বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় এবং দক্ষ অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। ‘দৃষ্টিকোণ’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’, ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’-সহ একাধিক ছবিতে নিজের অভিনয়ের দক্ষতায় দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। কিন্তু পর্দার বাইরের চূর্ণী যেন একেবারেই অন্য মানুষ। গ্ল্যামার, বিলাসিতা কিংবা তারকাসুলভ চাকচিক্যের প্রতি তাঁর কোনও বিশেষ আকর্ষণ নেই। বরং অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনেই স্বচ্ছন্দ তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্ত্রীকে নিয়ে এমনই একাধিক অজানা তথ্য সামনে আনলেন পরিচালক-অভিনেতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়।
সাক্ষাৎকারে কৌশিক জানান, চূর্ণীর জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তাঁর সীমিত চাহিদা এবং স্বচ্ছ মানসিকতা। তাঁর কথায়, “চূর্ণী এখনও গড়িয়ার রঘুনাথ মার্কেটের গলিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের মতো নাইটি কিনে। অনেকক্ষণ ধরে বেছে বেছে নিজের পছন্দের জিনিস কেনে। ওর কাছে জিনিসের দাম বা ব্র্যান্ড কোনও বিষয়ই নয়।” শুধু তাই নয়, চূর্ণীর হাতে থাকা ঘড়ির প্রসঙ্গ টেনেও কৌশিক বলেন, “ও একটা ঘড়ি কিনে এসে বলল দুর্দান্ত ঘড়ি। দাম মাত্র ১৮০ টাকা। ওর এতে কোনও সমস্যা নেই। ব্র্যান্ডের জিনিস না হলেও ও সমান খুশি।”
স্ত্রীর এই সরল জীবনযাপনকে কৌশিক শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের জীবনদর্শন বলেই মনে করেন। তাঁর মতে, চূর্ণী কখনও পাওয়া-না পাওয়ার হিসাব নিয়ে বাঁচেন না। বরং প্রতিদিন নিজের জীবনকে মূল্যায়ন করেন অন্যভাবে। কী পেলেন না, সেই চিন্তার বদলে কী আছে এবং কোন বিষয়গুলির জন্য কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, সেটাই ভাবেন তিনি। এই মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। কৌশিকের ভাষায়, “চূর্ণীর জীবনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তার স্বচ্ছতা। ওর ভেতরটা পরিষ্কার। নেতিবাচকতা নেই বললেই চলে। সেই কারণেই ওর আশপাশের মানুষও ইতিবাচক থাকে।”
চূর্ণী নিজেও স্বীকার করেছেন, জীবনে শান্তিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। তিনি বলেন, অযথা প্রতিযোগিতা, বিলাসিতা বা অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করার প্রবণতা তাঁর কোনওদিনই ছিল না। ছোটবেলার একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে অভিনেত্রী জানান, স্কুলের দৌড় প্রতিযোগিতায় সবাইকে ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি নিজের গতিতেই দৌড়েছিলেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস, অন্যকে সরিয়ে দিয়ে সাফল্য পাওয়ার চেয়ে নিজের শান্তি ও সততা অনেক বেশি মূল্যবান। আজও সেই দর্শনেই বিশ্বাসী তিনি।
আরও পড়ুনঃ বাড়িতেই হৃদরো’গে আ’ক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে, বাইপাস সার্জারির পর আইসিইউ-তে বর্ষীয়ান অভিনেতা সুমন্ত মুখোপাধ্যায়! কী বলছেন চিকিৎসকরা? কেমন রয়েছে তাঁর শারীরিক অবস্থা, কী জানালেন ছেলে?
কৌশিকের মতে, চূর্ণীর এই মাটির কাছাকাছি থাকা স্বভাবই তাঁকে অসাধারণ মানুষ এবং অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি অকপটে বলেন, “চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় একজন এক্সেপশনাল মানুষ। শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন মা, স্ত্রী এবং মানুষ হিসেবেও ও অনন্য।” টলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় দাঁড়িয়েও যে এতটা সাধারণ থাকা যায়, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁর জীবনযাপনের এই গল্প আজকের দিনে বহু মানুষের কাছেই হয়ে উঠতে পারে অনুপ্রেরণার এক বড় বার্তা।






