“আগে প্রেগন্যান্ট হয়েছি, তারপর বিয়ে করেছি, এটা আমার কাছে কখনও সমস্যা ছিল না…মাতৃত্ব ও বিয়ে দুটো সম্পূর্ণ আলাদা!” বিয়ের সাড়ে ৩ মাসে ছেলের মা হওয়ার পর সাহসী মন্তব্যে নতুন বি’তর্কের কেন্দ্রে সুস্মিতা রায়! ‘এত যখন উচ্চচিন্তাধারা সম্পন্ন, ম্যাটারই যখন করে না তখন গর্ভাবস্থায় বিয়ের নিয়ে প্রহসন করলেন কেন?’ কটাক্ষ নেটিজেনদের!

অভিনেত্রী ও ইনফ্লুয়েন্সার সুস্মিতা রায়ের (Susmita Roy) জীবনে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়। তিনি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রথমবার সংবাদ মাধ্যমের সামনে মাতৃত্ব, বিয়ে এবং নিজের দীর্ঘ লড়াই নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে আনেন ছেলের নামও। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘সিডো’। মা হওয়ার আনন্দের মাঝেও নিজের জীবনের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সুস্মিতা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, মাতৃত্বকে তিনি কোনওদিনই সামাজিক নিয়মের মাপকাঠিতে বিচার করেননি।

সুস্মিতা এদিন বলেন, “আমি প্রেগনেন্ট ছিলাম কিনা, বিয়ে কখন করেছি? আমার কাছে ম্যাটার করে না, মাতৃত্ব ও বিয়ে পুরোটাই আলাদা! আগে প্রেগন্যান্ট হয়েছি তারপর বিয়ে করেছি, এটা কোনদিনই আমার কাছে সমস্যা ছিল না। আর এতদিন কেন কাউকে জানাইনি? কারণ, আগে আমার সঙ্গে যেটা হয়েছে সেই একই জিনিস আবার হোক চাইনি। মায়ের মন তো, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভয় ছিল। তবে আমি পুত্র সন্তান চেয়েছিল, সেটাই ভগবান আমায় দিয়েছে। আমার সব যুদ্ধ সফল আজকে!” এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি জানিয়ে দেন, সমাজের নানা মন্তব্যের চেয়ে তাঁর কাছে নিজের সন্তানের নিরাপত্তা এবং মাতৃত্বের অনুভূতিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অভিনেত্রী আরও জানান, তিনি আগেও বলেছিলেন যে এবার তাঁর ইচ্ছে ছিল একটি পুত্রসন্তান হোক। আগের অভিজ্ঞতার কথা মনে রেখেই তিনি চেয়েছিলেন, সেই ট্রমা যেন আর ফিরে না আসে। তাই গর্ভাবস্থার খবরও প্রকাশ্যে আনেননি। তাঁর কথায়, অনেকেই নানা মন্তব্য করছেন, কিন্তু বিয়ে এবং মা হওয়া তাঁর কাছে সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়। এমনকি বিয়ে না করেও যদি তিনি সন্তানের জন্ম দিতেন, তবুও সেটাকে লুকিয়ে রাখতেন না। তবে তিনি চেয়েছিলেন, তাঁর সন্তান যেন একটি পূর্ণ পরিবারে বড় হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার কটাক্ষ এবং অযাচিত আলোচনার বাইরে রেখেই মাতৃত্বের এই সময়টা উপভোগ করতে চেয়েছিলেন তিনি।

তবে অভিনেত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। কেউ বলছেন, “একেবারেই ভুল বললেন…ম্যাটারই যখন করে না তখন প্রেগন্যান্সী নিয়ে বিয়ে করলেন কেন? এত যখন উচ্চচিন্তাধারা সম্পন্ন..তখন এত ঘটা করে লোক জানিয়ে প্রেগন্যান্সীর মধ্যে বিয়ের প্রহসন করেছিলেন? তার মানে আপনি সমাজকে ভয় পেয়েছেন…আপনার বাচ্চাকে ভবিষ্যতে যদি কোনও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে না হয সেই জন্য তো…সেটা বলুন..মুখে বড় বড় কথা বললেই হল না..সেটা করে দেখানো টাই আসল…আপনার মত না হলেও সিঙল মাদার হাওয়ার সাহস আপনার আগে অনেকেই দেখিয়েছেন আপনার মত এত নাটক ভিডিও করার প্রয়োজনীয়তা তারা অনুভব করেননি।

আপনি মা হতে চেয়েছিলেন তার জন্য বিয়ে নামক একটা বন্ধনের আবশ্যিকতা ছিল এটাই স্বাভাবিক আর এটাই আসল কথা।” অন্যজনের কথায়, “তোমার কাছে কোনও কিছুই ম্যাটার করে না, তুমি যা করেছ তার জন্য রাজ্যবাসী গর্বিত!” একজন বলেছেন, “মানে একটা মেয়ে বিয়ের আগেও বাচ্চা নিতে পারে, বিয়ের পরেও বাচ্চা নিতে পারে আপনার কথা অনুযায়ী বাহ আপনি ভালো শিক্ষা দিচ্ছেন!” কেউ আবার সমর্থন করে বলেছেন, “মা হওয়াটা সবথেকে বড় আনন্দের যেটা কোন পাস্ট প্রেজেন্ট হিস্ট্রি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না আর যারা করে তারা তার থেকেও নিচু মনের মানুষ!”

প্রসঙ্গত, ছেলের নাম ‘সিডো’ রেখেছেন তাঁর স্বামী শুভাশিস দে। সেই নাম নিয়েও আবেগ প্রকাশ করেছেন সুস্মিতা। তিনি বলেন, এই নামটাই তাঁদের সন্তানের ভালো নাম। ছেলেকে নিয়ে তাঁর একটাই স্বপ্ন, সে যেন একজন ভালো মানুষ হয়ে বড় হয় এবং উন্নত মানসিকতার মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলে। আবেগঘন কণ্ঠে অভিনেত্রী বলেন, “সিডো আমার কাছে এক কথায়, যুদ্ধ জয়ের পরিণতি।” এই একটি বাক্যেই ধরা পড়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ভয়, সংগ্রাম এবং মা হওয়ার আনন্দের গভীর অনুভূতি।

আরও পড়ুনঃ বারুইপুরে নাবালিকাকে ধ*র্ষণ ও খু*নের কাণ্ডে বড় অভিযোগ শ্রীলেখা মিত্রের নামে! চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে এফআইআর! ঠিক কী কারণে নাম জড়াল অভিনেত্রীর?

সন্তানের জন্মের পর সামাজিক মাধ্যমেও একটি ছবি ভাগ করে নিয়েছিলেন সুস্মিতা। সেখানে স্বামী শুভাশিস দে এবং সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে নতুন জীবনের সূচনার কথা জানান তিনি। দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষা, প্রথম সন্তানকে হারানোর বেদনা এবং নানা অদৃশ্য বাধা পেরিয়ে অবশেষে মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার অনুভূতির কথা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে স্বামীর অটুট সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। সবশেষে সকলের কাছে তিনি তাঁর ছোট্ট সন্তান ‘সিডো’-র জন্য ভালোবাসা ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

You cannot copy content of this page