‘আমার বাবা না থাকলে হয়তো ‘পথের পাঁচালী’ কোনদিনও তৈরী হতো না…’ চাঞ্চল্যকর দাবি কিশোর কুমারের ছেলে অমিত কুমারের! কীভাবে সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ছবির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন কিংবদন্তি গায়ক? জানলে অবাক হবেন!

বিনোদন জগতের ঝলমলে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য অজানা গল্প। কখনও শিল্পীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কখনও আবার একে অপরের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বা সহযোগিতার কাহিনি বছরের পর বছর অজানাই থেকে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সব গল্প সামনে এলে যেন নতুন করে চিনে নেওয়া যায় কিংবদন্তিদের মানবিক দিক। এমনই এক বিস্ময়কর ঘটনার কথা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনেছেন কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমারের ছেলে অমিত কুমার। তাঁর কথায় উঠে এসেছে শুধু কিশোর কুমার ও সত্যজিৎ রায়ের গভীর বন্ধুত্বই নয়, তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক এবং বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মাইলফলক ‘পথের পাঁচালী’-কে ঘিরে এক অজানা অধ্যায়ও।

ভারতীয় তথা বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘পথের পাঁচালী’ এক অনন্য সৃষ্টি। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবির মাধ্যমেই পরিচালক সত্যজিৎ রায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন। ১৯৫৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি শুধু ভারতীয় সিনেমার ধারা বদলে দেয়নি, বরং কান চলচ্চিত্র উৎসব-সহ বিশ্বের নানা মঞ্চে সম্মান অর্জন করে বাংলা সিনেমাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তবে এই মাস্টারপিস তৈরির পথ মোটেই সহজ ছিল না। অর্থাভাব, নানা প্রতিবন্ধকতা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্য দিয়েই ছবির কাজ শেষ হয়েছিল। সেই কঠিন সময়ের সঙ্গেই এবার জড়িয়ে উঠল কিশোর কুমারের নাম।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অমিত কুমার জানান, তাঁর মা রুমা গুহঠাকুরতা ছিলেন কিশোর কুমারের প্রথম স্ত্রী এবং একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পী ও গায়িকা। তিনি পণ্ডিত উদয় শঙ্করের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং বহু বিশিষ্ট শিল্পীর সঙ্গে কাজও করেছেন। এই প্রসঙ্গেই অমিত জানান, তাঁর মায়ের ছোট মাসি ছিলেন বিজয়া রায়, যিনি সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী। অর্থাৎ, সত্যজিৎ রায় কেবল বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন না, আত্মীয়ও ছিলেন। অমিত বলেন, তাঁরা কয়েক বছর লেক অ্যাভিনিউয়ের সেই বাড়িতেই থেকেছিলেন, যেখানে সত্যজিৎ ও বিজয়া রায় থাকতেন। পরে রুমা গুহঠাকুরতা আবার সিনেমায় কাজ শুরু করলে তাঁরা অন্যত্র চলে যান।

অমিত কুমারের দাবি, আত্মীয়তার সম্পর্কের বাইরেও কিশোর কুমারের মনে সত্যজিৎ রায়ের প্রতি ছিল গভীর শ্রদ্ধা। তিনি জানান, ‘পথের পাঁচালী’ নির্মাণের সময় সত্যজিৎ রায় যখন আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েন, তখন কিশোর কুমার তাঁকে ৫,০০০ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন, যাতে ছবির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। সেই সময় এই অর্থের মূল্য ছিল অত্যন্ত বেশি। অমিতের কথায়, তাঁর বাবা সত্যজিৎ রায়ের কাজ এবং ব্যক্তিত্ব দুটিরই অসাধারণ ভক্ত ছিলেন। তাই প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে তিনি এক মুহূর্তও দ্বিধা করেননি। এই তথ্য সামনে আসার পর দুই কিংবদন্তির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “আমাদের সব থেকে বেশি ক’ষ্ট দিয়েছে অভয়ার মা, উনি আমাদের সবার মুখে জুতোর বাড়ি মে’রেছেন!” আর জি করের নি’র্যাতিতার মা, রত্না দেবনাথকে নিয়ে কেন এমন বি*স্ফোরক মন্তব্য মৌসুমী ভট্টাচার্যের? একের পর এক অভিযোগ ও প্রশ্নে, ক্ষো*ভ উগড়ে কি জানালেন অভিনেত্রী?

তবে চমক এখানেই শেষ নয়। অমিত কুমার আরও জানান, কিশোর কুমার নিজেই একটি ১৬ মিমি ক্যামেরা নিয়ে ‘পথের পাঁচালী’র শুটিং চলাকালীন পর্দার পেছনের নানা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। তাঁর কথায়, ভাবুন তো, কিশোর কুমার নিজে সত্যজিৎ রায়ের ছবির নির্মাণপর্বের ফুটেজ ধারণ করছেন এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। দুর্ভাগ্যবশত, সেই বিরল ভিডিও ফুটেজ আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। যদি সেটি সংরক্ষিত থাকত, তবে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তা হয়ে উঠত অমূল্য সম্পদ। অমিত কুমারের এই প্রকাশ্যে আনা তথ্য শুধু দুই কিংবদন্তি শিল্পীর বন্ধুত্বের সাক্ষী নয়, বরং শিল্পের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং এক সোনালি সময়ের মানবিক ইতিহাসকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

You cannot copy content of this page