“গল্প চু’রির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, আমি সবটা অস্বীকার করছি! সত্যিটা সামনে আসা দরকার, একতরফা শুনেই সিদ্ধান্তে পৌঁছবেন না!” গল্পের খসড়া নিয়ে পারিশ্রমিক দিতে অস্বীকার, লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের বি’স্ফোরক পোস্টের পর মুখ খুললেন প্রযোজক সুব্রত রায়! জি বাংলার ‘সতীপীঠ কালীঘাট’কে ঘিরে বিতর্কে নতুন মোড়?

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে আসন্ন ধারাবাহিক ‘সতীপীঠ কালীঘাট’কে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর দাবি ছিল, প্রযোজনা সংস্থার আমন্ত্রণে তিনি ধারাবাহিকটির জন্য দীর্ঘ কাহিনি, চরিত্র, ঘটনাপ্রবাহ এবং সম্পূর্ণ সৃজনশীল কাঠামো তৈরি করে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাজ জমা দেওয়ার পর থেকেই যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি পারিশ্রমিক, কৃতিত্ব এবং লেখকের সৃজনশীল অধিকারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। এমনকি চেক বাউন্সের অভিযোগ তুলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন লেখিকা। তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

লেখিকার সেই অভিযোগের একদিন পরই সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন প্রযোজক সুব্রত রায়। তিনি জানান, বিষয়টি এখন প্রকাশ্যে চলে আসায় তাঁরও নিজের অবস্থান জানানো প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে। পোস্টের শুরুতেই তিনি দাবি করেন, দেবারতি মুখোপাধ্যায়কে পাঠানো ইমেলে স্পষ্ট লেখা ছিল, তিনি শুধুমাত্র তখনই কাহিনিকার হিসেবে যুক্ত হবেন, যখন তাঁর লেখা দীর্ঘ কাহিনি অনুমোদন পাবে। তাঁর বক্তব্য, জমা দেওয়া খসড়া কাহিনি পর্যালোচনা করা হলেও সেটি অনুমোদিত হয়নি এবং সেই সিদ্ধান্ত লেখিকাকে দ্রুত জানিয়েও দেওয়া হয়েছিল।

সুব্রত রায় আরও বলেন, টেলিভিশন জগতে কাহিনির খসড়া গ্রহণ বা বাতিল হওয়া একটি স্বাভাবিক সৃজনশীল প্রক্রিয়া। তাঁর দাবি, শিল্পের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বাতিল হয়ে যাওয়া খসড়া কাহিনির জন্য প্রযোজকের পারিশ্রমিক দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দেবারতি মুখোপাধ্যায় জমা দেওয়া খসড়ার কোনও অংশই এই ধারাবাহিকে ব্যবহার করা হয়নি। তাই তাঁর গল্প ব্যবহার বা চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ধারাবাহিক সম্প্রচার শুরু হলে বিষয়টি সকলের কাছেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।” তাঁর মতে, এই অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।

তবে একই পোস্টে তিনি স্বীকার করেন, আইনি বা পেশাগত কোনও বাধ্যবাধকতা না থাকলেও শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে লেখিকার সময় ও পরিশ্রমের মূল্য দিতে তিনি সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত আর্থিক সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি বলে জানান। যদিও তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমি অবশ্যই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করব।” পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর এবং ভুল ধারণা তৈরি করছে। তাই তিনি শুধুমাত্র প্রকৃত তথ্য সকলের সামনে তুলে ধরতেই এই পোস্ট করেছেন।

প্রযোজক আরও জানান, এই পুরো বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত ইমেল এবং যোগাযোগের নথি তাঁর কাছে রয়েছে। কিন্তু পেশাগত আলোচনার নথিপত্র সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর মতে, এ ধরনের বিরোধ মেটানোর জন্য আরও উপযুক্ত এবং নির্দিষ্ট পথ রয়েছে। তাই তিনি সেই পথেই বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। একই সঙ্গে তিনি লেখিকার সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে সকলকে অনুরোধ করেন, “এক পক্ষের বক্তব্য শুনেই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাবেন না।”

আরও পড়ুনঃ এমন বড় মন আজকাল কতজনের হয়? হাজার হাজার হৃদরো’গে আ’ক্রান্ত শিশুর জীবনে ফিরিয়েছেন আলো, মুখে ফুটিয়েছেন হাসি! সেই মানবিক কাজের স্বীকৃতিতেই এবার বিশ্বের দরবারে বিশেষ সম্মান লাভ পলক মুচ্ছলের! শুভেচ্ছায় ভরাচ্ছেন সকলে!

পোস্টের শেষ অংশে সুব্রত রায় জানান, প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর বলে মনে করছেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছেন বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, লেখক এবং সৃজনশীল মানুষদের প্রতি তাঁর সবসময়ই গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত সত্যই প্রতিষ্ঠিত হবে বলেই তাঁর বিশ্বাস। উল্লেখ্য, একদিকে লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পথে এগোনোর কথা জানিয়েছেন, অন্যদিকে প্রযোজক সুব্রত রায়ও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ফলে এই বিতর্কের পরবর্তী অধ্যায় এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

You cannot copy content of this page