বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকার উপর নৃশংস অত্যাচার ও খুনের ঘটনায় এখনও তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে রাজ্য। আর জি কর হাসপাতালের ঘটনার পর ফের এমন একটি ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরব হয়েছেন বিনোদন জগতের বহু তারকাও। এবার সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যাসন্তানের মা। তাই এই ঘটনা তাঁকে শুধু একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন মা হিসেবেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। নিজের পোস্টে তিনি সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি, নারীদের নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের শাস্তি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে শুভশ্রী লেখেন, “শিশু থেকে বৃদ্ধা, কোনও বয়সই আজ আর নিরাপদ নয়। এই বিকৃত মানসিকতার মানুষগুলো থামছে না, আর থামবেও না, যতদিন না তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।” তাঁর মতে, কঠোর শাস্তির অভাবই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। বারবার একই ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা ভয় পাচ্ছে না বলেই তাঁর অভিযোগ। তাই শুধুমাত্র ক্ষোভ প্রকাশ নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে এমন শাস্তির ব্যবস্থা হওয়া উচিত, যা ভবিষ্যতে অন্যদের কাছেও কঠোর বার্তা পৌঁছে দেবে বলেই তিনি মনে করেন।
শুভশ্রী আরও লিখেছেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ, মোমবাতি মিছিল কিংবা রাস্তায় নেমে আন্দোলন সবই হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তাঁর কথায়, “প্রতিদিন কোথাও না কোথাও পরিচিত কিংবা অচেনা কোনও নারী এমন নৃশংসতার শিকার হচ্ছেন। একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। বারুইপুরের ঘটনাও আমাদের আবার মনে করিয়ে দিল, আমরা এখনও কতটা অসহায়।” এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এর শেষ কোথায়? আর কত নিরীহ নারীকে এই বর্বরতার শিকার হতে হবে? আর কত পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে?” একজন কন্যাসন্তানের মা হিসেবে এই প্রশ্নগুলো এখন তাঁর কাছে শুধু ক্ষোভ নয়, গভীর যন্ত্রণার কারণ বলেও জানান অভিনেত্রী।
পোস্টের শেষ অংশে একটি নিরাপদ সমাজের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেছেন শুভশ্রী। তিনি লেখেন, “এমন একটি সমাজের অপেক্ষায় আছি, যেখানে অপরাধীরা ভয় পাবে, আর নারীরা ভয়মুক্ত হবে।” সম্প্রতি কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই ছিলেন অভিনেত্রী। কয়েকদিন আগেই ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে দেবের সমর্থনে হাজির হয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি নিজের নতুন কাজ নিয়েও ব্যস্ত রয়েছেন। কিন্তু খবরের কাগজে বারুইপুরের ঘটনার বিবরণ পড়ে আর নীরব থাকতে পারেননি। তাই নিজের অনুভূতি এবং প্রতিবাদ সরাসরি সামাজিক মাধ্যমেই প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুনঃ “মতের অমিল ছিল, তবু একটা সীমারেখা ছিল…বাম আমলে অনেক নি’গৃহীত হয়েছি, কিন্তু গায়ে কেউ হাত দেয়নি!” “রূপা-রুদ্রনীল-পাপিয়ার ওপর ছিল ভরসা ছিল যে…” উচ্চশিক্ষিত, সংস্কৃতিবান মানুষের অভাব? হঠাৎ অতীতের অভিজ্ঞতা টেনে কী বি’স্ফোরক দাবি চন্দন সেনের? বিজেপি নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তুললেন একাধিক প্রশ্ন?
তবে শুভশ্রীর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, সমাজের এই পরিস্থিতিতে প্রত্যেকেরই প্রতিবাদ করা উচিত। আবার একাংশের মানুষ অভিনেত্রীকে কটাক্ষও করেছেন। কেউ লিখেছেন, “এতদিনে চোখ খুলল।” আবার কেউ তাঁকে “সুবিধাবাদী” বলেও মন্তব্য করেছেন। যদিও বিতর্কের মধ্যেও একটি বিষয়ে অধিকাংশ মানুষের মত এক, বারুইপুরের এই ঘটনায় দোষীদের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ যাতে আর না ঘটে, সেই দিকেই এখন সবার নজর।






‘৫ নম্বর বিয়ের মাত্র সাড়ে ৩ মাসেই সন্তান!’ মা হওয়ার সুখবর ভাগ করতে, সুস্মিতা রায়কে নিয়ে কটা’ক্ষে সরগরম নেটপাড়া! প্রাক্তন দেওর সায়ক চক্রবর্তীর এক লাইনের জবাব ঘিরে নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত? কী এমন বললেন তিনি?