টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী অনামিকা সাহা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা সিনেমায় নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখে চলেছেন। ইতিবাচক চরিত্রের পাশাপাশি একসময় পর্দায় তাঁর নেতিবাচক চরিত্রও দর্শকদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় ছিল। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন একটি ব্যক্তিগত ঘটনার কথা জানান, যা শুধু তাঁর অভিনয়জীবন নয়, চরিত্র নির্বাচনের ভাবনাকেও পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল। অভিনেত্রীর কথায়, সেই সিদ্ধান্তের পিছনে ছিল তাঁর একমাত্র মেয়ের আবেগ এবং ছোট্ট একটি অনুরোধ। আজও সেই মুহূর্ত তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে নিজের মেয়ের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে অনামিকা সাহা জানান, এখন তাঁর মেয়ে নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত এবং সেই সাফল্যই একজন মা হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে মানুষ হয়ে গেছে। সে এখন অনেক বড় জায়গায় আছে। ওকে নিয়ে আমার কোনও চিন্তা নেই।” শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতের জন্য অর্থ বা সম্পত্তি রেখে দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলেও মেয়ের উত্তর তাঁকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। অভিনেত্রীর কথায়, তিনি যখন বলেন, “টাকা থাকবে, তুই পরে নিবি”, তখন মেয়ে হেসে উত্তর দেয়, “আমার এক পয়সাও লাগবে না। যা আছে সব খরচা কর, যা খুশি করে উড়িয়ে দাও।” এই কথার মধ্যেই তিনি সন্তানের প্রকৃত ভালোবাসা খুঁজে পান।
এরপরই অভিনেত্রী স্মরণ করেন বহু বছর আগের একটি ঘটনা। তিনি জানান, একদিন স্কুল থেকে ফিরে তাঁর মেয়ে খুব মন খারাপ করে চুপচাপ বসে কাঁদছিল। কারণ জানতে চাইলে সে জানায়, স্কুলের বন্ধুরা বলেছে, “আন্টি এত ভালো মানুষ, কিন্তু উনি শুধু দুষ্টু-দুষ্টু চরিত্রে অভিনয় করেন। তুই আন্টিকে বলবি, যেন আর এমন চরিত্র না করেন।” ছোট্ট মেয়ের মুখে এই কথা শুনে তিনি ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সেই মুহূর্তেই নিজের অভিনয়জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন এবং একটি বড় সিদ্ধান্ত নেন।
অনামিকা সাহা জানান, সেই দিনের পর থেকেই তিনি ঠিক করে ফেলেছিলেন যে আর কোনও নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করবেন না। নিজের সেই সিদ্ধান্তে অটল থেকে তিনি একসঙ্গে পাঁচটি ছবির কাজও ছেড়ে দেন। এরপর থেকে তিনি মূলত ইতিবাচক চরিত্রেই অভিনয় করতে শুরু করেন। সেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় ‘মায়ের আঁচল’ ছবির মাধ্যমে, যা দর্শকদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় হয়। এরপর ‘পরিবার’, ‘প্রতিবাদ’, ‘সঙ্গী’, ‘সাথী’সহ একের পর এক সফল ছবিতে অভিনয় করে তিনি আবারও নতুনভাবে দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করেন।
আরও পড়ুনঃ ‘এটা শেষ নয়, নতুন শুরুর গল্প’ ট্রফি জিতেই রাতারাতি কপাল খুলল আয়ুষ গুপ্তার! জানেন, সারেগামাপা-র চ্যাম্পিয়ন এখন কত টাকার মালিক? উপহারের পাশাপাশি পেয়েছেন একাধিক নতুন সুযোগও?
অভিনেত্রীর এই অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দেয়, একজন শিল্পীর পেশাগত সিদ্ধান্তের পিছনেও অনেক সময় পরিবারের আবেগ বড় ভূমিকা পালন করে। মেয়ের চোখের জল এবং সরল অনুভূতি একজন মায়ের মনকে যেমন নাড়া দিয়েছিল, তেমনই বদলে দিয়েছিল তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পথও। আজ মেয়ের সাফল্যে গর্বিত অনামিকা সাহা মনে করেন, সেই ছোট্ট অনুরোধই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলির একটি। তাই এত বছর পরও সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠে ফুটে ওঠে একই রকম আবেগ এবং কৃতজ্ঞতা।






