একসময় ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস মানেই ছিল রাজনীতি আর টলিউডের এক বড় মিলনমেলা। ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে তৈরি হওয়া মঞ্চে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে নিয়মিত দেখা যেত অভিনেতা, অভিনেত্রী, পরিচালক এবং প্রযোজকদের। প্রতি বছরই রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি তারকাদের উপস্থিতিও আলাদা করে নজর কাড়ত। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এবার বদলে যায় সেই পরিচিত ছবি। অনুষ্ঠানস্থল ভিক্টোরিয়া হাউস থেকে সরিয়ে আনা হয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে। আর সেই সঙ্গে বদলে যায় মঞ্চের চেনা পরিবেশও। এ বছর গ্ল্যামার দুনিয়ার বহু পরিচিত মুখকে আর দেখা গেল না শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
এই পরিবর্তনের কারণ কী, তা নিয়েই মুখ খুলেছেন তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন টলিউড শিল্পী। অভিনেত্রী সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগে দলীয় কমিটির পক্ষ থেকে শিল্পীদের আলাদা করে জানানো হতো। সবাই নন্দনে একত্রিত হওয়ার পর সেখান থেকে একসঙ্গে অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু এবার তেমন কোনও নির্দেশ বা বার্তা তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। তাঁর কথায়, “আগে দলীয় কমিটি থেকে বলা হতো বলে আমরা যেতাম। আমরা সবাই নন্দনে একত্রিত হতাম, সেখান থেকে আমাদের নিয়ে যাওয়া হত। কিন্তু এবার তো বিশেষ করে আর্টিস্টদের এরকম কিছু বলা হয়নি। আমার কাছে অন্তত কোনও খবর আসেনি, বাকিদের কথা বলতে পারব না। তাই যাইনি।”
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অভিনেতা ভিভান ঘোষও। তাঁর দাবি, এবছর ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানের জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণই তাঁদের কাছে আসেনি। প্রতি বছর প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দপ্তর থেকে নিমন্ত্রণপত্র আসত বলেও তিনি জানান। সেই ডাক পেলে শিল্পীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। ভিভানের কথায়, “একুশের মঞ্চ থেকে এই বছর আমাদের কাছে কোনও ডাক আসেনি। প্রতি বছর একটা আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণ পেতাম। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দপ্তর থেকে সেই নিমন্ত্রণ পাঠানো হত এবং সেই অনুযায়ী আমরা সবাই উপস্থিত হতাম। তবে এটুকু বলব, তৃণমূল তো একটাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। যদি নিমন্ত্রণ পেতাম যেতাম, অবশ্যই যেতাম।”
তবে অভিনেত্রী সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল কিছুটা আলাদা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তিনি সবসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি সবসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলাম, এখনও আছি। মাঝখানে দুটো কর্মসূচিতে আমি থাকতে পারিনি, একটাতে অসুস্থ ছিলাম, অন্যটিতে কলকাতায় ছিলাম না। তাই মিছিলে বা অন্য একটি সভায় যেতে পারিনি। তবে দিদির প্রথম সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অনুপস্থিতির কারণ ছিল ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অবস্থান নয়।
আরও পড়ুনঃ “নিজেদের ঈশ্বর ভাবতে শুরু করেছেন, আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন…” দিল্লির ‘নিট পরীক্ষার দুর্নীতি’র বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রীদেরও মা’রধর ও পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনায় ক্ষো’ভ উগরে দিলেন অরিজিৎ সিং! কড়া ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকারকে কী প্রশ্ন ছুঁড়লেন গায়ক?
শুধু তাই নয়, আমন্ত্রণ না পেলেও দলের কঠিন সময়ে পাশে থাকা উচিত বলেও মত প্রকাশ করেন সুভদ্রা। তাঁর কথায়, “বিপদের দিনে যখন কেউ অসুবিধায় থাকে, তখন আবার কিসের নিমন্ত্রণ? আমার মনে হয় সেই কঠিন সময়ে পাশে গিয়ে দাঁড়ানোটাই আসল দায়িত্ব।” অন্যদিকে সুদীপ্তা ও ভিভানের বক্তব্যে উঠে এসেছে, এ বছর শিল্পীদের উদ্দেশে আগের মতো কোনও বিশেষ বার্তা বা ডাক পৌঁছায়নি। ফলে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে টলিউডের পরিচিত মুখের সংখ্যা অনেকটাই কম ছিল। সেই কারণেই এবারের শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা ও আলোচনা।






