় বর্তমান রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক মানসিকতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ক্রমশ সাধারণ মানুষের মধ্যেও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে এবং মতের অমিল হলেই আক্রমণাত্মক আচরণ করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের পরিস্থিতি রাজ্যের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বাইরের মানুষের কাছেও বাংলার একটি নেতিবাচক ছবি তুলে ধরে।
তাই রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও সংযম এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে চলা বিভিন্ন কটাক্ষ এবং বিকৃত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এত অকথ্য ভাষায় কথা বলা বা বিকৃত ছবি প্রচার করাটা কিন্তু খুব বড় অন্যায়! উনি যেমনই হোক বা ওনার দল ভেঙে যাক, সেটা যদিও অবশ্যম্ভাবী ছিল! তবুও এটা তো ভুললে চলবে না যে উনি তিনবার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, হয়তো জেতার তাগিদে দলে ঢুকে পড়া বেনো জলদের দেখতে পাননি। তাই দয়া করে ওনাকে ছোট করবেন না।
আরও পড়ুনঃ “আমি শাহরুখ খান, দেখবেন রিলিজের পর কী হয়!” মায়ের প্রযোজিত ছবিতে ছেলে হিরো, তাঁর সেই আকাশছোঁয়া আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য আজও ভোলেননি! সেন্সর বোর্ডে বসে দেখা এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার গল্প শোনালেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়! জানেন সেই মহা আত্মবিশ্বাসী সস্তা ‘শাহরুখ খান’ কে?
এর আগেও যখন বলতাম, অনেকেই বলেছিল তৃণমূলে ঢুকবে। এখন আমি শাসক দলের লোক হয়েই অনুরোধ করছি।” রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল এবং সামাজিক মাধ্যম, দুই জায়গাতেই আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তিনি যেমন রাজনৈতিক হিংসা এবং আক্রমণাত্মক আচরণের বিরোধিতা করেছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান না করার আবেদনও জানিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে এখন নানা মহলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সামনে আসছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।






