বিনোদন জগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, সংগ্রাম কিংবা সাফল্যের নেপথ্যের গল্প বরাবরই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। কোনও পুরনো সাক্ষাৎকার বা ভিডিও নতুন করে সামনে এলেই তা নিয়ে আবারও শুরু হয় নতুন আলোচনা। অনেক সময় সেই ভিডিও থেকে উঠে আসে এমন কিছু অজানা তথ্য, যা একজন শিল্পীর জীবনের অন্য দিককে দর্শকদের সামনে তুলে ধরে। সম্প্রতি ঠিক তেমনই একটি পুরনো ভিডিও আবারও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে অভিনেত্রী অনিন্দিতা দাস এবং তাঁর মা নন্দিতা দাস তাঁদের জীবনের নানা স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন। সেই কথোপকথনেই উঠে এসেছে অনিন্দিতার অভিনয়জীবনে আসার গল্প, তাঁর পরিবারের সমর্থন এবং একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার দীর্ঘ পথচলার কথা।
বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ অনিন্দিতা দাস। বহু বছর ধরে ধারাবাহিক, থিয়েটার এবং বাংলা সিনেমায় সমান দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করে তিনি নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। ‘গৌরী এল’-এ গৌরীর শাশুড়ির চরিত্র থেকে শুরু করে ‘দত্ত অ্যান্ড বৌমা’, ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’, ‘কন্যাদান’-সহ একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। পর্দায় মায়ের চরিত্রে তাঁর অভিনয় যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনই বাস্তব জীবনেও তিনি একজন পরিশ্রমী ও সংস্কৃতিমনস্ক শিল্পী হিসেবে পরিচিত। তবে তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে যে পরিবারের বড় ভূমিকা রয়েছে, তা সেই ভিডিওতেই স্পষ্ট হয়েছে।
ভিডিওতে অনিন্দিতার মা নন্দিতা দাস জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে অত্যন্ত মেধাবী এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। শুধু পড়াশোনাই নয়, গান, আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতা ছিল তাঁর। পড়াশোনায়ও তিনি অত্যন্ত ভালো ছিলেন এবং পরে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। অনিন্দিতা নিজেও জানান, পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি একটি চাকরির সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু খুব স্পষ্টভাবেই বাড়িতে জানিয়ে দেন, তিনি চাকরি করে জীবন কাটাতে চান না, অভিনয়কেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান। সেই সিদ্ধান্তে পরিবারও তাঁর পাশে দাঁড়ায়। যদিও তাঁদের পরিবারের কেউ সরাসরি অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তবে তাঁর বাবা একটি নাট্যদলের উপদেষ্টা ছিলেন। সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং নাটকের পরিবেশেই তাঁর বড় হয়ে ওঠা। সেই আবহই তাঁকে অভিনয়ের প্রতি আকৃষ্ট করেছিল বলে জানান অভিনেত্রী। তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রভারতীতে গান নিয়ে পড়াশোনা করার সময় পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায় প্রথম তাঁকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। প্রথমে বিষয়টিকে শুধুই একটি নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখলেও ধীরে ধীরে অভিনয়ই তাঁর পেশা হয়ে ওঠে।
অনিন্দিতার ব্যক্তিগত জীবনও একসময় ব্যাপক আলোচনায় ছিল। অভিনেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল বহু বছর আগে। তবে সেই সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি এবং পরবর্তীতে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর কাঞ্চন দ্বিতীয়বার অভিনেত্রী পিংকিকে বিয়ে করেন। সেই সম্পর্কেরও ইতি ঘটে। বর্তমানে তিনি অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের সঙ্গে বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে অনিন্দিতা নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি। বরং বিচ্ছেদের পর তিনি নিজের কাজ, অভিনয় এবং থিয়েটার নিয়েই ব্যস্ত থেকেছেন। ব্যক্তিগত বিতর্ক থেকে নিজেকে বরাবর দূরেই রেখেছেন তিনি।
এই পুরনো ভিডিওটি নতুন করে ভাইরাল হওয়ার পর অনিন্দিতার জীবনসংগ্রাম, তাঁর প্রতিভা এবং পরিবারের সমর্থনের গল্প অনেকেরই প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে তাঁর মায়ের মুখে মেয়ের শৈশব, পড়াশোনা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং অভিনয়ে আসার গল্প শুনে বহু দর্শক আবেগপ্রবণ হয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, একজন শিল্পীর সাফল্যের নেপথ্যে পরিবারের উৎসাহ এবং বিশ্বাস কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তারই বাস্তব উদাহরণ অনিন্দিতা দাস।
আরও পড়ুনঃ হরিনামের আড়ালে তবে এই চলছিল এতদিন? আর্থিক লেনদেন, ‘ডিসি গ্লোবাল’ থেকে কোটি টাকার সম্পত্তির সূত্র, ৬ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে নিজেই সবটা বলে দিলেন অদিতি মুন্সি? এরপর দেবরাজ-অদিতির বাড়ি থেকে যা উদ্ধার হল, তাতেই চোখ কপালে তদন্তকারীদের?
তবে এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশে আবারও উঠে এসেছে কাঞ্চন মল্লিকের প্রসঙ্গ। অনেক নেটিজেন মন্তব্য করছেন, এত প্রতিভাবান, শিক্ষিত এবং সংস্কৃতিমনস্ক একজন মানুষকে হারিয়েও আজ নতুন করে তাঁর গুণের কথা সামনে আসছে। কেউ কেউ কাঞ্চনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। যদিও এই সমস্ত মন্তব্যই সম্পূর্ণ নেটিজেনদের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া। অনিন্দিতা দাস বা কাঞ্চন মল্লিক কেউই এই ভাইরাল ভিডিও বা সেইসব মন্তব্য নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আলোচনা চললেও, সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষই এ নিয়ে নীরবতা বজায় রেখেছেন।
ভিডিও সৌজন্যেঃ ডিডি বাংলা






