“মুখের এক পাশ অদ্ভুতভাবে বেঁকে যাচ্ছে, শুরু হয় হেঁচকি…” মৃ’ত্যুকে ছুঁয়ে ফিরে আসা, ব্রেন স্ট্রো’কের সেই বিভীষি’কাময় অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন সায়ন্তনী মল্লিক! এই কঠিন লড়াইয়ে স্বামী ইন্দ্রনীল কীভাবে ‘স্ট্রং ব্যাকবোন’ হয়ে উঠেছেন? মস্তিষ্কে র’ক্ত জমাট বাঁধে, বর্তমানে অভিনেত্রী কেমন আছেন?

বাংলা বিনোদন জগতের তারকাদের ঝলমলে জীবন দর্শকদের কাছে যতটা আকর্ষণীয়, ক্যামেরার আড়ালে তাঁদের জীবন ততটাই সংগ্রাম, দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত লড়াইয়ে ভরা। পর্দায় হাসিমুখে ধরা দিলেও অনেক সময় কঠিন শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় তাঁদের। সম্প্রতি অভিনেত্রী সায়ন্তনী মল্লিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এমনই এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন, যা শুনে রীতিমতো শিউরে উঠেছেন তাঁর অনুরাগীরা। বিশেষ করে ব্রেন স্ট্রোকের মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হয়ে কীভাবে তিনি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন, সেই কাহিনি উঠে এসেছে তাঁর কথায়।

টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়ন্তনী মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ। একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। পর্দায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করলেও ব্যক্তিগত জীবনে প্রাণবন্ত ও স্পষ্টভাষী হিসেবেই পরিচিত সায়ন্তনী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের কর্মজীবন, ব্যক্তিগত জীবন এবং স্বামী ইন্দ্রনীল মল্লিকের সঙ্গে সম্পর্কের নানা অজানা দিক তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি জানান জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা, যখন আচমকাই তাঁর ব্রেন স্ট্রোক হয়।

Bengali television

সায়ন্তনীর কথায়, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বাড়িতে ওয়ার্কআউট করছিলেন। সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। স্বামী ইন্দ্রনীলের সঙ্গে মজাও করেছিলেন। কিন্তু ওয়ার্কআউটের শেষদিকে আচমকা শরীরে অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করেন তিনি। তারপরও জেদ করে ব্যায়াম শেষ করেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি ইন্দ্রনীলকে জানান যে শরীর খারাপ লাগছে। বিছানায় শুয়ে থাকার সময় মজা করে স্বামীর দিকে তাকিয়ে হাসতেই লক্ষ্য করেন মুখের এক পাশ অদ্ভুতভাবে বেঁকে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে শরীরের একদিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শুরু হয় টানা হেঁচকি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান ইন্দ্রনীল।

অভিনেত্রীর দাবি, সেই দিন ইন্দ্রনীল বাড়িতে না থাকলে হয়তো তিনি বেঁচেই ফিরতেন না। হাসপাতালে প্রথমে সিটি স্ক্যানে বড় কিছু ধরা না পড়লেও এমআরআই করার পর চিকিৎসকরা জানান, তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে স্ট্রোক হয়েছে। রিপোর্ট দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি সায়ন্তনী। কারণ তার আগের দিনও তিনি কয়েক কিলোমিটার দৌড়েছিলেন এবং নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর ছিল। দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করে উচ্চমাত্রার চিকিৎসা শুরু হয়। সৌভাগ্যবশত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়েনি। পরবর্তীতে তাঁকে বিশেষজ্ঞ নিউরোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে আরও চিকিৎসা নিতে হয়।

আরও পড়ুনঃ “আমি ২৪ ঘণ্টা সঙ্গে থাকা মা নই…এখনও হাত ধরতে দেয়, আর কদিন পর হয়তো…” বদলে যাচ্ছে মা-ছেলের সম্পর্ক, তাই কি মনের ভিতরে জমছে অদ্ভুত এক শূন্যতা? মাতৃত্ব নিয়ে কোন আক্ষেপের কথা জানালেন গায়িকা কৌশিকী চক্রবর্তী?

স্ট্রোকের পর শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন সায়ন্তনী। বারবার মনে হতো আবার যদি স্ট্রোক হয়! সেই আতঙ্ক থেকে প্যানিক অ্যাটাক এবং উদ্বেগের সমস্যাও তৈরি হয়। তবে এই কঠিন সময়ে তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন স্বামী ইন্দ্রনীল মল্লিক। চিকিৎসা থেকে মানসিক শক্তি জোগানো প্রতিটি মুহূর্তে পাশে থেকেছেন তিনি। সায়ন্তনীর কথায়, ইন্দ্রনীল এবং কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাঁর জীবনের “স্ট্রং ব্যাকবোন” হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। বর্তমানে নিয়মিত ওষুধ, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দৈনিক শরীরচর্চার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন অভিনেত্রী। একইসঙ্গে তিনি সকলকে, বিশেষ করে মহিলাদের, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

You cannot copy content of this page