কপালে লাল টিপ, হাতে লাল গোলাপ! ইনস্টাগ্রামে নতুন পোস্ট দিয়েই মন্তব্যের রাস্তা বন্ধ করলেন সায়নী ঘোষ! জল্পনা আরও ঘনীভূত, তৃণমূল ছাড়তেই কী জীবনের নতুন অধ্যায়ে শুরু করছেন?

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হওয়ার পর অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের জনসমক্ষে উপস্থিতি এবং সাজপোশাকে বেশ কিছু পরিবর্তন নজরে এসেছিল। অনেক সময় তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাদা শাড়ি ও সাধারণ চটি পরে দেখা গিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের একাংশের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন তিনি এই অবস্থান নিয়েছেন, তা জানার জন্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এ বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি অভিনেত্রী। ফলে তাঁর নীরবতা ঘিরে কৌতূহল আরও বেড়েছে।

এরই মধ্যে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে নতুন একটি ছবি পোস্ট করেন সায়নী। সেখানে তাঁকে লাল টিপ, হাতে একটি গোলাপ এবং শাড়ি পরা অবস্থায় দেখা যায়। আগের তুলনায় তাঁর নতুন হেয়ারস্টাইলও অনেকের নজর কেড়েছে। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “আমি পরের চ্যাপ্টারের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস রাখি, কারণ সেই চ্যাপ্টারের লেখিকা আমি।” এই একটি বাক্য ঘিরেই সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই পোস্ট হয়তো তাঁর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত বা নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করছে। যদিও সেই বিষয়ে সায়নী নিজে এখনও কিছু স্পষ্ট করেননি।

তবে এই পোস্টের আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সাধারণত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের পোস্টে অনুরাগীরা মন্তব্য করে নিজেদের মতামত জানান। কিন্তু সায়নীর এই পোস্টে সেই সুযোগই রাখা হয়নি। তিনি কমেন্ট সেকশন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে কেউ তাঁর পোস্টের নিচে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারছেন না। অন্যদিকে একই সময়ে তৃণমূলের আরেক সাংসদ ও অভিনেত্রী জুন মালিয়ার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কমেন্ট সেকশন আগের মতোই খোলা রয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষ অবাধে নিজেদের মত প্রকাশ করছেন। অভিনেত্রী তথা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কমেন্ট বন্ধ করেননি। তাঁর পোস্টে যেমন প্রশংসা এসেছে, তেমনই সমালোচনামূলক মন্তব্যও দেখা গিয়েছে। কেউ তাঁকে “দল বদলু”, আবার কেউ “চোর” বলেও মন্তব্য করেছেন।

এই আবহের মধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে আলোচনায় থাকা তাপস মণ্ডলের মন্তব্য। কুন্তল ঘোষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, “গোটা রাজ্যে এরকম হাজার কুন্তল পাওয়া যাবে, যাঁরা অভিষেকের নামে টাকা তুলেছে। সায়নীর পিছনে অনেক খরচ করত কুন্তল। কারণ ও তো যুব সম্পাদক, আর সায়নী যুব সভানেত্রী। ওকে তো ফ্ল্যাট, গাড়ি দিয়েছে।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সায়নী ঘোষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।

আরও পড়ুনঃ ‘ক্যান্ডিডেট মঞ্চে উঠতেই মোবাইলে নির্দেশ চলে আসত…’ রিয়েলিটি শোয়ের নেপথ্য ‘চ্যানেলের ব্যবসা’ নিয়ে বি’স্ফোরক দাবি গীতিকার গৌতম সুস্মিতের! সত্যিই কি আগে থেকেই ঠিক হয়ে যায় বিজয়ীর নাম, নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে কোন ভয়ং’কর সত্যি সামনে আনলেন তিনি?

একদিকে রহস্যময় ইনস্টাগ্রাম পোস্ট, অন্যদিকে কমেন্ট সেকশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত এবং একই সময়ে প্রকাশ্যে আসা এই বিস্ফোরক দাবি, সব মিলিয়ে সায়নী ঘোষকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই জল্পনা আরও বেড়েছে। তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে বা সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে তিনি আদৌ মুখ খুলবেন কি না, তা নিয়েই এখন কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আপাতত অভিনেত্রী ও সাংসদের নীরবতাই এই আলোচনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

You cannot copy content of this page