“মতের অমিল ছিল, তবু একটা সীমারেখা ছিল…বাম আমলে অনেক নি’গৃহীত হয়েছি, কিন্তু গায়ে কেউ হাত দেয়নি!” “রূপা-রুদ্রনীল-পাপিয়ার ওপর ছিল ভরসা ছিল যে…” উচ্চশিক্ষিত, সংস্কৃতিবান মানুষের অভাব? হঠাৎ অতীতের অভিজ্ঞতা টেনে কী বি’স্ফোরক দাবি চন্দন সেনের? বিজেপি নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তুললেন একাধিক প্রশ্ন?

সরকারের পালাবদলের পর থেকে রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নানা বিতর্ক এবং মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু শিল্পী, অভিনেতা, নাট্যকর্মী এবং সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ নিজেদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, আক্ষেপ ও প্রত্যাশার কথা প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছেন। কেউ অতীতের সরকারের কাজের মূল্যায়ন করছেন, আবার কেউ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। শুধু রাজনৈতিক নেতারাই নন, বিনোদন জগতের পরিচিত মুখেরাও এখন সমাজ, সংস্কৃতি এবং প্রশাসনের নানা বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত জানাতে পিছপা হচ্ছেন না। ফলে শিল্প-সংস্কৃতি এবং রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমনই এক আলোচনায় নিজের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা চন্দন সেন।

বাংলা থিয়েটার এবং চলচ্চিত্র জগতের অত্যন্ত পরিচিত নাম চন্দন সেন। মঞ্চ, ছোটপর্দা ও বড়পর্দা সব ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয়ের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বামপন্থী ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত এবং সমাজ-রাজনীতি, সংস্কৃতি কিংবা সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা নিয়ে স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করে থাকেন। কোনও বিতর্কিত বিষয়েও নিজের অবস্থান জানাতে তিনি কখনও পিছিয়ে যান না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলার সংস্কৃতি জগতের বর্তমান অবস্থা, থিয়েটারের ভবিষ্যৎ এবং সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্ব নিয়ে নিজের স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেছেন অভিনেতা।

সাক্ষাৎকারে চন্দন সেন অতীতের একটি অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে সরকারের সমালোচনা করার কারণে তাঁকে নানা ভাবে নিগৃহীত হতে হয়েছিল। কটূক্তি, বিরূপ মন্তব্য এবং বিভিন্নভাবে হেনস্থার শিকার হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সেই সময় যতই মতবিরোধ বা রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকুক না কেন, কেউ কখনও তাঁর গায়ে হাত তোলেনি। এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়েই তিনি বর্তমান সময়ের সঙ্গে অতীতের তুলনা টানেন এবং বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও শিল্পচর্চার পরিবেশ যে কোনও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পীদের মত প্রকাশের অধিকারকে সম্মান জানানো প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান সরকার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চন্দন সেন বলেন, এই সরকারের মধ্যেও বহু উচ্চশিক্ষিত, সংস্কৃতিবান এবং শিল্পমনস্ক মানুষ রয়েছেন। তাঁর মতে, সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্ব এমন ব্যক্তিদের হাতে থাকা উচিত, যাঁরা থিয়েটার, যাত্রা কিংবা সংস্কৃতির মাটির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকেছেন এবং শিল্পীদের সমস্যা ও প্রয়োজন কাছ থেকে বোঝেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ এবং অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীর নাম উল্লেখ করেন। চন্দন সেনের কথায়, এই তিনজনই থিয়েটার ও যাত্রা জগতের মানুষ, পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত এবং সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তাই তাঁর ব্যক্তিগত আশা ছিল, সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়তো তাঁদের মধ্যে কোনও একজনের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এখানেই তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, যাঁদের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের কাজে লাগানো গেলে বাংলার সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হতে পারত।

আরও পড়ুনঃ ‘৫ নম্বর বিয়ের মাত্র সাড়ে ৩ মাসেই সন্তান!’ মা হওয়ার সুখবর ভাগ করতে, সুস্মিতা রায়কে নিয়ে কটা’ক্ষে সরগরম নেটপাড়া! প্রাক্তন দেওর সায়ক চক্রবর্তীর এক লাইনের জবাব ঘিরে নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত? কী এমন বললেন তিনি?

সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে চন্দন সেন স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলার থিয়েটার এবং সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি পুরোপুরি আশাবাদী হতে পারছেন না। তাঁর মতে, শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদে কাউকে বসালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, সেই ব্যক্তির শিল্প-সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর বোঝাপড়া এবং শিল্পীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ থাকা জরুরি। উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাবে থিয়েটার ও সংস্কৃতির যে ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, সংস্কৃতির দায়িত্ব যদি এমন মানুষের হাতে দেওয়া হয়, যাঁরা সত্যিই এই জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাহলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং পাপিয়া অধিকারীর নাম উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

You cannot copy content of this page