টলিউডের জ্যেষ্ঠ পুত্রের দরজায় স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে বৈঠকে হাজির অমিত শাহ, সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! কী নিয়ে চলল বিশেষ আলোচনা? সুপারস্টারের পদ্ম শিবিরে যোগদানের জল্পনা আরও জোরালো?

সম্প্রতি দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী পেয়েছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই সম্মান পাওয়ার পর থেকেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে এগিয়ে আসছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এরই মধ্যে সোমবার কলকাতা সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিনেতার বালিগঞ্জের বাড়িতে যান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় নেতা নিশীথ প্রামাণিক এবং বিজেপি নেত্রী তথা অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই প্রায় ১৫ মিনিট ধরে প্রসেনজিতের বাসভবনে এই সাক্ষাৎপর্ব চলে। এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

জানা গিয়েছে, এই সাক্ষাতের সূত্রপাত আসলে কয়েকদিন আগেই দিল্লিতে। পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করতে রাজধানীতে গিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময়ই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। সেই আলাপচারিতায় অভিনেতা কলকাতায় এলে একবার নিজের বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানান। অমিত শাহও সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন। সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় এসে তিনি সেই প্রতিশ্রুতিই পালন করেন। নির্ধারিত কর্মসূচির ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে অভিনেতার বাড়িতে পৌঁছে যান তিনি।

প্রসেনজিতের বালিগঞ্জের আবাসন ‘উৎসব’-এ হওয়া এই সাক্ষাৎ ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হলেও পরে বিষয়টি স্পষ্ট করেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানান, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক। তাঁর কথায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অত্যন্ত সম্মানিত এবং প্রিয় শিল্পী। দেশের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার পাওয়ার পর তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতেই এই সাক্ষাৎ। তাই এই আড্ডাকে অন্যভাবে দেখার কোনও কারণ নেই বলেই তিনি মনে করেন।

লকেট আরও জানান, বৈঠকে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। টলিউডের বিভিন্ন সমস্যা বা শিল্পী সংগঠন নিয়েও কোনও কথা ওঠেনি। বরং পুরো সময় জুড়েই সিনেমা, শিল্পকলা এবং বই নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিক আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়ে ইতিবাচক কথাবার্তাই ছিল এই বৈঠকের মূল বিষয়। মাত্র ১৫ মিনিটের সাক্ষাৎ হলেও পরিবেশ ছিল একেবারেই ঘরোয়া এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ। উপস্থিত সকলেই সৌজন্যের পরিবেশ বজায় রেখেই কথোপকথনে অংশ নেন।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে বিশেষ জায়গা তৈরি করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি উপহার দেওয়ার পাশাপাশি বাংলা সিনেমাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে তাঁর অবদান বারবার স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হওয়ার পর তাঁর এই সাফল্যকে ঘিরে জাতীয় স্তরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে অনেকেই তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের প্রতি সম্মান এবং শুভেচ্ছা জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘২০১৯ সালে যে স্বপ্ন থেমে গিয়েছিল…’ জন্ম দিতে গিয়ে মৃ’ত্যু হয় প্রথম সন্তানের, এরপর দীর্ঘ ৭ বছরের অপেক্ষা! একাধিক দাম্পত্য বিত’র্ক পেরিয়ে অবশেষে মা হলেন সুস্মিতা রায়! অভিনেত্রীর কোলে এলো ছেলে না মেয়ে?

সব মিলিয়ে, অমিত শাহের এই সফরকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হলেও লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পর বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। তাঁর দাবি, এটি ছিল শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ, যেখানে রাজনীতির কোনও আলোচনা হয়নি। বরং বাংলা সিনেমা, শিল্পচর্চা এবং বই নিয়েই আলাপচারিতা হয়েছে। দিল্লিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে অমিত শাহের এই সফর এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ এখন রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page