বহুদিন পর আবার মঞ্চে ফিরছেন অভিনেত্রী ‘কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Koneenica Banerjee)। একটি নতুন মিউজিক্যাল থিয়েটারে তিনি অন্নপূর্ণার চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন। সেই প্রযোজনার মহড়ার ফাঁকেই সাম্প্রতিক সমাজ, নারী নিরাপত্তা, সে*ক্স এডুকেশন এবং পোশাক নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল শিশুদের যৌ*ন শিক্ষা, সমাজের দ্বিচারিতা এবং নারীদের পোশাক নিয়ে চলতে থাকা বিতর্ক। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, ট্রো’লিংয়ের ভয় তিনি পান না। বরং সমাজে যে বিষয়গুলি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হওয়া দরকার, সেগুলি নিয়েই কথা বলতে চান। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কনীনিকার মতে, স্কুল স্তর থেকেই সে*ক্স এডুকেশন বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “সে*ক্স এডুকেশন জরুরি। এটা যদি ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড বা আমাদের পড়াশোনার মধ্যে না শুরু হয় তাহলে ভাই টিভি চ্যানেলে, খবরের কাগজে বি*কিনি পরা মেয়েগুলোকে, বা যেসব গানে জামাকাপড় ছাড়া মেয়েদের দেখা যায়, তাহলে তাঁদেরকে শাড়ি পরাও। বা বোরখা পরাও।” এরপরই তিনি যোগ করেন, “সরি, এটা বললাম, এবার এটা ট্রো’ল হবে। ট্রো’লিংয়ের ভয় আমি পাই না। ট্রো’লিং হলে আমি ফেমাস হবো।” তাঁর বক্তব্য, সমাজে কী দেখানো হচ্ছে এবং শিশুদের কী শেখানো হচ্ছে, এই দু’টির মধ্যে ভারসাম্য থাকা অত্যন্ত জরুরি।

“বি*কিনি দেখাবে আর বলবে মেয়েদের দিকে তাকিও না, সেটা তো হতে পারে না। তাহলে সব জিনিসটা সঠিক ভাবে একটা আলোচনার জায়গায় আসা দরকার,” বলেন অভিনেত্রী। শুধু পোশাকের প্রসঙ্গ নয়, শিশুদের শারী’রিক ও মান’সিক পরিবর্তন সম্পর্কেও সচেতন করার উপর জোর দেন কনীনিকা। তাঁর কথায়, “বাচ্চাদের সম্পূর্ণ অধিকার আছে তাদের শরীরে কী বদল আসছে, হরমোন কাকে বলে, কোথায় কী হয় সেটা জানার।” পাশাপাশি আ’ত্মরক্ষার শিক্ষাকেও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। অভিনেত্রীর মতে, ছোটবেলা থেকেই ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সকলকে শেখানো উচিত বিপদের সময় কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হয়।
এই শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তব জীবনেও তা কাজে লাগতে হবে বলেই তাঁর মত। নারী নিরাপত্তার প্রসঙ্গে কনীনিকা আরও বলেন, “আ’ত্মরক্ষার জন্য কী কী করে যেতে পারে সেটাও শেখা, জানা দরকার। ৪টি ছেলের সঙ্গে একটি মেয়ে কোনওদিন লড়তে পারবে না। প্র্যাকটিক্যাল হতে হবে।” এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কী করণীয়, কী কী ভাবে সরকার তার পাশে থাকতে পারে? সেই মুহূর্তে সেই মেয়েটির মাথায় কী সরকারের কথা আসবে? তাহলে বাঁচাবে কে? ঈশ্বর?” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু আইন বা সরকারি উদ্যোগের উপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতির জন্যও শিশু ও তরুণীদের প্রস্তুত করা জরুরি।
আরও পড়ুনঃ পর্দার ‘দ্রৌপদী’ বাস্তব জীবনেও কুরুক্ষে’ত্রের সাক্ষী! বাথরুমের মতো ঘর, নিত্যদিন স্বামীর অক’থ্য অ’ত্যাচারের শিকার হয়ে তিনবার আ’ত্মহ’ত্যার চেষ্টা করেছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়! তারপর জড়ান নতুন সম্পর্কে, কপালের দোষে টেকেনি সেটাও! তবু আজও কেন সিঁথিতে সিঁদুর পরেন অভিনেত্রী? জানেন কে ছিলেন তাঁর স্বামী?
সেই কারণেই তিনি সে*ক্স এডুকেশন ও আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। সম্প্রতি অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর পোশাক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যে বি’তর্ক এবং বিদ্রুপ তৈরি হয়েছিল, সেই বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, একজন মানুষ কী পোশাক পরবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অন্য কারও সেই বিষয়ে মন্তব্য বা বিচার করার কোনও অধিকার নেই। তাঁর মতে, পোশাককে কেন্দ্র করে কাউকে ছোট করা বা আ*ক্রমণ করা কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং নারী নিরাপত্তা, সচেতনতা এবং সঠিক শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই সমাজের বেশি আলোচনা হওয়া উচিত বলে মনে করেন অভিনেত্রী।






