দাদার কীর্তি! শালবনির ইস্পাত কারখানার কাজ কতদূর, মুখ খুললেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়? বাংলার শিল্পের স্বপ্ন, অথচ প্রথম খবর মিলল স্পেনে! দেশের মানুষকে না জানিয়ে বিদেশেই কেন সেই বড় ঘোষণা, বহুদিনের বি’তর্কে এবার কী জবাব দিলেন মহারাজ?

পশ্চিমবঙ্গে নতুন ইস্পাত কারখানা গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে বড় ঘোষণা করেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ‘বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট’-এ। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরসঙ্গী হয়ে ওই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে তিনি জানান, রাজ্যে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি আধুনিক ইস্পাত কারখানা গড়ে তোলা হবে। প্রথমে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা জানানো হলেও, পরে জমি-সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে সেই পরিকল্পনা বদলে কারখানাটি গড়বেতায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুরু থেকেই এই প্রকল্পকে রাজ্যের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তবে ঘোষণার পরই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়। তৎকালীন বিরোধী দলগুলির প্রশ্ন ছিল, বাংলার একটি শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা কেন দেশের বাইরে, স্পেনের মাটিতে গিয়ে করতে হল? বিজেপি এবং সিপিএম-সহ একাধিক শিবির কটাক্ষ করে দাবি করেছিল, রাজ্যের মানুষের জন্য হওয়া প্রকল্পের ঘোষণা বিদেশে করার কোনও যৌক্তিকতা নেই। সেই সময় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও সমালোচনার মুখে পড়েন। যদিও তিনি তখনই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, এটি ছিল একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের সামনে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সম্ভাবনা তুলে ধরাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তাই সেই মঞ্চে প্রকল্পের ঘোষণা করা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং প্রাসঙ্গিক বলেই তিনি মনে করেন।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সেই পুরনো বিতর্ক নিয়েই আবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন স্পেনে গিয়েই ওই প্রকল্পের ঘোষণা করতে হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্তের পিছনে কী কারণ ছিল। উত্তরে সৌরভ বলেন, বিষয়টিকে অযথা রাজনৈতিক রং দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, তিনি তখন রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে ওই বিজনেস সামিটে অংশ নিয়েছিলেন। এর আগে যেমন তিনি ত্রিপুরার পর্যটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবেও কাজ করেছেন, তেমনই বিভিন্ন রাজ্য ও প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে নানা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। তাই একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্মেলনে শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা করাকে অস্বাভাবিক বলে দেখার কোনও কারণ তিনি খুঁজে পান না।

সৌরভ আরও বলেন, কাজ এবং রাজনীতিকে অনেকেই ইচ্ছে করেই একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলেন, অথচ তা করা উচিত নয়। তাঁর দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় বড় ক্রীড়া ও ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রধান, শিল্পপতি কিংবা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি একটি স্বাভাবিক প্রোটোকল। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে কাতারের শীর্ষ নেতৃত্ব মাঠে উপস্থিত ছিলেন, আমেরিকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিরা যোগ দেন, রাশিয়ার ফুটবল বিশ্বকাপেও ভ্লাদিমির পুতিন পুরস্কার বিতরণ করেছিলেন। একইভাবে ভারতে বড় ব্যবসায়িক সম্মেলন বা স্টেডিয়াম উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ শিল্পপতি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিয়মিত ঘটনা। তাই স্পেনের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি বা প্রকল্প ঘোষণা নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করার কোনও অর্থ নেই বলেই তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুনঃ ছোটবেলা থেকেই গান, আবৃত্তি, পড়াশোনায় ছিল অসাধারণ দক্ষতা! অভিনেত্রী অনিন্দিতা দাসকে নিয়ে মায়ের আবেগঘন স্মৃতিচারণ ভাইরাল হতেই চর্চা, “এত গুণী, শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনস্ক স্ত্রীকে ত্যাগ করলেন কীভাবে?” “রুচির অভাব, নাহলে এমন প্রতিভাবান জীবনসঙ্গী থাকতে আবার প্রেম করতে ইচ্ছা হয়?” প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে কাঞ্চনের বিচ্ছেদ ঘিরে ফের প্রশ্নে সরগরম নেটপাড়া!

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আক্ষেপের সুরে বলেন, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে সব বিষয় গুলিয়ে ‘সেনসেশন’ তৈরি করার চেষ্টা করেন। তাঁর মতে, বড় ব্যবসায়িক সম্মেলনে বহু শিল্পপতি তাঁদের নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেন। সেখানে তিনি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিকল্পনার কথা বলেছেন মাত্র। এটিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখার কোনও কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, কলকাতার সফল মানুষদের অনেক সময় অযথা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, যা দুঃখজনক। তাই তিনি চান, তাঁর কাজকে কাজের নিরিখেই বিচার করা হোক, রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে সেটিকে না জড়ানো হোক।

You cannot copy content of this page