টলিপাড়ায় দুঃসংবাদ! পিতৃহারা হলেন টোটা রায়চৌধুরী! জন্মদিনে ছেলের গায়ে হাত রেখে শেষ আশীর্বাদ, পরদিনই না ফেরার দেশে বাবা! অভিনেতার পরিবারে শোকের ছায়া, কী হয়েছিল তাঁর বাবার?

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে ফের নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত হয়েছেন অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীর বাবা বিপ্লবাঙ্কুর রায়চৌধুরী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তবে প্রথমদিকে তেমন কোনও স্পষ্ট শারীরিক লক্ষণ না থাকায় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতেই পারেননি। পরে শারীরিক সমস্যা বাড়তে শুরু করলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে টানা তিন দিন ছিলেন তিনি। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি। টোটার জন্মদিনের ঠিক পরের দিনই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিপ্লবাঙ্কুরবাবু। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার।

টোটার স্ত্রী শর্মিলি রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, কিছুদিন ধরে বিপ্লবাঙ্কুরবাবুর শিরদাঁড়া বেঁকে যাচ্ছিল এবং তিনি ঝুঁকে হাঁটছিলেন। সেই সঙ্গে পিঠের ব্যথাও ক্রমশ বাড়তে থাকে। এরপর চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষার পর জানা যায়, তাঁর ফুসফুসের ক্যান্সার ইতিমধ্যেই চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এই খবর পরিবারের কাছেও ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। চিকিৎসা শুরু হলেও পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে। হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় মাত্র তিন দিনই তাঁকে যন্ত্রণার মধ্যে কাটাতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শর্মিলি।

এই ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল টোটা রায়চৌধুরীর জন্মদিন। গত সপ্তাহে নিজের জন্মদিনে বাবার আশীর্বাদ নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন অভিনেতা। সেই সময় বিপ্লবাঙ্কুর রায়চৌধুরীর নাক ও মুখে নল লাগানো ছিল এবং মুখ ঢাকা ছিল মাস্কে। তাই তিনি কোনও কথা বলতে পারেননি। কিন্তু ছেলে সামনে যেতেই তাঁর গায়ে হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কথায়, সেটাই ছিল বাবা ও ছেলের শেষ দেখা। সেই ঘটনার পরদিনই তিনি চিরবিদায় নেন, যা আজও পরিবারের কাছে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে রয়েছে।

জানা গিয়েছে, মৃত্যুকালে বিপ্লবাঙ্কুর রায়চৌধুরীর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। আগামী ২২ জুলাই তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করবেন টোটা রায়চৌধুরী। দীর্ঘদিনের পরিচিতদের অনেকেই এই মৃত্যুসংবাদে শোক প্রকাশ করেছেন। তবে পরিবারের সদস্যরা এখনও এই আকস্মিক ক্ষতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। বিশেষ করে এত অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু ঘটে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন সকলেই।

আরও পড়ুনঃ “আয়নায় নিজের মুখটা দেখেছ?” জীবনের সবচেয়ে বড় অপমানটা আজও ভুলতে পারেননি! কী হয়েছিল? বহু বছর পর তিক্ত স্মৃতি ভাগ করলেন দেবশ্রী রায়! কে করেছিল অভিনেত্রীকে এমন অপমান?

টোটা রায়চৌধুরী বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন। সেই কারণেই তাঁর বাবার অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুর খবরও খুব সীমিত পরিসরের মানুষই আগে জানতে পেরেছিলেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, পিতৃবিয়োগের শোকে অভিনেতা এতটাই ভেঙে পড়েছেন যে, এই মুহূর্তে কারও সঙ্গে বিশেষ কথা বলছেন না। বাবাকে হারানোর এই গভীর শোকের সময় পরিবারের পাশে রয়েছেন তাঁর কাছের মানুষ এবং শুভানুধ্যায়ীরা।

You cannot copy content of this page