“এক সময় ভেবেছিলাম টিকতেই পারব না, এখন একে অপরকে ছাড়া বেশিক্ষণ থাকতেই পারি না!” উত্তম কুমারের পুত্র গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের দুই স্ত্রী, সতিন নয় যেন দুই বোন! কোন মন্ত্রে এতবছর একসঙ্গে সংসার করার পরেও তৈরি হয়নি কোনও তিক্ততা? মহানায়কের পরিবারের অন্দরমহলের অজানা কথা ভাগ করে আবেগপ্রবণ সুমনা ও মহুয়া!

মহানায়ক উত্তম কুমারের পরিবার মানেই বাঙালির কাছে আলাদা এক আবেগ। তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পরেও তাঁর পরিবারকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল কমেনি একটুও। সম্প্রতি উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যদের কথায় উঠে এল সেই পরিবারেরই কিছু অন্দরমহলের গল্প। বিশেষ করে মহানায়কের পুত্র গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের দুই স্ত্রী সুমনা ও মহুয়ার সম্পর্কের কথা সামনে আসতেই তা নিয়ে তৈরি হয়েছে দর্শকমহলে ব্যাপক আগ্রহ।

গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের দুই স্ত্রী সুমনা ও মহুয়া একই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বোনের মতোই একসঙ্গে সংসার করছেন। তাঁদের কথায়, এই সম্পর্ক আজকের তৈরি নয়, বহু বছর ধরে তাঁদের মধ্যে এমনই ভালোবাসা ও বোঝাপড়া রয়েছে। বাড়িতে একে অপরকে আদরের একটি বিশেষ নামে ডাকার কথাও জানান তাঁরা। তাঁদের কথায়, এখন এমন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে যে দু’জনের কেউই বেশিক্ষণ একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারেন না। একজন অসুস্থ হলে অন্যজন সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ নেন, আবার অফিস থেকে ফেরার সময় কে কী খাবেন, সেই নিয়েও চলে পরস্পরের খেয়াল রাখা।

দু’জনের স্বভাবেও যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে, সেটাও তাঁদের কথায় উঠে আসে। একজন তুলনামূলক শান্ত, অন্যজন বেশি কথা বলেন বা একটু চঞ্চল স্বভাবের। তবে সেই পার্থক্যই তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে কোনও দূরত্ব তৈরি করেনি। বরং প্রয়োজনে একজন অন্যজনকে পরামর্শ দেন, গাইড করেন। তাঁদের কথায়, সমস্যা হলে কে কাকে সামলান, সেই হিসাব করার উপায় নেই দু’জনেই দু’জনের পাশে থাকেন। তাই একে অপরকে ছাড়া চলা তাঁদের পক্ষে কঠিন। উত্তম কুমারকে নিয়েও আবেগঘন স্মৃতি ভাগ করে নেন দুই পুত্রবধূ, মহানায়ককে খুব অল্প সময় কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল।

কিন্তু সেই অল্প সময়েই তাঁকে মানুষ হিসেবে অসাধারণ বলে মনে হয়েছিল, তাঁর বিশাল মনের মানুষ হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অভিনয়শিল্পী হিসেবে উত্তম কুমারের পরিচিতি তো সকলেরই জানা, কিন্তু পরিবারের কাছে মানুষ উত্তমের স্মৃতিই আজও বিশেষ হয়ে রয়েছে পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যের কাছে। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন নিয়েও গর্বের কথা জানান তাঁরা। এত বছর পরেও মহানায়ককে ঘিরে এমন আয়োজন হওয়াকে তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

আরও পড়ুনঃ “আমি মুখ খুললে অনেকে জেলে যেতে পারে!” জীবনের অজানা অধ্যায় নিয়ে বি*স্ফোরক সোনামণি সাহা! সেই সব দুঃস্বপ্নের মতো রাতের অভিজ্ঞতা বুকে চেপে ফের সংসার পাততে চলেছেন অভিনেত্রী, প্রতীক সেনের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসার জল্পনার মাঝেই সামনে এল কোন রহস্য?

পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব সামলানো নিয়েও তাঁদের বক্তব্য স্পষ্ট বাড়ির বড় কোনও কাজ একা কেউ করেন না, সকলে মিলে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সুমনার কথায়, সামনে থেকে তিনি হয়তো কোনও কাজ করেন, কিন্তু পরিবারের বাকিরা সবসময় তাঁর পিছনে ঢালের মতো থাকেন। তাঁদের এই কথাতেই স্পষ্ট, উত্তম কুমারের পরিবারের বন্ধন শুধু আত্মীয়তার নয়, পারস্পরিক ভালোবাসা, নির্ভরতা এবং বোঝাপড়ারও।

You cannot copy content of this page