“শুধু ভালো গান নয়, আরও অনেক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ…” অদিতি মুন্সিকে ঘিরে সৌম্য চক্রবর্তীর ‘জেতার জন্য ঘনি’ষ্ঠতা’র বি’স্ফোরক অভিযোগে মুখ খুললেন, ‘সারেগামাপা’র সহ-প্রতিযোগী দীপন, দুর্নিবার ও শোভন! অদিতি কি সত্যিই গান গাইতে পারেন না, কী বললেন তিন শিল্পী?

বাংলা গানের জগতে অদিতি মুন্সির পরিচিতি তৈরি হয় মূলত জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা’র মঞ্চ থেকেই। ২০১৫ সালের সেই প্রতিযোগিতায় কীর্তন গানের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন এবং ফাইনালিস্ট হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। একই মরশুমে প্রতিযোগী ছিলেন সৌম্য চক্রবর্তী, যিনি পরে ‘চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব জিতেছিলেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অদিতিকে নিয়ে একাধিক ব্যক্তিগত এবং পেশাগত অভিযোগ তোলেন সৌম্য। তাঁর সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই রিয়েলিটি শোয়ের প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত প্রভাব বা পরিচিতি কতটা ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে মতামত জানিয়েছেন ওই মরশুমের আরও তিন প্রতিযোগী দীপন মিত্র, দুর্নিবার সাহা এবং শোভন গাঙ্গুলি।

সাক্ষাৎকারে সৌম্য চক্রবর্তী দাবি করেন, “একাধিক প্রেমিক বদলেছে। যে ওকে ‘সারেগামাপা’য় ঢুকতে সাহায্য করেছিল, অডিশন দেওয়ানো বা অন্য সমস্ত ভাবে সাহায্য করেছিল, তাকে জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। আমাদের যে স্ক্রিপ্ট রাইটার ছিলেন তাঁকে ধরে ভেবেছিল যে জিতে যাবে।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। অদিতির গানের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, “গান গায় ভুল উচ্চারণে। আগে সেটা ঠিক করুক। নিজের গায়কী সম্পর্কে কোনও জ্ঞান নেই। সঙ্গীত কী সেই সম্পর্কে যার কোনও জ্ঞান নেই। ওর শিক্ষা নিয়ে আমার সমস্যা আছে। ও কতটা শিখেছে, সেটা জানতে চাই।” সৌম্যর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে শুরু করেছে।

এই বিতর্কের পর দীপন মিত্র স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর নিজের অভিজ্ঞতায় এমন কোনও ঘটনা ঘটতে দেখেননি। তিনি বলেন, “আমি এই ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হইনি। বিতর্ক নিয়েও কিছু জানি না। কিন্তু এই অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে তো সৌম্য চক্রবর্তী চ্যাম্পিয়ন হত না, অদিতি মুন্সি চ্যাম্পিয়ন হত। কিন্তু অদিতি চ্যাম্পিয়ন হয়নি। সেই সিজনে চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সৌম্য।” পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, ওই মরশুমে প্রত্যেকে আলাদা আলাদা বিভাগ থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, তিনি ক্লাসিক্যাল বিভাগে, তুলিকা ও গঙ্গাধর লোকগীতির বিভাগে এবং দুর্নিবার লাইট মিউজিক বিভাগে জয়ী হয়েছিলেন। অদিতি ছিলেন ফাইনালিস্ট, কিন্তু সামগ্রিক চ্যাম্পিয়ন নন।

অন্যদিকে দুর্নিবার সাহার মতে, একটি বড় রিয়েলিটি শোতে শুধু ভালো গান গাইলেই হয় না, একজন শিল্পীর সার্বিক ব্যক্তিত্বও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “একটা রিয়েলিটি শো একটা চ্যানেল যখন অর্গানাইজ করে, তখন প্রতিযোগীরা ওই রিয়েলিটি শো-এর প্রোডাক্ট। তাই একজন প্রতিযোগীর ক্রাফট এবং প্রেসেন্টেশন সবটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ভালো গান গাইলেই হবে না, কথাবার্তা, সহশিল্পীদের সঙ্গে ব্যবহার, বিচারকদের প্রতি সম্মান, সবই বিচার করা হয়।” তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি প্রত্যক্ষভাবে কাউকে অন্য কোনও রকম প্রভাব খাটিয়ে কিছু করতে দেখিনি। আমার চোখের সামনে শুধু আমার গান, আমার পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের পরামর্শই ছিল বাস্তব।”

শোভন গাঙ্গুলিও এই বিতর্কে নিজের মত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ব্যক্তিগতভাবে আমার এরকম কোনও অভিজ্ঞতা নেই। যে রিয়েলিটি শোয়ের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে কিছু হয় না। গান গাওয়ার দক্ষতা এবং দর্শকের ভালো লাগাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।” অদিতির গানের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, “আমার তো মনে হয় না অদিতি এতটাও খারাপ গান করেন। যে মঞ্চে গান গেয়ে ও পরিচিতি পেয়েছে, সেই মঞ্চে মানুষ ওর গান পছন্দ করেছে বলেই আজও ওকে শিল্পী হিসেবে গ্রহণ করেছে। কেউ যদি ভালো না গায়, তাহলে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তাকে শুনবেন না বা ভালোবাসবেন না।” তাঁর মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক আর প্রতিযোগিতার ফলাফলকে এক করে দেখা ঠিক নয়।

আরও পড়ুনঃ একসঙ্গে তিন নতুন চমক! সুস্মিতার পর জলসা ফিরছেন আরও দুই ঘরের মেয়ে! প্রথমজন ‘রানী ভবানী’ খ্যাত রাজনন্দিনী পাল, অন্যজন কে? বিপরীতে নায়ক হচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেতা! কবে আসছে এই নতুন ধারাবাহিকের প্রোমো?

সব মিলিয়ে সৌম্য চক্রবর্তীর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ২০১৫ সালের ‘সারেগামাপা’র সেই মরশুম। যদিও একই প্রতিযোগিতার তিন শিল্পীর বক্তব্যে স্পষ্ট, তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের প্রভাব খাটানোর ঘটনা চোখে পড়েনি। বরং তাঁরা মনে করেন, প্রতিভা, উপস্থাপনা, নিয়মিত পরিশ্রম এবং দর্শকের ভালোবাসাই একজন শিল্পীকে দীর্ঘ পথ চলার শক্তি দেয়। ফলে সৌম্যর অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক চললেও, বাস্তবে রিয়েলিটি শোয়ের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে তিন শিল্পীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।

You cannot copy content of this page