টলিউডের জনপ্রিয় জুটির কথা উঠলেই ‘অঙ্কুশ হাজরা’ (Ankush Hazra) এবং ‘ঐন্দ্রিলা সেন’-এর (Oindrila Sen) নাম প্রথম সারিতেই আসে। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে একসঙ্গে পথ চলছেন তাঁরা। এখনও বিয়ে না করলেও, একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, বন্ধুত্ব আর বোঝাপড়াকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন এই জুটি। একাধিক ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করে যেমন দর্শকের মন জয় করেছেন, তেমনই ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তাঁদের নিয়ে চর্চার শেষ নেই। সম্প্রতি একই পেশায় সম্পর্কে থাকার সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন অঙ্কুশ। তিনি জানিয়েছিলেন, অনেক সময় নতুন ছবির গল্প নিয়ে ঐন্দ্রিলা তাঁর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।
এমনকি বলেছিলেন, কখনও কখনও তাঁর মনে হয় ইন্ডাস্ট্রির বাইরের কোনও মেয়ে সঙ্গী হলে হয়তো এসব নিয়ে মতবিরোধ হতো না। তবে সেই কথার সঙ্গেই তিনি স্বীকার করেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঐন্দ্রিলার বিচারই শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়। এই দীর্ঘ সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি যে পরস্পরের প্রতি আস্থা, তা বিভিন্ন সময়েই স্পষ্ট হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যত জল্পনাই হোক না কেন, একে অপরের সাফল্যে দু’জনেই সবসময় পাশে থাকেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঐন্দ্রিলা সেনকে অভিনয় জীবন থেকে ব্যক্তিগত অভ্যাস, ভ্রমণসহ নানান বিষয় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। সেই আড্ডায় উঠে আসে তাঁর অনেক অভিজ্ঞতাও।
আরও পড়ুন: “এখন ওঁ এমএলএ, তাই ওঁকে নিয়ে….বক্তব্য থেকে একচুলও সরিনি!” “আমরা কাকিমার পাশে আছি, কাকিমা কি আমাদের পাশেও আছেন?” আর জি কর কাণ্ডে অভয়ার মা, রত্না দেবনাথকে নিয়ে ভিডিওতে “ছিঃ”, “নির্লজ্জ” “মা হওয়ার অযোগ্য” মন্তব্যে তুমুল কটাক্ষের শি’কার আরজে প্রিয়াঙ্কা, অবশেষে দিলেন জবাব! এবার ঠিক কী বললেন তিনি?
কথার ফাঁকেই অভিনেত্রী জানান, তিনি নিজের কাজ সময়মতো করার চেষ্টা করলেও তাঁকে সবসময় আরও সচেতন থাকতে সাহায্য করেন তাঁর মা এবং অঙ্কুশ। সাক্ষাৎকারে ঐন্দ্রিলাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আজ পর্যন্ত কোনও দিন ফ্লাইট মিস হয়েছে কি না। উত্তরে তিনি জানান, তাঁর মা এবং অঙ্কুশের জন্য এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনও পড়তে হয়নি। এরপর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কোনও দিন বিদেশে গিয়ে পথ হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না। সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, “বিদেশের মাটি কেন, দেশের মাটিতেও হারিয়ে গেলে আমি থরথর করে কাঁপতে শুরু করে দেব।
আমি খুব ভীতু, কিন্তু বিদেশের মাটিতে অঙ্কুশ অনেকবার চেষ্টা করেছে আমাকে গুম করে দেওয়ার! ধরো যদি কোনও দোকানে গিয়ে কোন খাবার কিনছি, আস্তে করে পিছন দিয়ে সরে যাবে। দেখতে চাই আমি কি করি না খুঁজে পেয়ে, ভাবে যদি গুম করে দেওয়া যায়। তারপর আমার অসহায় মুখটা দেখে আবার চলে আসে।” ঐন্দ্রিলার এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি সম্পূর্ণ মজার ছলেই বলা। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মধ্যে একে অপরকে নিয়ে এমন দুষ্টুমি বা খুনসুটি তাঁদের কাছে খুবই স্বাভাবিক। অভিনেত্রীর কথায় বোঝা যায়, তিনি নিজেকে খুব ভীতু মানুষ বলেই মনে করেন।
আর সেই সুযোগেই বিদেশ সফরে মাঝেমধ্যে অঙ্কুশ তাঁর সঙ্গে এমন মজার খেলায় মেতে ওঠেন। যদিও কিছুক্ষণ পরেই আবার ফিরে এসে তাঁর পাশে দাঁড়ান। এই ছোট ছোট ঘটনাই তাঁদের সম্পর্ককে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে বলে মনে করছেন অনুরাগীদের একাংশ। অন্যদিকে, একই পেশায় থাকার কারণে একে অপরের কাজ নিয়েও খোলামেলা মতামত দেন দু’জনেই। অঙ্কুশ আগেই জানিয়েছিলেন, নতুন কোনও গল্প বা ছবির পরিকল্পনা করলে ঐন্দ্রিলা অনেক সময় সেই গল্পের দুর্বল দিকগুলো প্রথমে ধরিয়ে দেন। প্রথমে তা শুনতে ভালো না লাগলেও পরে বুঝতে পারেন, তাঁর পর্যবেক্ষণই বেশিরভাগ সময় সঠিক হয়। আবার ঐন্দ্রিলার সাম্প্রতিক এই সাক্ষাৎকারেও ফুটে উঠেছে তাঁদের সম্পর্কের সহজ, স্বাভাবিক এবং হাসিখুশি দিক।






