ত্রিপুরার ছেলে বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী প্রমাণ করে দিলেন, স্বপ্নকে সত্যি করতে বয়স কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। জি বাংলার ‘সারেগামাপা ২০২৪-২৫’-এর অন্যতম জনপ্রিয় ফাইনালিস্ট হিসেবে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। গ্র্যান্ড ফিনালের ঠিক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের জীবনের কঠিন সংগ্রামের গল্প ভাগ করে নেন বিশ্বপ্রিয়। তাঁর সেই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। বহু মানুষ তাঁর এই যাত্রাকে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। বাস্তবের এই গল্প অনেকের কাছেই যেন সিনেমার কাহিনির মতো মনে হয়েছে।
বিশ্বপ্রিয় পেশায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। জীবনের দায়িত্ব, কাজের চাপ এবং বাস্তব পরিস্থিতির কারণে টানা প্রায় ১৩ বছর তিনি গান থেকে সম্পূর্ণ দূরে ছিলেন। একসময় তিনি ভেবেই নিয়েছিলেন, হয়তো আর কোনও দিন নিজের গানের স্বপ্ন পূরণ হবে না। সেই সময়ের কথা মনে করে তিনি লেখেন, “জীবন আমাকে সম্পূর্ণ অন্য একটি পথে নিয়ে গিয়েছিল। একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার তৈরি করতে গিয়ে প্রায় ১৩ বছর আমি মিউজিক থেকে দূরে ছিলাম। একসময় ভেবেছিলাম, যে স্বপ্ন আমি পূরণ করতে পারলাম না, তা হয়তো আমার পরের প্রজন্ম আমার হয়ে বাঁচবে।” তাঁর এই স্বীকারোক্তি অনেকের মন ছুঁয়ে গেছে।
তবে গান থেকে দূরে থাকলেও সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা কখনও হারিয়ে যায়নি। পোস্টে বিশ্বপ্রিয় আরও লেখেন, “কিন্তু মনের গভীরে মিউজিকের প্রতি ভালোবাসা কোনোদিন ম্লান হয়নি। যখনই জীবনকে খুব ভারাক্রান্ত মনে হতো, আমি গানের মধ্যেই শান্তি খুঁজতাম।” নিজের এই দীর্ঘ যাত্রার কথা বোঝাতে তিনি দুটি ছবি একসঙ্গে পোস্ট করেছেন। একটি ২০২৪ সালের, যেখানে মুম্বাইয়ের আলিবাগে একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে ইঞ্জিনিয়ারের পোশাক পরে মাথায় হেলমেট পরে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। অন্য ছবিতে দেখা যায় জি বাংলার সারেগামাপার ঝলমলে মঞ্চে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই একই মানুষকে।
এই দুই ছবির মাধ্যমে জীবনের বদলে যাওয়া অধ্যায়ের কথা তুলে ধরে বিশ্বপ্রিয় লিখেছেন, “স্বপ্নের কোনও এক্সপায়ারি ডেট থাকে না।” তিনি আরও বলেন, আমাদের শুধু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়, কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, নতুন কিছু শেখার ইচ্ছে রাখতে হয় এবং নিজের ওপর বিশ্বাস হারানো উচিত নয়। তাঁর মতে, জীবনে কার জন্য কোন সুযোগ অপেক্ষা করছে, তা আগে থেকে কেউ জানে না। পাশাপাশি তিনি আরও লেখেন, “যদি এমন কিছু থাকে যা আপনি সত্যিই ভালোবাসেন, তবে সহজে হাল ছেড়ে দেবেন না। আপনার সঠিক সময়টি হয়তো আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে।” এই বার্তাই এখন বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ মাথা ফেটে র’ক্তাক্ত কাঞ্চন-শ্রীময়ীর মেয়ে কৃষভি! একের পর এক চোট পাচ্ছে একরত্তি! এখন কেমন আছে সে, জানালেন মা শ্রীময়ী?
বিশ্বপ্রিয়র এই পোস্ট সামনে আসার পর থেকেই অনুরাগীরা তাঁকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন। একজন সাধারণ চাকরিজীবী থেকে বাংলার অন্যতম বড় মিউজিক রিয়্যালিটি শোর গ্র্যান্ড ফিনালের মঞ্চে পৌঁছানোর এই যাত্রা সকলের নজর কেড়েছে। রবিবার অনুষ্ঠিত হবে ‘সারেগামাপা ২০২৪-২৫’-এর বহু প্রতীক্ষিত গ্র্যান্ড ফিনালে। সূত্রের খবর, ট্রফি জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আয়ুষ, তাঁর পরেই রয়েছেন সায়ন্তনী। তবে জয়-পরাজয়ের বাইরে বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তীর এই দীর্ঘ লড়াই এবং ফিরে আসার গল্প ইতিমধ্যেই বহু হারিয়ে যাওয়া শিল্পীর কাছে নতুন করে স্বপ্ন দেখার শক্তি হয়ে উঠেছে।






