বাংলা সিনেমার অন্যতম বড় তারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দর্শকদের ভালোবাসায় নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। তাঁর ছবি মুক্তি মানেই একসময় সিনেমা হলের সামনে উপচে পড়া ভিড় ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এখনও তাঁর জনপ্রিয়তা একইভাবে অটুট। তবে তারকা জীবনের এই সাফল্যের পাশাপাশি এমন কিছু অভিজ্ঞতাও রয়েছে, যা আজও মনে পড়লে অবাক হয়ে যান তিনি। সম্প্রতি এক আড্ডায় তেমনই বহু বছরের পুরনো একটি ঘটনা শেয়ার করেছেন অভিনেতা, যা শুনে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
ঘটনাটি নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকের। তখন ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রসেনজিৎ ও দেবশ্রী রায় অভিনীত সুপারহিট ছবি ‘পুরুষোত্তম’ দর্শকদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ছবির প্রচারের জন্য কলকাতার ডানলপের বিখ্যাত ‘সোনালী’ সিনেমা হলে গিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। প্রিয় নায়ককে একবার সামনে থেকে দেখার জন্য তখন অসংখ্য মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। হল চত্বরে এতটাই ভিড় ছিল যে নিরাপত্তারক্ষীদের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
সেই ভিড়ের মধ্যেই হঠাৎ ঘটে যায় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। প্রসেনজিৎ জানান, এক পুরুষ অনুরাগী আচমকাই নিরাপত্তার বলয় ভেঙে তাঁর খুব কাছে চলে আসেন। কিছু বোঝার আগেই ওই ব্যক্তি অভিনেতার ঠোঁটে চুমু খেয়ে বসেন। কিন্তু বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। ভালোবাসার সেই উচ্ছ্বাস এতটাই তীব্র ছিল যে দাঁতের কামড়ে প্রসেনজিতের ঠোঁটের খানিকটা মাংস ছিঁড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে রক্ত বেরোতে শুরু করে এবং তীব্র যন্ত্রণায় পড়েন অভিনেতা। উপস্থিত সকলেই তখন হতভম্ব হয়ে যান।
বহু বছর পর সেই ঘটনার কথা স্মরণ করে প্রসেনজিৎ জানান, তারকা হওয়ার সঙ্গে যেমন মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে, তেমনই কখনও কখনও সেই ভালোবাসা অস্বস্তিকর বা বিপজ্জনক পরিস্থিতিও তৈরি করে। তিনি বলেন, ভক্তদের আবেগকে অবশ্যই তিনি সম্মান করেন, কিন্তু এমন ঘটনার জন্য তিনি একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। সেই দিনের অভিজ্ঞতা তাঁর স্মৃতিতে আজও স্পষ্টভাবে রয়ে গেছে। অভিনেতার এই অভিজ্ঞতা সামনে আসার পর নেটিজেনদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকেই বলছেন, নব্বইয়ের দশকে প্রসেনজিৎকে ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা কতটা তীব্র ছিল, এই ঘটনাই তার বড় প্রমাণ। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ভক্তের ভালোবাসা অবশ্যই মূল্যবান, তবে তা কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত নয়, যাতে প্রিয় মানুষটিরই শারীরিক ক্ষতি হয়। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য স্মৃতির মধ্যে এই ঘটনাটি নিঃসন্দেহে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম অদ্ভুত এবং অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা হয়ে রয়েছে। আজও সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে প্রসেনজিৎ হেসে ফেলন।
আরও পড়ুনঃ “এখন সবকিছু চামচ দিয়ে গিলিয়ে দিচ্ছে, এত দেখার খিদে বেড়েছে যে খুলে দেখিয়ে বোঝাতে হচ্ছে!” “কে কতটা খুঁচিয়ে মা’রতে পারে, র’ক্ত দেখাতে পারের প্রতিযোগিতা!” ‘মৃগয়া’-য় শ্লী’লতাহা’নির দৃশ্যে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে, আজকের বিনোদনের নামে কুরু’চিকর দৃশ্যায়নকে একহাত নিলেন মমতা শঙ্কর!
যদিও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল সেই সময়ের যন্ত্রণা এবং বিস্ময়ের ছাপ। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীর কাছে দর্শকের ভালোবাসার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হয় না। তবে সেই ভালোবাসার প্রকাশও যেন সীমার মধ্যে থাকে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আবেগের বশে ঘটে যাওয়া একটি মুহূর্ত কখনও কখনও সারাজীবনের জন্য মনে থেকে যাওয়া এক অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতায় পরিণত হতে পারে। এই বিষয়ে আপনাদের কী মতামত জানাতে ভুলবেন না!






