সম্প্রতি অভিনেত্রী তথা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rachana Banerjee) একটি মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। “আরবানায় থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে সমালোচনা, ট্রোল এবং নানান ধরনের আলোচনা। শিল্পীমহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত অনেকেই এই বিষয় নিয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। কেউ রচনার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ বলেছেন তাঁর কথার প্রকৃত অর্থ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই আবহেই দীর্ঘদিনের সহ-অভিনেত্রী এবং বন্ধু মৌমিতা চক্রবর্তী (Moumita Chakraborty) একটি দীর্ঘ সামাজিক মাধ্যম পোস্টে রচনাকে নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং বর্তমান বিতর্ক নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন।
মৌমিতা জানান, রচনাকে তিনি প্রথম টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছিলেন প্রভাত রায় পরিচালিত দুরন্ত প্রেম ছবির একটি গানের দৃশ্যে। তখন রচনা ইতিমধ্যেই বাংলা ও ওড়িয়া দুই ভাষাতেই জনপ্রিয় নায়িকা। তবে তাঁদের প্রথম আলাপ হয় হারজিৎ ছবির শুটিংয়ের সময়। সেখান থেকেই দু’জনের বন্ধুত্বের শুরু। অভিনেত্রীর কথায়, সেই শুটিংয়ের দিনগুলিতে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানো, আড্ডা, হাসি আর অসংখ্য স্মৃতি আজও তাঁর কাছে অমলিন। সেই সময়ই তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন রচনার বাবা কীভাবে সবসময় মেয়ের পাশে থেকে প্রতিটি কাজে দিশা দেখাতেন। নিজের পোস্টে মৌমিতা লিখেছেন, “কাকুই ছিল রচনার অল ইন ওয়ান।”
তাঁর মতে, রচনার আজকের সাফল্যের পিছনে তাঁর বাবার অবদান ছিল অপরিসীম। শুধু প্রতিভা আর পরিশ্রম থাকলেই হয় না, একজন সঠিক পথপ্রদর্শকও প্রয়োজন বলেই তিনি মনে করেন। নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি লেখেন, তিনি সেই সৌভাগ্য পাননি এবং জীবনের অনেক শিক্ষাই পেয়েছেন ঠকে ঠকে। তাই রচনার জীবনে তাঁর বাবার উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেটা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন বলেই উল্লেখ করেছেন। বর্তমান বিতর্কের প্রসঙ্গে এসে মৌমিতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস, রচনার জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে বাবার মৃত্যুর পর। তাঁর মতে, এরপর রচনা কয়েকটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
“সবচেয়ে বড় ছিল রাজনীতিতে প্রবেশ করা। আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, রাজনীতি রচনার জায়গা নয়।” তিনি আরও বলেন, অভিনয়, সিনেমা, যাত্রা এবং দীর্ঘদিন ধরে দিদি নম্বর ওয়ান সফলভাবে সঞ্চালনা করার জন্য যে অসাধারণ যোগ্যতা দরকার, তা রচনার মধ্যে সবসময়ই ছিল। তবে একটি ভুল সিদ্ধান্তের পর অনেক সময় আরও কিছু ভুল সিদ্ধান্ত বা অসংলগ্ন মন্তব্য সামনে চলে আসে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন। আরবানা বিতর্ক নিয়ে মৌমিতা জানান, তিনি মনে করেন না রচনা বলতে চেয়েছিলেন যে শুধুমাত্র আরবানায় থাকলেই একজনের যোগ্যতা প্রমাণিত হয়। তাঁর ধারণা, সমালোচনার জবাব দিতেই রচনা সেই প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।
কিন্তু উত্তেজনার মুহূর্তে বক্তব্য সঠিকভাবে প্রকাশ’রচনার যোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্নই ওঠে না, যথেষ্ট বুদ্ধিমতী, আজ যারা পরামর্শ দিচ্ছেন…’ ‘কাকু বেঁচে থাকলে হয়তো এই সিদ্ধান্তই নিত না, ওর সবচেয়ে বড় ভুল…’ রচনাকে নিয়ে চলমান ‘আরবানা’ বিত’র্কে মুখ খুললেন মৌমিতা চক্রবর্তী! দীর্ঘদিনের বন্ধু তথা সহ-অভিনেত্রীকে নিয়ে একের পর এক বো’মা ফাটিয়ে কী বললেন তিনি?
না হওয়ায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন, রচনার আরবানার ফ্ল্যাট রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার অনেক আগেই তাঁর বহু বছরের পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং সাফল্যের ফল। তাই সেই অর্জনকে অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের বাসস্থান দেখে যোগ্যতা বিচার করার মানুষ রচনা নন। পোস্টের শেষ অংশে মৌমিতা সকলের উদ্দেশে ইতিবাচক থাকার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “একটি লাইন শুনে ট্রোল বা মিম বানানোর আগে পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করি।”
আরও পড়ুনঃ অভিনয় জগতকে বিদায় জানিয়ে আধ্যাত্মিকতার কাছেই জীবন সঁপে দিলেন ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ খ্যাত অভিনেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়! পর্দার আধ্যাত্মিক চরিত্রের প্রভাব? জনপ্রিয়তার আলো থেকে দূরে, এখন পুজো-অর্চনাতেই ডুবে কাটাচ্ছেন দিন! জানেন, কোন জনপ্রিয় মন্দিরের ঠাকুরমশাই তিনি?
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভুল সবারই হয় এবং সব প্রশ্নের উত্তর সবসময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর বিশ্বাস, রচনা যথেষ্ট বুদ্ধিমতী এবং এই কঠিন সময়ও কাটিয়ে উঠবেন। শেষে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি লেখেন, “কাকু যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তো রচনা রাজনীতিতে আসত না।” পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে যারা রচনাকে পরামর্শ দিচ্ছেন, তাঁরা সঠিক দিশা দেখাচ্ছেন না। সবশেষে তিনি প্রার্থনা করেন, খুব দ্রুত এই খারাপ সময়ের অবসান ঘটুক।






