বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ ‘রুবেল দাস’ (Rubel Das) আজ দর্শকদের কাছে একজন সফল অভিনেতা। তবে অভিনয়ের আগে তাঁর পরিচয় ছিল একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পী হিসেবে। ২০০৮ সালে ডান্স বাংলা ডান্স-এর বিজয়ী হওয়ার পর বড় স্বপ্ন নিয়ে তিনি মুম্বই পাড়ি দেন। পরে অভিনয় জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন। ‘ভানুমতীর খেল’, ‘বাঘ বন্দি খেলা’, ‘জামুনা ঢাকি’, ‘নিম ফুলের মধু’ থেকে শুরু করে একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান। বর্তমানে ব্যক্তিগত জীবনেও সুখের সময় কাটাচ্ছেন। অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর তাঁদের বিয়েও হয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে বহু কষ্ট, ত্যাগ আর সংগ্রামের গল্প, যা একসময় তিনি তুলে ধরেছিলেন দাদাগিরি-র মঞ্চে।
সেই অনুষ্ঠানের এক পর্বে রুবেলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা। মঞ্চে একটি বিশেষ ভিডিও দেখানো হয়, যেখানে তাঁর পরিবারের কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরা হয়। জানা যায়, রুবেল ছোট থাকতেই তাঁর বাবার চাকরি চলে যায়। সংসারের দায়িত্ব তখন কার্যত মায়ের কাঁধেই এসে পড়ে। পরিবারের খরচ চালাতে তিনি সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। সেই সামান্য আয়েই কোনওরকমে চলত সংসার। দুই ছেলেকে মানুষ করার লড়াইয়ে তিনি কখনও পিছিয়ে যাননি। পরে ২০১১ সালে রুবেলের বাবার মৃ’ত্যু হলে পরিবারের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।
সেই কঠিন সময়ে বড় ভাইও বাবার ভূমিকা নিয়ে পাশে দাঁড়ান। প্রসঙ্গত, ডান্স বাংলা ডান্স জেতার পর রুবেল যখন নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য মুম্বইয়ে যান, তখন নতুন করে শুরু হয় আরও এক লড়াই। ছেলের স্বপ্ন যাতে মাঝপথে থেমে না যায়, তার জন্য তাঁর মা শুধু সেলাই নয়, লোকের বাড়িতে রান্নার কাজ এবং আয়ার কাজও করেছেন। নিজের কষ্টের কথা কখনও ছেলের সামনে বড় করে তুলে ধরেননি। বরং সবসময় উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন। মঞ্চে এই সব কথা শুনে আবেগ সামলাতে পারেননি অভিনেতা। তাঁর চোখে জল চলে আসে, আর দর্শকরাও সেই মুহূর্তে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
কান্নাজড়িত গলায় রুবেল বলেন, “মায়ের বলিদান বলে শেষ করতে পারব না। সব মায়েদেরই বলিদান থাকে। আমার মা একটু বেশিই করেছে। যেই সময় বাবার পাশে থাকার কথা ছিল, তখন পাইনি। মা যেভাবে আমাকে আর আমার দাদাকে মানুষ করেছে। দাদাও বাবার দায়িত্ব নিয়ে পাশে ছিল। সবসময় বলে গেছে, তুই যা স্বপ্ন পূরণ কর। মাও বলত, ছোটবেলা থেকে যেমন যা চেয়েছিস পেয়েছিস, পরেও পাবি। এসব ভাবিস না। তুই নিজের স্বপ্নপূরণ কর।” অভিনেতার এই কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তাঁর জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পিছনে পরিবারের অক্লান্ত ত্যাগ কতটা বড় ভূমিকা নিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘রাঙামতি’ শেষ হতে না হতেই ফের স্টার জলসায় ফিরছেন মনীষা! ইতিমধ্যেই নাকি ধারাবাহিকের লুক সেটও হয়েছে সম্পন্ন! এবার কার সঙ্গে জুটি বাঁধছেন অভিনেত্রী? নায়কের নাম জানলে চমকে যাবেন! জেনে নিন, কবে আসছে নতুন প্রোমো?
আজ রুবেল দাস প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হলেও, অতীতের সেই কঠিন দিনগুলিকে তিনি কোনওদিন ভুলে যাননি। নাচ থেকে অভিনয়ে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার এই পথ সহজ ছিল না। পরিবারের আর্থিক সংকট, বাবার চাকরি হারানো, পরে বাবার মৃ’ত্যু এবং মায়ের নিরন্তর সংগ্রাম তাঁকে আরও শক্ত করেছে। তাই আজও সুযোগ পেলেই তিনি পরিবারের অবদানের কথা সবার সামনে তুলে ধরেন। তাঁর এই জীবনকাহিনি শুধু একজন অভিনেতার সাফল্যের গল্প নয়, বরং একজন মায়ের অদম্য লড়াই এবং সন্তানের স্বপ্ন পূরণে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক বাস্তব উদাহরণ।






