এক সময় বাংলা সিনেমার বড় আকর্ষণ ছিলেন শিশু শিল্পীরা। তাঁদের নিষ্পাপ অভিনয়, সহজাত অভিব্যক্তি এবং পর্দায় প্রাণবন্ত উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করত। অনেক শিশু শিল্পী ছোটবেলাতেই জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের অনেকেই অভিনয় জগত থেকে দূরে সরে গেছেন। কেউ পড়াশোনায় মন দিয়েছেন, কেউ আবার বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশা। ফলে একসময়ের পরিচিত মুখগুলিকে আজ আর পর্দায় দেখা যায় না। তবুও তাঁদের অভিনয়ের স্মৃতি এখনও দর্শকদের মনে অমলিন হয়ে রয়েছে।
বাংলা সিনেমার এমনই এক জনপ্রিয় শিশু শিল্পী ছিলেন স্বর্ণজিত চক্রবর্তী, যিনি ‘মাস্টার স্বর্ণজিৎ’ নামেই বেশি পরিচিত। খুব অল্প বয়সেই তিনি দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন নিজের অভিনয় দক্ষতায়। বিশেষ করে ‘শিমুল পারুল’ ছবিতে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। স্বাভাবিক অভিনয় এবং চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অন্য শিশু শিল্পীদের থেকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছিল। সেই সময়ে বাংলা সিনেমার দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত একটি মুখ।
‘শিমুল পারুল’-এর সাফল্যের পর স্বর্ণজিৎ একের পর এক ছবিতে অভিনয় করেন। ‘নিষ্পাপ আসামি’, ‘আদরের বোন’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন জয় করেছিল। পরিচালক ও প্রযোজকদের কাছেও তিনি ছিলেন ভরসার নাম। ছোটবেলায় এত জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন ভবিষ্যতে তিনি বাংলা সিনেমার একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হয়ে উঠবেন। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা।
অভিনয় জগতে সাফল্যের মধ্যেই স্বর্ণজিৎ ধীরে ধীরে নিজেকে লাইমলাইট থেকে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। জানা যায়, তিনি পড়াশোনার প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে চেয়েছিলেন এবং সেই কারণেই অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জনপ্রিয়তার মোহে না ভেসে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে গুরুত্ব দেন তিনি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি কমতে থাকে এবং একসময় তিনি প্রায় সম্পূর্ণভাবে টলিউড থেকে হারিয়ে যান। দর্শকরাও ধীরে ধীরে তাঁকে পর্দায় দেখা বন্ধ করে দেন।
আরও পড়ুনঃ “উত্তমদার মতো কাউকে আজও খুঁজে পেলাম না…” মহানায়ককে স্মরণ করে কী অজানা অভিজ্ঞতা শোনালেন রত্না ঘোষাল? বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের নিয়ে কোন আক্ষেপ বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর?
বর্তমানে স্বর্ণজিৎ চক্রবর্তী অভিনয় জগতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন। তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে দূরে থেকে নিজের মতো করে শান্ত ও ব্যক্তিগত জীবন কাটাচ্ছেন। যদিও তাঁর বর্তমান জীবন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ্যে আসে না, তবুও একসময়ের সেই জনপ্রিয় শিশু শিল্পীকে আজও ভুলতে পারেননি বাংলা সিনেমাপ্রেমীরা। বহু বছর পরেও ‘শিমুল পারুল’ কিংবা ‘আদরের বোন’-এর মতো ছবির কথা উঠলেই দর্শকদের মনে ফিরে আসে সেই ছোট্ট ছেলেটির মুখ। পর্দা থেকে দূরে থাকলেও নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি বিশেষ জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন।






‘খেয়ে যাকে ছিবড়ে করে ফেলেছেন…’ সামাজিক মাধ্যমে ‘সুগার ড্যাডি’র নম্বর চেয়ে বসলেন, ‘লেডি সুপারস্টার’ শুভশ্রীর দিদি দেবশ্রী! কটা’ক্ষে সরগরম নেটপাড়া!