থ্রি ইডিয়টস ছবির জনপ্রিয় চরিত্র ‘ফুংসুক ওয়াংরু’-র বাস্তব অনুপ্রেরণা সোনম ওয়াংচুক আবারও খবরের শিরোনামে। তবে এবার কোনও শিক্ষা উদ্যোগের জন্য নয়, বরং দীর্ঘ অনশন কর্মসূচির কারণে। কেন্দ্রের কাছে নিজের দাবি পৌঁছে দিতে তিনি যন্তরমন্তরে অনশন শুরু করেছেন। প্রথমে আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানালেও পরে জানিয়ে দেন, ২৭ জুনের মধ্যে সরকার কোনও উত্তর না দিলে তিনিও অনশনে বসবেন। সেই মতো ২৮ জুন থেকে তিনি অনশন শুরু করেন। টানা ১৮ দিন ধরে চলা এই অনশনের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দ্রুত ওজন কমছে বলেও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবু এখনও পর্যন্ত অনশন প্রত্যাহারের কোনও ঘোষণা করেননি সোনম।
সোনমের এই অবস্থার খবর সামনে আসতেই দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই তাঁকে অনশন ভাঙার আবেদন জানিয়েছেন। বলিউডের একাধিক শিল্পী প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন বাংলার অভিনেতা ঋদ্ধি সেন এবং প্রবীণ অভিনেত্রী-পরিচালক অপর্ণা সেন। দু’জনেই সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ করে সোনমের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিশেষ করে ঋদ্ধি সেন একটি দীর্ঘ পোস্ট লিখে বর্তমান সময়ে প্রতিবাদ, রাজনীতি এবং সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
ঋদ্ধি সেন তাঁর পোস্টে লেখেন, “খাদ্যদ্রব্য ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানানোর মধ্যযুগীয়, হিংস্র প্রক্রিয়া আমাদের প্রগতিশীল নাগরিক, মিডিয়া এবং সরকারের কাছে দেশপ্রেমের নিদর্শন। পাতে ডিম পড়ুক না পড়ুক মাথায় পড়লেই হলো। এই প্রতিবাদ চোখে পড়বেই, পাবে গ্রহণযোগ্যতা, মিডিয়া দেবে গুরুত্ব, আমরা দেব TRP, ভাইরাল হবে ৯০ সেকেন্ডের কনটেন্ট আর পেজ ম্যানেজার পাবে পেমেন্ট। কেন? কারণ এই প্রতিবাদ বিক্রয়যোগ্য। এখানে পাওয়া যায় উল্লাস, এন্টারটেনমেন্ট, ইনভেস্টমেন্ট। তাই যে সরকার প্রতিবাদ এবং দেশপ্রেমের বিজ্ঞাপন সফল ভাবে দিয়ে যেতে পারছে তাদের জন্য টিপবো আমরা ভোটের বোতাম, আর বিজ্ঞাপনের বাইরে চলা যেকোনও প্রতিবাদ আর দেশপ্রেমের ভাষার জন্য রইবে আমাদের ইমোজি বোতাম।”
তিনি আরও লেখেন, “তাই দুই সপ্তাহের অধিক যে মানুষটা খাদ্যদ্রব্য স্পর্শ না করে দেশের জন্য খালি পেটে স্বপ্ন দেখছে, তার জন্য আমাদের দেশনায়কের ‘মেলোডি’ ভর্তি ঠোঙা ফাঁকা, ঠিক আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো, মিডিয়া আর কিছু সুবিধাবাদী নাগরিকদের মানবিকতার মতো, ফাঁকা। কী মজার না?” এরপর আরও কড়া ভাষায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন ঋদ্ধি। তিনি লেখেন, “সোনম ওয়াংচুক তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে কিছু দাবি রেখেছেন। চেয়েছেন তাঁর দেশের সরকারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভাবে কথা বলতে। তিনি কোনও দাঙ্গা বাঁধাননি, বোমা তৈরি করেননি, হাতে বন্দুকও তোলেননি। ওনার ন্যায্য দাবি শোনানোর জন্য উনি নিজেকেই ঠেলে দিচ্ছেন মৃত্যুমুখে।
চারপাশের সমাজকে বিষমুক্ত করার প্রচেষ্টায় বিষোদ্গার না করে বিষ পান করছেন নিজেই, তা সত্ত্বেও সরকারের দেখা মেলে না। যে দেশের সরকারকে মানুষের কথা শোনানোর জন্য মানুষকে মৃত্যুমুখী হতে হয়, সেই সরকার দেশদ্রোহী। আর আমরা? আমরা ‘গুলামি কা অমৃত মহোৎসবের’ উন্নয়নমুখী পর্যটক।” তাঁর এই পোস্ট ঘিরে সমাজমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে অপর্ণা সেনও নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশনের খবর ভাগ করে নেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সোনমের অনশন ইতিমধ্যেই ১৭ দিনে পড়েছে। তাঁর এই পোস্টের মাধ্যমে অভিনেত্রী স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন যে আন্দোলনকারীদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
আরও পড়ুনঃ “বহ্নির মতো এমন খলনায়িকা বাংলা সিরিয়ালে খুব কমই এসেছে!” “এমন স্ক্রিন প্রেজেন্স সত্যিই বিরল, আজও ভুলতে পারিনি!” নেতিবাচক চরিত্র হয়েও তিনিই ছিলেন গল্পের প্রাণ! আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে ‘মিলন তিথি’তে দেবযানী চক্রবর্তীর অভিনয়! একটি ধারাবাহিকের পর কেন আর দেখা গেল না তাঁকে? আপনাদের কেমন লাগত অভিনেত্রীকে?
একই সময়ে সোনমের শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরও সামনে এসেছে। অনশনের কারণে তাঁর ওজন অনেকটাই কমে গিয়েছে বলে দাবি করেছে ‘ককরোচ’ জনতা পার্টি। এই পরিস্থিতিতে বহু মানুষ তাঁর সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছেন। সোমবার সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের সমর্থনে যন্তরমন্তরে উপস্থিত হন সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায়, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, অভিনেত্রী রত্না পাঠক শাহ এবং অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ। তাঁরা সকলেই সোনম ও অন্য অনশনকারীদের অনশন তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে এখনও পর্যন্ত অনশন প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি সোনম। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনও স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।






