“রচনাদি একটাও ভুল বলেননি, ওনার ‘যোগ্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারও নেই!” “অমিতাভ বচ্চনের কলকাতার একমাত্র বাঙালি নায়িকা রচনাদিই!” বিগ-বি’র সঙ্গে কাজ থেকে ‘আরবানা’ বিতর্ক, সব অভিযোগের জবাবে রচনার ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়! কিন্তু তথ্য কি সত্যিই একই কথা বলছে?

সম্প্রতি অভিনেত্রী তথা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি মন্তব্যে তিনি বলেন, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করা একমাত্র বাঙালি অভিনেত্রী তিনি। অন্যদিকে আরবানায় বসবাস প্রসঙ্গে তাঁর “যোগ্যতা” সংক্রান্ত মন্তব্যও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এই দুই বিষয় নিয়ে টানা ট্রোলিং ও বিতর্কের মাঝেই এবার প্রকাশ্যে রচনার পাশে দাঁড়ালেন অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, রচনার বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ না বুঝেই তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে। তবে কনীনিকার একটি দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল নিয়ে আবারও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে পুরনো বিতর্কে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।

রচনার আরবানা সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে কনীনিকা বলেন, “প্রসঙ্গটা হারিয়ে গিয়ে রচনাদিকে আক্রমণ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে একটাই কথা বলব, উনি আমার থেকে অনেক সিনিয়র, কোনও কথা তিনি মিথ্যে বলেননি। উনি আরবানায় থাকেন ওই দলে যোগ দেওয়ার অনেক বছর আগে থেকে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, রচনার রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে আরবানায় থাকার বিষয়টিকে এক করে দেখা উচিত নয়। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের পরিশ্রমের ফলেই তিনি সেই জায়গায় পৌঁছেছেন বলেই কনীনিকার মত। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, রচনার বক্তব্যের আসল প্রেক্ষাপট অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন।

Rachna Banerjee, Prabal Basu, Rachna Banerjee Assets, Rachna Banerjee Net Worth, TMC MP, Urbana Kolkata, Bengali Actress, Election Affidavit, Tollywood, Entertainment, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবাল বসু, রচনার সম্পত্তি, রচনার আয়, আর্বানা, তৃণমূল সাংসদ, বাঙালি অভিনেত্রী, নির্বাচন হলফনামা, টলিউড, বিনোদন

এরপর অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করার প্রসঙ্গে কনীনিকা আরও বলেন, “উনি ৭টা ভাষায় সত্যিই কাজ করেছেন। উনি ১০০-১৫০ টা ছবি করেছেন। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে একমাত্র বাঙালি অভিনেত্রী যিনি কলকাতা থেকে গিয়ে কাজ করেছেন। আর বাকি যাঁদের কথা বলা হচ্ছে, তাঁরা বম্বের হিরোইন। বাঙালি। কিন্তু বম্বের হিরোইন। তাঁরা তারপর বাংলায় এসে বাংলা ভাষায় কথা বলেছেন। একটা, দু’টো সিনেমায় কাজ করেছেন।” তাঁর দাবি, রচনার অভিনয় দক্ষতা বা দীর্ঘ কেরিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও জায়গাই নেই। তিনি আরও বলেন, “তিনি কোনও কারণে নিশ্চয় এতটা উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলেন। হ্যাঁ, তাঁর নির্বুদ্ধিতা আমি বলব, যে তিনি ভেবেছিলেন এই মাধ্যম দিয়ে সেই মানুষটাকে বার্তা দেওয়া যাবে। তবে নির্বুদ্ধিতা নয়, আমি বলব ঠিকই কাজ করেছেন।”

তবে কনীনিকার এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে তথ্য যাচাই শুরু হয়েছে। কারণ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস বলছে, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করা পশ্চিমবঙ্গের আরও কয়েকজন বাঙালি অভিনেত্রী রয়েছেন, যাঁরা প্রথমে বাংলা ছবিতেই অভিনয় শুরু করেছিলেন। জয়া বচ্চন জয়া ভাদুড়ী নামে ১৯৬২ সালে ‘মহানগর’ ছবির মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন। একইভাবে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় ১৯৬৭ সালে ‘বালিকা বধূ’ ছবিতে অভিনয়ের পর হিন্দি ছবিতে পা রাখেন। অভিনেত্রী রাখি গুলজারও প্রথমে বাংলা ছবি ‘বধূ বরণ’-এ কাজ করে পরে মুম্বইয়ে নিজের কেরিয়ার গড়েন। ফলে কনীনিকার বক্তব্য নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

আরও পড়ুনঃ “বি*কিনি দেখাবেন, আবার বলবেন মেয়েদের দিকে তাকিও না? তাহলে শাড়ি বা বোরখা পরান!” “বাচ্চাদের সম্পূর্ণ অধিকার আছে তাদের শরী’রের…” সে*ক্স এডুকেশন, নারীর পোশাক ও সমাজের দ্বিচারিতা নিয়ে বি’স্ফোরক কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়! অভিনেত্রীর মতে কী করণীয়, কী কী ভাবে পাশে থাকতে পারে সরকার?

সব মিলিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিতর্ক এখনও থামার কোনও লক্ষণ নেই। একদিকে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সহকর্মীরা সমর্থন জানাচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁর এবং তাঁকে সমর্থন করা বক্তব্যগুলিও তথ্যের নিরিখে নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে এখনও জোর আলোচনা চলছে। কেউ মনে করছেন রচনার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, আবার কেউ বলছেন জনসমক্ষে এমন দাবি করার আগে তথ্য আরও সতর্কভাবে যাচাই করা উচিত। ফলে এই বিতর্ক আপাতত আরও কিছুদিন আলোচনার কেন্দ্রেই থাকবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

You cannot copy content of this page