সরকার বদলের পর পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, তোলাবাজি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগে তদন্তের গতি বাড়িয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। এই আবহেই এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী, জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত শিল্পী অদিতি মুন্সি। দেবরাজের গ্রেপ্তারের পর তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। ফলে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি বিনোদন জগতেও এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় যুব তৃণমূলের কর্মী হিসেবে। পরে তিনি কংগ্রেসে যোগ দিয়ে বিধাননগর পুরনিগমের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে আবার তৃণমূলে ফিরে এসে ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হন। বিয়ের পর স্ত্রী অদিতি মুন্সিও সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। বর্তমানে দেবরাজের বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি, অর্থপাচার এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর সংস্থা ‘ডিসি গ্লোবাল’-এর মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ কোটির সম্পত্তির হদিস মিলেছে। বাগুইআটি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত আটটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। পাশাপাশি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) নতুন করে এফআইআর দায়ের করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে।

দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার তদন্তকারীরা অদিতি মুন্সিকে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একইসঙ্গে দেবরাজ ও অদিতির একাধিক বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেবরাজের আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি কেনাবেচা এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পর্কে অদিতি মুন্সির কোনও তথ্য বা ভূমিকা ছিল কি না, তা স্পষ্ট করা। তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি ল্যাপটপ থেকে ‘ডিসি গ্লোবাল’ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং একাধিক সম্পত্তি কেনাবেচার সূত্র মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই সংস্থার মাধ্যমেই বিভিন্ন রাজ্যে হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং বিপুল অর্থ লেনদেনের প্রমাণ মিলছে। এমনকি ঝাড়খণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্যের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সিকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। কারণ, তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন বিভিন্ন আর্থিক সিদ্ধান্ত, সম্পত্তি ক্রয় এবং সংস্থার কার্যকলাপ সম্পর্কে দু’জনের বক্তব্যে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না। এদিকে, দেবরাজকে গ্রেপ্তারের সময় পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলি এলাকার একটি হোটেল থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে বারাসত আদালতে তোলা হলে আদালত চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। আদালত তাঁকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন তাঁর মোবাইল, ল্যাপটপ, ব্যাংক লেনদেন এবং সংস্থার নথি বিশদভাবে পরীক্ষা করছেন।
আরও পড়ুনঃ “বহুদিন চুপ ছিলাম আর না, এই প্রতা’রণা দীর্ঘদিন ধরে চলছে!” “দর্শকরা জানে, এইভাবে শিল্পীদের ঠকি’য়ে, ভাত কেড়ে চ্যানেল চালাচ্ছেন?” কৃতিত্ব তো দূরের কথা, পারিশ্রমিক দিতেও অস্বীকার! গল্প জমা দেওয়ার পরই সব যোগাযোগ বন্ধ! বি’স্ফোরক অভিযোগে সরব, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়! প্রশ্নের মুখে জি বাংলার নতুন ধারাবাহিক?
অন্যদিকে, জিজ্ঞাসাবাদের পর অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ বা অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন বলেই সূত্রের খবর। তবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, দেবরাজ চক্রবর্তীর আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির উৎস এবং ‘ডিসি গ্লোবাল’-এর মাধ্যমে হওয়া অর্থের গতিপথ সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। তাই আগামী কয়েকদিনে এই মামলায় আরও নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের নজর এখন এই বহুচর্চিত তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকেই।






