সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতেই দিল্লিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন এনসিপিআই সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee) । সদ্য সংসদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের দলের অবস্থান, বিরোধীদের সমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে হুগলি লোকসভা কেন্দ্র থেকে নিজের জয় নিয়েও অকপটে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। অধিবেশন শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন অভিনেত্রী-সাংসদ। প্রতিটি বিষয়েই তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তুলে ধরেন।
সংসদে আসন বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রচনা বলেন, “আমরা সবাই গতকালই এসেছি। সংসদের অধিবেশন সবে শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই স্পিকার আমাদের আসন বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন।” তিনি জানান, সংসদের কাজ সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাক, সেটাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। নতুন সদস্য হিসেবে সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সবাই নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষেই মত প্রকাশ করেন রচনা। বিরোধীদের কটাক্ষের জবাব দিতেও একেবারে সরাসরি ভাষা ব্যবহার করেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “কে কী বলছে, তা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না।
আমরা প্রচারের জন্য সংবাদমাধ্যম ডেকে সাংবাদিক বৈঠক করি না। আমরা চাই সংসদের অধিবেশন শান্তিপূর্ণভাবে চলুক। আর যারা আমাদের ‘গদ্দার’ বলছেন, তারা আসলে চোরদের সমর্থক।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট রাখেন এবং সংসদের ভিতরে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের কথাও বলেন। এনসিপিআই-এর সাংসদ হিসেবে সংসদে তাঁদের ভূমিকা কী হবে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দেন রচনা। তাঁর কথায়, “আজ থেকে নতুন একটি যাত্রা শুরু হল। আমরা সবাই একসঙ্গে ইতিবাচক কিছু করতে এসেছি। বাংলার মানুষ এবং গোটা দেশের মানুষের উন্নতি চাই।
আমরা সবাই এনডিএ-কে সমর্থনকারী এনসিপিআই-এর সদস্য। তাই কোনও বিল যদি মানুষের স্বার্থে ভাল হয়, আমরা সেটিকে সমর্থন করব।” তিনি জানান, দলীয় অবস্থান বজায় রেখেই মানুষের স্বার্থে কাজ করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মন্তব্যের জন্য বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার নিজের রাজনৈতিক যাত্রা এবং হুগলি থেকে জয়ের কারণ নিয়েও খোলামেলা মন্তব্য করেন তিনি। রচনার দাবি, “আমি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন জনপ্রিয় সেলিব্রিটি মুখ। লকেটকে হারানোর জন্যই দিদি আমাকে প্রার্থী করেছিলেন। আমি অনামী কেউ ছিলাম না যাকে অকারণে তুলে দিদি এনেছিলেন।”
আরও পড়ুনঃ ক্ষমতা হারাতেই ‘দিদি’র মঞ্চ থেকে উধাও টলিউড! একসময় ২১ জুলাই মানেই ছিল তারকাদের ভিড়, এবার কি থাকবে ফাঁকাই? ক্ষমতার পালাবদলের পর শহীদ দিবসের মমতার ডাকে যাচ্ছেন না রূপাঞ্জনা, বনি, দিব্যজ্যোতি, সৌমিতৃষা! কারণ হিসেবে দিলেন কী যুক্তি?
তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা এবং নিজের পরিশ্রমও জয়ের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এখানেই থেমে থাকেননি রচনা। তিনি আরও বলেন, হুগলির আসনটি জেতা দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেই তাঁর জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, “ঘরে বসে হাজার হাজার মানুষ দিদি নম্বর ওয়ান দেখেন, তাই তিনি আমাকে নিয়ে এসেছিলেন এবং দিদি নম্বর ওয়ান শোতেও এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি জিতিয়ে দিয়েছি সিটটা, আমার ফেসভ্যালুর জন্য ওই সিটে জয় এসেছে।” নিজের জনপ্রিয়তা এবং মানুষের সমর্থনের উপর ভরসা রেখেই তিনি ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন।






