‘ক্যান্ডিডেট মঞ্চে উঠতেই মোবাইলে নির্দেশ চলে আসত…’ রিয়েলিটি শোয়ের নেপথ্য ‘চ্যানেলের ব্যবসা’ নিয়ে বি’স্ফোরক দাবি গীতিকার গৌতম সুস্মিতের! সত্যিই কি আগে থেকেই ঠিক হয়ে যায় বিজয়ীর নাম, নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে কোন ভয়ং’কর সত্যি সামনে আনলেন তিনি?

বিনোদন জগতের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার সামনে হাসিমুখ আর দর্শকদের করতালির আড়ালে এমন অনেক ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ মানুষের চোখে কখনও ধরা পড়ে না। রিয়েলিটি শো, টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান কিংবা বড় বাজেটের সিনেমা সব ক্ষেত্রেই পর্দার আড়ালে থাকে নানা সিদ্ধান্ত, চাপ, সমীকরণ এবং বিতর্ক। দর্শকরা যে প্রতিযোগিতাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধার লড়াই বলে মনে করেন, সেই প্রতিযোগিতা নিয়েও মাঝেমধ্যে উঠে আসে নানা প্রশ্ন। এবার এমনই এক বিস্ফোরক দাবি করলেন বিশিষ্ট গীতিকার গৌতম সুস্মিত।

বাংলা গানের জগতে গৌতম সুস্মিত পরিচিত একটি নাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গীতিকার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিচারকের ভূমিকাও পালন করেছেন। একাধিক রিয়েলিটি শোয়ের বিচারক হিসেবেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন কিছু দাবি করেন, যা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে রিয়েলিটি শোয়ের নেপথ্যের এমন কিছু দিক, যা দর্শকদের কাছে অজানা।

গৌতম সুস্মিতের দাবি, রিয়েলিটি শোয়ে অনেক সময় প্রতিযোগীদের ভবিষ্যৎ আগেই ঠিক হয়ে যায়। তাঁর কথায়, কোনও প্রতিযোগী মঞ্চে উঠলেই বিচারকদের মোবাইলে নির্দেশ চলে আসত কাকে কতদূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটা চ্যানেলের ব্যবসা।” তাঁর দাবি, প্রতিভার মূল্যায়নের পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে সব সিদ্ধান্ত যে শুধুমাত্র পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নেওয়া হয়, তা নয় বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতার একটি ঘটনাও তুলে ধরেন গৌতম সুস্মিত। তিনি জানান, শিলিগুড়ির একটি অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন। সেখানে এক নেপালি প্রতিযোগী এবং এক বাঙালি প্রতিযোগীর পারফরম্যান্স বিচার করতে গিয়ে তিনি দেখেন, একজনের গান সুর, তাল বা পিচ কোনও দিক থেকেই সন্তোষজনক ছিল না। তিনি যখন তাঁকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবছিলেন, তখন অনুষ্ঠানের এক কর্মকর্তা এসে তাঁকে অনুরোধ করেন যেন ওই প্রতিযোগীকে বাদ না দেওয়া হয়। গৌতম সুস্মিতের দাবি, তাঁকে সরাসরি বলা হয়েছিল, যদি ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তাঁর পারিশ্রমিক পর্যন্ত আটকে যেতে পারে। এমনকি বাড়ি ফেরার খরচও দেওয়া হবে না বলেও নাকি তাঁকে জানানো হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর ছিল বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ “আরবানায় থাকতে অবশ্যই যোগ্যতা লাগে, প্রচুর টাকার যোগ্যতা!” “মাথায় তারকাটা থাকলে বা সুতো ছেঁড়া থাকলে…” রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘যোগ্যতা’ মন্তব্য বিতর্কে এবার মুখ খুললেন সুদীপ মুখোপাধ্যায়, কড়া প্রতিক্রিয়ায় সরব অভিনেতা!

গৌতম সুস্মিতের এই দাবিগুলি কতটা সত্য, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কোনও রিয়েলিটি শো বা টেলিভিশন চ্যানেলের পক্ষ থেকেও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রিয়েলিটি শোয়ের স্বচ্ছতা, বিচার প্রক্রিয়া এবং প্রতিযোগীদের প্রতি ন্যায্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দর্শকদের একাংশেরও প্রশ্ন, টেলিভিশনের পর্দায় যে প্রতিযোগিতা তাঁরা দেখেন, তা কি সত্যিই শুধুমাত্র প্রতিভার লড়াই, নাকি তার নেপথ্যে কাজ করে অন্য কোনও অদৃশ্য সমীকরণ?

You cannot copy content of this page