“ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত যদি বু*ক দেখায়, পে*ট দেখায়, পে*ছন দেখায় তাতে তোর কী?” “ইন্ডাস্ট্রির অংশ হয়েই ইন্ডাস্ট্রির মেয়েদের নোং’রা ক’টাক্ষ, তুমি নিজে কী কী করে বেড়িয়েছ আমাদের চোখের সামনে দেখা!” একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীকে ছোট করার অধিকার কে দিয়েছে? বি*স্ফোরক কনীনিকার নিশানায় ইন্ডাস্ট্রির কোন ব্যক্তিত্ব?

বাংলা বিনোদন জগতে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে ট্রো’লিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং শিল্পীদের নিয়ে বিতর্ক। বিশেষ করে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের পোশাক, ব্যক্তিগত জীবন বা রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রায়শই ক’টাক্ষের ঝড় ওঠে। সম্প্রতি অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে এই প্রবণতা নিয়ে সরব হন। একই সঙ্গে তিনি অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের পাশে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানান, একজন শিল্পীর সাফল্য, পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে সম্মান করা উচিত। পাশাপাশি তিনি নিজের জীবনের কঠিন সময়, মায়ের মৃ’ত্যুর পরের মানসিক লড়াই এবং নতুন নৃত্যনাট্য ‘কল্যাণ সুন্দরিকা’ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে কনীনিকা বলেন, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাউকে ছোট করা যেন এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, একজন সফল মানুষকে অপমান করে বা ট্রো’ল করে কেউ নিজের সম্মান বাড়াতে পারে না। বিশেষ করে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে যেভাবে নানা মন্তব্য করা হচ্ছে, তা তাঁর কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক। কনীনিকার বক্তব্য, রচনা একজন সেলফ-মেড শিল্পী। সাতটি ভাষায় কাজ করেছেন, প্রায় দেড়শো সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং নিজের পরিশ্রমেই আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তিনি আরও বলেন, রচনা বহু বছর আগে থেকেই নিজের সামর্থ্যে আরবানায় বাড়ি কিনে থাকেন। কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার পর তাঁর সাফল্য আসেনি।

তাই আজ শুধুমাত্র একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান না থাকার সুযোগে তাঁকে নিয়ে যেভাবে নানা কথা বলা হচ্ছে, তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র বাংলা অভিনেত্রী যিনি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করেছেন। সেই কৃতিত্ব অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে নিয়েও কনীনিকার বক্তব্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁর কথায়, একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী কী পোশাক পরবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি বলেন, “উনি যদি ছোট জামা পরেন, বু’ক দেখান, পে’ট দেখান বা বি*কিনি পরেন, তাতে অন্যের সমস্যা কোথায়?” তাঁর মতে, প্রত্যেক মানুষের নিজের শরীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কোনও নারীকে তাঁর পোশাকের জন্য অপমান বা কটাক্ষ করা উচিত নয়।

বরং এই ধরনের সমালোচনা সমাজের মানসিকতারই পরিচয় দেয়। কনীনিকা জানান, ঋতুপর্ণা অত্যন্ত প্রতিভাবান, পরিশ্রমী এবং ভদ্র একজন শিল্পী। তিনি বহু বড় বড় অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেও কখনও অহংকার দেখাননি। এমনকি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কনীনিকা বলেন, ঋতুপর্ণা নিজে থেকে ডেকে কথা বলেছেন, যা তাঁর মনে আজও বিশেষ জায়গা করে রয়েছে। তাই এমন একজন শিল্পীকে নিয়ে কুৎসা রটানো বা অপমান করা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এমনকি ঋতুপর্ণা কে নিয়ে কটাক্ষকারীদের নাম না করেই অভিনেত্রী একহাত নিয়ে বলেন, “একই ইন্ডাস্ট্রির অংশ হয়ে ইন্ডাস্ট্রির মেয়েদের নিয়ে নোংরা কটাক্ষ… তুমি নিজে কী কী করেছো আমাদের চোখের সামনে দেখা!”

যদিও অভিনেত্রী কারোর নাম দেননি তবে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসতেই অনেকে মনে করেছেন শ্রীলেখা মিত্রর দিকে ইঙ্গিত রয়েছে তার। এদিকে নিজের জীবন নিয়েও আবেগঘন কথা বলেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, ‘রান্নাঘর’ অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রথমবার তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন যে তাঁর মা আর নেই। এতদিন কাজের ব্যস্ততায় সেই শূন্যতা অনুভব করার সুযোগ পাননি। কাজ থেমে যাওয়ার পরই তিনি বুঝতে পারেন, নিজের কষ্টের কথা বলার মানুষটিকে তিনি হারিয়েছেন। তবে সেই কঠিন সময় কাটিয়ে তিনি নিজেকে “ফিনিক্স পাখি”-র সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর বিশ্বাস, জীবনের একটি দরজা বন্ধ হলে অন্য একটি দরজা অবশ্যই খুলে যায়।

তাই নতুন উদ্যমে তিনি নৃত্যনাট্য ‘কল্যাণ সুন্দরিকা’-র প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জানান, এই প্রযোজনার কোনও বড় স্পনসর নেই। প্রযোজক সৈকত নিজেই সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে অনুষ্ঠানটি তৈরি করছেন। তাই দর্শক যেন হলে এসে এই প্রয়াসকে সফল করেন, সেই আবেদনও জানান অভিনেত্রী। কনীনিকা আরও বলেন, আজকের দিনে মানুষ খুব সহজেই নেতিবাচক মন্তব্য করে বসে, অথচ একজন শিল্পীর পরিশ্রম, সংগ্রাম বা সৃষ্টিকে মূল্যায়ন করতে চায় না। তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রির মানুষেরই উচিত একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, কারণ একই পেশার মানুষকে ছোট করলে শেষ পর্যন্ত গোটা শিল্পজগতেরই ক্ষতি হয়।

আরও পড়ুনঃ দারুণ সুখবর! একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হলেন বাবা শঙ্কর চক্রবর্তী! স্ত্রীকে হারানোর পর সংজ্ঞাকে ঘিরেই জীবন, তাঁর পছন্দের মানুষকে মেনে নিয়ে গর্বিত তিনি! জানেন, সম্পর্কে শ্রেয়া ঘোষালের কে হন বর্ষীয়ান অভিনেতার জামাই? পেশায় কী করেন তিনি?

তিনি জানান, তাঁর জীবনে এখন আর সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা নেই। যাঁরা সত্যিই পাশে থাকেন, তাঁদের নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান। নিজের নতুন প্রযোজনা ‘কল্যাণ সুন্দরিকা’ প্রসঙ্গে কনীনিকা জানান, এটি শুধু একটি নৃত্যনাট্য নয়, বরং পরিবার-সহ সকলের উপভোগ করার মতো একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদনের অনুষ্ঠান। নতুন গান, নতুন গল্প এবং সম্পূর্ণ মৌলিক উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকদের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। তাই তিনি সকলকে ১২ জুলাই সন্ধ্যায় উত্তম মঞ্চে উপস্থিত থেকে বাংলা মঞ্চের এই স্বাধীন প্রযোজনাকে সমর্থন করার আন্তরিক আহ্বান জানান।

You cannot copy content of this page