“এবার বিশেষ রঙের অন্ত’র্বাসই একমাত্র নাগরিক মর্যাদা পাবে!” নাগরিকত্ব, বিরোধী রাজনীতি নিয়ে একাধিক বিত’র্কিত মন্তব্য করে ফের সমালোচনার মুখে বামপন্থী অভিনেতা চন্দন সেন!

বাংলা থিয়েটার ও অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ চন্দন সেন বরাবরই সমাজ, রাজনীতি এবং গণতন্ত্র নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামতের জন্য আলোচনায় থাকেন। সাম্প্রতিক সময়েও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী রাজনীতির ভূমিকা এবং নাগরিকদের অধিকার নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, কোনও সরকারকে সুস্থভাবে পরিচালনা করতে যেমন শক্তিশালী বিরোধী দল দরকার, তেমনই বিরোধীদেরও মানুষের স্বার্থে কাজ করা উচিত। তাঁর মতে, এখন অনেক ক্ষেত্রেই সেই ভূমিকা ঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে না, আর সেটাই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।

সাক্ষাৎকারে চন্দন সেন বলেন, আজকের দিনে অনেকেই মানুষের স্বার্থে নয়, বরং নিজের রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী অবস্থান বদলান। তাঁর কথায়, “আজকাল কেউ দেশের মানুষের সুবিধার্থে বিরোধিতা করে না, শুধুমাত্র নিজের স্বার্থে বিরোধিতা করে। যখন যেমন, তখন তেমনভাবে পালটে যেতে পারে। মানুষ তাঁদের ভোট দিয়ে এই বিরোধিতার জায়গাটা করে দিয়েছে, এটাই সবথেকে দুর্ভাগ্যের বিষয়।” তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের চেয়ে বিরোধী শিবিরের দুর্বল অবস্থানই তাঁকে বেশি হতাশ করেছে। তাঁর মতে, এতটা বিভক্ত বিরোধী শক্তি কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষেই ইতিবাচক নয়।

আলোচনার সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ, পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্টের প্রসঙ্গও ওঠে। সেই প্রশ্নের জবাবে চন্দন সেন ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “আমার মনে হয় বিশেষ রঙের অন্তর্বাসই একমাত্র নাগরিক মর্যাদা পাবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান সময়ে বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাওয়া ‘ডিম ছোড়া সংস্কৃতি’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু তার প্রকাশ কখনও অসভ্যতার পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত নয়।

এছাড়াও অপরাধীদের কোমরে দড়ি বেঁধে বা অন্তর্বাস পরিয়ে জনসমক্ষে ঘোরানোর ঘটনাগুলিরও কড়া সমালোচনা করেন অভিনেতা। তিনি বলেন, “একজন মানুষ তিনি নিকৃষ্টতম অপরাধ করতে পারেন। কিন্তু তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো, আন্ডারওয়্যার পরিয়ে, এটা মধ্যযুগীয় বর্বরতা।” তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনার মাধ্যমে গণপিটুনির মানসিকতা আরও উৎসাহ পায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যখন থেকে এটা শুরু হয়েছে তখন থেকে বলেছি, আবার বলছি গণপিটুনি যে কী ভয়াবহ ভবিষ্যৎ ডেকে আনতে পারে, আর এই প্রত্যেকটি ডিম পাথরে পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না।” পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ বিরতির পর ছোটপর্দায় ফিরছেন অপরাজিতা আঢ্য? নতুন মেগা ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা, মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রীকে? কোন চ্যানেলে আসছে এই ধারাবাহিক, বিপরীতে নয়ক হচ্ছেন কে?

চন্দন সেনের এই মন্তব্যগুলি সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একাংশ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সামাজিক আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অন্যদিকে অনেকেই তাঁকে ‘মাকু’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেছেন। উল্লেখ্য, চন্দন সেন দীর্ঘদিন ধরেই বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী নাট্যব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) এবং বামফ্রন্টের সমর্থক হিসেবে পরিচিত, পাশাপাশি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারেও তাঁকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল।

You cannot copy content of this page