‘এটা শেষ নয়, নতুন শুরুর গল্প’ ট্রফি জিতেই রাতারাতি কপাল খুলল আয়ুষ গুপ্তার! জানেন, সারেগামাপা-র চ্যাম্পিয়ন এখন কত টাকার মালিক? উপহারের পাশাপাশি পেয়েছেন একাধিক নতুন সুযোগও?

দীর্ঘ কয়েক মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে ২৮ জুন, রবিবার অনুষ্ঠিত হল জি বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীতভিত্তিক রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা ২০২৫-২৬’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। শুরু থেকেই একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন আয়ুষ গুপ্তা। ফাইনালেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নের ট্রফি নিজের করে নেন তিনি। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভরে ওঠে তাঁর টাইমলাইন। পরিবার, প্রতিবেশী এবং অনুরাগীদের কাছে এই সাফল্য হয়ে ওঠে বিশেষ গর্বের মুহূর্ত। ইসলামপুরের বাসিন্দারাও মনে করছেন, এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদই আয়ুষকে এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। অনেকের মতে, আগামী প্রজন্মের জন্যও তাঁর এই জয় বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

চ্যাম্পিয়নের ট্রফি হাতে নিজের ছবি পোস্ট করে আয়ুষ নিজের দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “জিরো থেকে চ্যাপলিন হওয়ার সফর৷ এই সফরে প্রচুর চড়াই-উতরাই এসেছে। কখনও কখনও মনে হয়েছে বড্ড কঠিন, কিন্তু একটা জিনিসের ওপর সবসময় বিশ্বাস ছিল, আমার দর্শকেরা আমার পাশে আছেন। আপনাদের সবার ভালবাসা এবং আশীর্বাদ ছিল আমার সবচেয়ে বড় শক্তি৷ আমার প্রিয় দর্শক… এই ট্রফিটা আমার যতটা, ঠিক ততটাই আপনাদেরও।” তাঁর এই আবেগঘন পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। অসংখ্য অনুরাগী তাঁর এই সাফল্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান। অনেকেই মন্তব্য করেন, কঠোর পরিশ্রমের ফলই আজ তিনি পেয়েছেন।

নিজের পোস্টে আয়ুষ আরও লিখেছেন, “আজ সমস্ত কষ্ট, ঘুমহীন রাত, আশীর্বাদ এবং আপনাদের সমস্ত ভালবাসা আমাকে জি বাংলা সা রে গা মা পা ২০২৫-২৬-এর চ্যাম্পিয়ন করেছে৷ আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ভালবাসি। গানে গানে পাশে থেকো। এটা কোনও শেষ নয়… এটা আমার মিউজিক্যাল জার্নির একটা নতুন শুরু মাত্র।” এই কথার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই জয়কে তিনি শেষ সাফল্য হিসেবে নয়, বরং নতুন পথচলার সূচনা হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, দর্শকদের ভালোবাসাই তাঁকে প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে। ভবিষ্যতেও গান নিয়েই নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চান তিনি।

এই সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নিজের একার বলে মানতে নারাজ আয়ুষ। তিনি জানান, শুরুর দিন থেকে শেষ পর্যন্ত যাঁরা তাঁকে পথ দেখিয়েছেন, তাঁদের প্রতিই তিনি কৃতজ্ঞ। পোস্টে তিনি লেখেন, “সৌমেন নন্দী স্যার, কল্যাণ ভট্টাচার্য স্যার, ঝুমুর চ্যাটার্জি ম্যাম, রথীজিৎ ভট্টাচার্য স্যার, শান্তনু মৈত্র স্যার, জিৎ গাঙ্গুলী স্যার, রূপম ইসলাম স্যার, কৌশিকী চক্রবর্তী মা, অন্তরা মিত্র ম্যাম, শুভমিতা ব্যানার্জি অফিশিয়াল ম্যাম, জোজো মুখার্জি ম্যাম, ইমন চক্রবর্তী দি, রূপঙ্কর বাগচি স্যার, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায় ম্যাম এবং আবির চ্যাটার্জি দাদা, আপনাদের সবার আশীর্বাদ আর সঠিক দিক গাইডেন্স আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।” পাশাপাশি তিনি বিশেষভাবে শান্তনু মৈত্র, রূপম ইসলাম, জিৎ গাঙ্গুলী ও কৌশিকী চক্রবর্তীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ “পৃথিবীতে অরাজনৈতিক বলে কিছু হয় না, এত বড় স’ন্ত্রাস কোনও ভোটে হয়নি..ভারতবাসীর চাহিদা ভীষণ কম, আর সেই সুযোগই নিচ্ছে এই রাজনৈতিক দল” কোন অভিজ্ঞতা থেকে এমন মন্তব্য চন্দন সেনের? ২০১১-১৩-র ব্যক্তিগত সং’গ্রাম থেকে গণতন্ত্রের সং’কট নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা!

চ্যাম্পিয়নের খেতাবের পাশাপাশি একাধিক মূল্যবান পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন আয়ুষ গুপ্তা। সোনালি ট্রফির সঙ্গে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মোট ৬ লক্ষ টাকার প্রাইজ মানি। এছাড়াও রয়েছে একটি নতুন এসইউভি গাড়ি এবং একটি সোনার গয়নার সেট। এই জয়ের পর আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি জনপ্রিয়তাও অনেকটাই বেড়েছে তাঁর। ‘জিরো থেকে চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার এই সফর এখন নতুন স্বপ্নের পথে প্রথম ধাপ বলেই মনে করছেন আয়ুষ। দর্শকদের আশীর্বাদ নিয়েই আগামী দিনে সঙ্গীতজগতে আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

You cannot copy content of this page