“যদি দেখি বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে, তদন্তে হস্তক্ষেপ বা অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে…” প্রাক্তন সরকারের আমলে দুর্নী’তির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেও, বিজেপি আমলে বারুইপুরকাণ্ডে কেন নীরবতা? সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে কী জবাব ‘ননসেন’ শমীক অধিকারীর?

বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে আসতেই গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের অভিযোগ, শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল ওই কিশোরী। পরে রবিবার একটি পুকুরপাড় থেকে তার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে একাধিকবার লাঠিচার্জ করতে হয়। ঘটনার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমেও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সেই সঙ্গে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, অতীতে বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হওয়া একাধিক তারকা ও সমাজ মাধ্যমের পরিচিত মুখ এবার কেন নীরব।

এই বিতর্কের মাঝেই সমাজমাধ্যমে বারবার উঠে আসে ‘ননসেন’ খ্যাত শমীক অধিকারীর নাম। আগের সরকারকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সমালোচনামূলক ভিডিও বানানো এবং সেই কারণে আইনি জটিলতার মুখেও পড়েছিলেন তিনি। তাই অনেকেই জানতে চান, বারুইপুরের মতো এত বড় ঘটনার পর কেন তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়তেই নিজের অফিসিয়াল পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন শমীক। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই ঘটনায় তিনিও গভীরভাবে মর্মাহত। তবে তার থেকেও বেশি কষ্ট পান, যখন প্রতিটি ঘটনার পর মানুষের প্রথম প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, “এখন কোথায়?” অথবা “এবার চুপ কেন?”

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শমীক লেখেন, “এই মুহূর্তে আমি দেখছি, মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি এটাও দেখছি, পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাহলে আমি ঠিক কোন বিষয়টা নিয়ে প্রশ্ন তুলব?” তাঁর বক্তব্য, যখন প্রশাসন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করছে, প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তখন সেই কাজের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করার কোনও যুক্তি তিনি দেখেন না। তাঁর মতে, শুধুমাত্র প্রতিবাদের জন্য প্রতিবাদ করা উচিত নয়। বরং যে কাজ প্রশাসনের দায়িত্ব, সেটি যদি ঠিকভাবে হয়, তাহলে সেই প্রক্রিয়াকে চলতে দেওয়াই প্রয়োজন।

পোস্টে তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, “আমি তখনই আওয়াজ তুলব, যখন সিস্টেম ব্যর্থ হবে। যখন প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দেখব, বিচার পেতে অযথা দেরি হবে, প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হবে কিংবা সত্যকে চাপা দেওয়া হবে, তখনই প্রশ্ন তুলব।” একই সঙ্গে তিনি সকলের কাছে আবেদন করেন, কোনও মর্মান্তিক ঘটনাকে রাজনৈতিক লাভের হাতিয়ার না বানানোর জন্য। তাঁর কথায়, প্রতিটি ঘটনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক সুবিধা আদায় নয়। তাই পরিস্থিতি না বুঝে কাউকে নীরবতার জন্য কাঠগড়ায় তোলা ঠিক নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

শমীক একই সঙ্গে ভবিষ্যতের বিষয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “যদি আগামী দিনে দেখি বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে, তদন্তে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, বা অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে, তাহলে আমাকেই আবার ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করতে দেখবেন। অতীতেও করেছি, ভবিষ্যতেও করব, ক্ষমতায় যে সরকারই থাকুক না কেন।” তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তাঁর প্রতিবাদ কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নয়। বরং প্রশাসনের কাজের ভিত্তিতেই তিনি নিজের অবস্থান ঠিক করেন। সেই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি অপেক্ষা করছেন তদন্তের অগ্রগতি দেখার জন্য।

আরও পড়ুনঃ ‘রচনার যোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্নই ওঠে না, যথেষ্ট বুদ্ধিমতী, আজ যারা পরামর্শ দিচ্ছেন…’ ‘কাকু বেঁচে থাকলে হয়তো এই সিদ্ধান্তই নিত না, ওর সবচেয়ে বড় ভুল…’ রচনাকে নিয়ে চলমান ‘আরবানা’ বিত’র্কে মুখ খুললেন মৌমিতা চক্রবর্তী! দীর্ঘদিনের বন্ধু তথা সহ-অভিনেত্রীকে নিয়ে একের পর এক বো’মা ফাটিয়ে কী বললেন তিনি?

এদিকে ঘটনার তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। রাতভর বিশেষ অভিযানে রাজ্য পুলিশের টাস্ক ফোর্স এবং বারুইপুর থানার পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়া এবং তথ্য গোপনের অভিযোগে আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়েছেন, তিনি নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শমীক অধিকারীর পোস্ট নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ ভিন্ন মতও প্রকাশ করছেন।

You cannot copy content of this page