টলিউডে পড়েছিল শোরগোল! পর্দার রসায়ন নাকি জায়গা করে নিয়েছিল বাস্তবেও? মুম্বই ছেড়ে শুধু রঞ্জিত মল্লিকের টানে কলকাতায় আসতেন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়? সংসারেও পড়েছিল ভাঙ’নের ছায়া? আশির দশকের সেই চর্চিত প্রেম কাহিনীর আড়ালে কী ছিল সত্যি, অবশেষে এলো সামনে?

বিনোদন জগতের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন যেন বহু দিনের সঙ্গী। একসঙ্গে কাজ করতে করতে অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীর মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়, আবার কখনও সেই বন্ধুত্বকে ঘিরেই ছড়িয়ে পড়ে প্রেমের জল্পনা। কিছু সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিবাহের পরিণতি পায়, আবার অনেক সম্পর্ক শুধুই গুজব হিসেবেই থেকে যায়। পর্দার রসায়ন আর ব্যক্তিগত জীবনের সম্পর্ককে এক করে দেখার প্রবণতাও নতুন নয়। বিশেষ করে জনপ্রিয় জুটিদের ক্ষেত্রে দর্শকদের কৌতূহল সবসময়ই একটু বেশি থাকে। তবে সব গুঞ্জনের পিছনে যে বাস্তবতা থাকে, এমনটা নয়। অনেক সময় দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বও ভুল ব্যাখ্যার শিকার হয়।

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক এবং অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ও এমনই এক জুটির নাম, যাঁদের নিয়ে আশির দশকে টলিউডে নানা আলোচনা শোনা যেত। ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ থেকে শুরু করে ‘বিধিলিপি’, ‘বন্দিনী’, ‘শতরূপা’ একের পর এক সফল ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তাঁরা। পর্দায় তাঁদের স্বাভাবিক অভিনয় এবং দুর্দান্ত রসায়ন দর্শকদের মন জয় করেছিল। সেই জনপ্রিয়তার জেরেই ধীরে ধীরে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও নানা জল্পনা শুরু হয়। যদিও সেই সময় দু’জনেই বিবাহিত ছিলেন এবং নিজেদের পারিবারিক জীবন নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন।

‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবির সাফল্যের পর থেকেই রঞ্জিত মল্লিক ও মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের জুটির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কানাঘুষো শুরু হয়, দু’জনের বন্ধুত্ব নাকি শুধুই সহকর্মীর সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এমনও গুঞ্জন ছড়ায় যে, মুম্বই থেকে কলকাতায় কাজ করতে আসার পিছনে নাকি রঞ্জিত মল্লিকের প্রতি বিশেষ টানই ছিল মৌসুমীর। এমনকি ভবানীপুরের মল্লিকবাড়ির দুর্গাপুজোতেও তাঁকে একাধিকবার দেখা গিয়েছিল বলে সে সময় নানা পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়। সেই থেকেই আরও জোরালো হয় প্রেমের জল্পনা। এমনও রটেছিল যে, এই সম্পর্কের জেরে নাকি রঞ্জিত মল্লিকের সংসারেও অশান্তি তৈরি হয়েছে। যদিও এই সমস্ত দাবির কোনও প্রমাণ কখনও সামনে আসেনি।

পরবর্তীকালে এই গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছিলেন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় নিজেই। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তাঁর এবং রঞ্জিত মল্লিকের সম্পর্ক ছিল নিখাদ বন্ধুত্বের। রঞ্জিত মল্লিকের মা, দিদি এবং স্ত্রী দীপা মল্লিকের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক ছিল বলেও তিনি জানান। তাঁর কথায়, মুম্বইয়ে যেমন তাঁকে নিয়ে নানা গুজব রটেছিল, তেমনই কলকাতাতেও রঞ্জিত মল্লিককে ঘিরে অযথা প্রেমের গল্প তৈরি করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তাঁর স্বামী জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল এবং অন্য কোনও সম্পর্কে জড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। কলকাতায় তাঁর আসার কারণ ছিল নিজের বাপের বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি এবং কাজের টান, কোনও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়।

আরও পড়ুনঃ একটুর জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন মহানায়িকা! দুধ ছিল নকল, শুটিং সেটে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে ঘটে যাচ্ছিল বড়সড় অঘ’টন! কেলে’ঙ্কারি জানাজানি হতেই আত্মগোপন করেন প্রযোজক! পরে জানা যায় অবাক করা সত্যি, কেন এমন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি? কোন ছবির শুটিংয়ের এই ঘটনা জানেন?

অন্যদিকে রঞ্জিত মল্লিকও বহুবার মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে শ্রদ্ধার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, মৌসুমী ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান অভিনেত্রী, যিনি একই দক্ষতায় কমেডি এবং আবেগঘন চরিত্রে অভিনয় করতে পারতেন। তিনি জানান, দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের পরিচয়ে তাঁদের মধ্যে ছিল আন্তরিক বন্ধুত্ব এবং পারিবারিক সম্পর্ক। এমনকি তাঁর স্ত্রী দীপা মল্লিকেরও খুব ভালো বন্ধু ছিলেন মৌসুমী। নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে রঞ্জিত মল্লিক বরাবরই বলেছেন, তিনি সবসময় পরিবারকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং স্ত্রী দীপা মল্লিকের সঙ্গে সুখী দাম্পত্য জীবনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই আশির দশকে তাঁদের নিয়ে যতই প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে থাকুক না কেন, দুই শিল্পীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে একটাই কথা সেটি ছিল শুধুই বন্ধুত্ব, যার সঙ্গে প্রেমের কোনও সম্পর্ক ছিল না।

You cannot copy content of this page