প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে বহু বছর ধরেই শ্রোতাদের হৃদয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন পলক মুচ্ছল। তবে শুধু গানের জগতেই নয়, মানবিক কাজের জন্যও তিনি বহুবার প্রশংসিত হয়েছেন। সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে নিজের সম্মানসূচক ডক্টরেট পাওয়ার মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নেওয়ার পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি। অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, এই সম্মান কী কারণে দেওয়া হয় এবং কেনই বা পলক মুচ্ছলকে এই বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হতেই সামনে এসেছে এই সম্মানের নেপথ্যের আসল কারণ। জানা গিয়েছে, তাঁর দীর্ঘদিনের সমাজসেবা এবং মানুষের জন্য নিরলস কাজের স্বীকৃতিতেই এই সম্মান প্রদান করা হয়েছিল।
পলক মুচ্ছল দীর্ঘদিন ধরে জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত অসংখ্য অসহায় শিশুর চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে আসছেন। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও একাধিক চ্যারিটি কনসার্ট আয়োজন করে তিনি এই তহবিল গড়ে তুলেছেন। সেই অর্থ দিয়ে বহু দরিদ্র শিশুর হার্টের অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়েছে বলে বিভিন্ন হাসপাতাল ও সংস্থার পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে। গানের ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি মানবকল্যাণের এই কাজকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। হাজার হাজার শিশুর নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার পিছনে তাঁর এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা পালন করেছে বলেই মনে করা হয়। সেই কারণেই সমাজসেবার ক্ষেত্রেও তিনি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন।
নিজেও একাধিকবার জানিয়েছেন, জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কোনও পুরস্কার বা জনপ্রিয়তা নয়। বরং অসুস্থ শিশুদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য। সেই মানবিক কাজের মূল্যায়ন হিসেবেই তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করা হয়। এই সম্মান কোনও নিয়মিত পড়াশোনা, গবেষণা বা পরীক্ষার মাধ্যমে অর্জিত ডিগ্রি নয়। সমাজসেবা, মানবকল্যাণ, সংস্কৃতি বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই ধরনের বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়ে থাকে। পলক মুচ্ছলের ক্ষেত্রেও তাঁর দীর্ঘদিনের মানবিক কাজকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ২০২১ সালের জুলাই মাসে একটি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় পলক মুচ্ছলকে এই সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করে। বিশ্বশান্তি এবং মানবকল্যাণে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজের জন্য তাঁর নিরলস কাজ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই তাঁকে এই সম্মানের যোগ্য করে তুলেছে। তাই এটি কোনও একাডেমিক পিএইচডি নয়, বরং তাঁর সামাজিক অবদানকে সম্মান জানানোর একটি বিশেষ স্বীকৃতি। এই সম্মান পাওয়ার খবর সেই সময়েও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ দাদার কীর্তি! শালবনির ইস্পাত কারখানার কাজ কতদূর, মুখ খুললেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়? বাংলার শিল্পের স্বপ্ন, অথচ প্রথম খবর মিলল স্পেনে! দেশের মানুষকে না জানিয়ে বিদেশেই কেন সেই বড় ঘোষণা, বহুদিনের বি’তর্কে এবার কী জবাব দিলেন মহারাজ?
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে সেই সম্মানসূচক ডক্টরেট পাওয়ার ছবি আবারও ভাগ করে নেওয়ার পর নতুন করে অভিনন্দনে ভরিয়ে দিয়েছেন অনুরাগীরা। অনেকেই তাঁর এই সাফল্যকে শুধুমাত্র একজন শিল্পীর অর্জন হিসেবে নয়, একজন সমাজসেবীর প্রাপ্য সম্মান বলেই উল্লেখ করেছেন। গানের পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে দৃষ্টান্ত পলক মুচ্ছল তৈরি করেছেন, সেটিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। তাই এই সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, মানবিক উদ্যোগেরও এক বড় স্বীকৃতি হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রাপ্তির খবর আজও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
View this post on Instagram






