“আমার সৌভাগ্য কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বাবা আর চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় মা, কিন্তু পেশাজীবনে কোনও সম্পর্ক নেই!” “বিদেশে চলে গিয়েছিলাম পড়াশোনা করতে, ‘প্রফেশনাল ফোমো’ নিয়ে আমার…” দুটো মাস্টারডিগ্রি অর্জন করেও কেন পড়াশোনা নিয়ে এগোলেন না? ছ’বছর পরে পর্দায় ফিরছেন উজান গঙ্গোপাধ্যায়! জানালেন, কীভাবে সামলাবেন মা-বাবর সঙ্গে তুলনা ও সমালোচনা?

অভিনেতা হিসেবে দর্শক তাঁকে আগেই বড়পর্দায় দেখেছেন। তবে এবার পরিচালক হিসেবেও নতুন পরিচয়ে সামনে আসছেন উজান গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর আবারও বড়পর্দায় ফিরছেন তিনি। নতুন ছবি ‘কাতুকুতু বুড়ো’ মুক্তির আগে এক সাক্ষাৎকারে নিজের পড়াশোনা, অভিনয়, পরিচালনা এবং ব্যক্তিগত ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন উজান। সেখানেই তিনি জানান, অভিনয়ে আসার আগে তাঁর লক্ষ্য ছিল আরও উচ্চশিক্ষা। এমনকি ছোটবেলা থেকেই পিএইচডি বা অক্সফোর্ডে ডিফিল করার ইচ্ছাও ছিল। কিন্তু পরপর দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করার পর তাঁর মনে হয়, এবার নিজের গল্প বলার সময় এসেছে। সেই সময়ই নেটফ্লিক্সের ‘কুরুক্ষেত্র: দ্য গ্রেট ওয়ার অফ মহাভারত’-এর চিত্রনাট্যের কাজের সুযোগ পান তিনি, যা তাঁর কেরিয়ারের ভাবনাকেই বদলে দেয়।

প্রায় তিন বছর ধরে ওই অ্যানিমেটেড সিরিজ়ের ১৮টি পর্ব নিয়ে কাজ করেছেন উজান। কলকাতা ও মুম্বই মিলিয়ে সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে নির্মাণের জগৎকে আরও কাছ থেকে চিনতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, ওই কাজ শেষ করার পর ছবি ও সিরিজ় তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটাই তাঁর কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অনেকেই মনে করেন, স্থায়ী চাকরির বদলে এই পেশা বেছে নেওয়া বড় ঝুঁকি। তবে উজানের বক্তব্য, “অনিশ্চয়তা, কোনও ওঠাপড়া এলে নিজেদের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল আমার জানা। তাই ঝুঁকি হিসাবে আমি দেখতে চাই না পুরো বিষয়টা। সব মেনে নিয়েই তো আমি এগোচ্ছি।” তাঁর কথায়, পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে হিসেবে ছোটবেলা থেকেই তিনি এই পেশার উত্থান-পতন খুব কাছ থেকে দেখেছেন।

নতুন ছবি ‘কাতুকুতু বুড়ো’ নিয়েও নিজের ভাবনা ভাগ করে নিয়েছেন উজান। ছবির পোস্টারে বেগনি পোশাক পরা এক চরিত্রকে ঘিরে দর্শকদের কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে ‘স্পাইডারম্যান’ দেখে সুপারহিরোর প্রতি আকর্ষণ জন্মেছিল। সেই সময় কেনা স্পাইডারম্যান খেলনাটি প্রথম দিনেই ভেঙে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, সেই ভাঙা খেলনাটাই তাঁর বেশি ভালো লেগেছিল। এরপর থেকেই তাঁর মনে হয়েছে, নিখুঁত নয়, বরং ‘ভাঙাচোরা সুপারহিরো’-র মধ্যেই বাস্তবের ছাপ বেশি। সেই ভাবনাই তিনি ‘কাতুকুতু বুড়ো’ ছবিতে তুলে ধরেছেন। ছবির নাম বা পোস্টার নিয়ে সমালোচনা হলেও তিনি তা ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন। এমনকি কেউ যখন ছবির চরিত্রকে ‘বেগুনম্যান’ বলে মন্তব্য করেছেন, সেটাও তাঁর মজার লেগেছে বলে জানান।

ছয় বছর বড়পর্দা থেকে দূরে থাকার বিষয়েও কোনও আক্ষেপ নেই উজানের। তিনি জানান, সেই সময়টা তিনি বিদেশে পড়াশোনার জন্যই কাটিয়েছেন। তাই কাজ মিস করার ভয় বা ‘প্রফেশনাল ফোমো’ কোনওদিনই তাঁকে তাড়া করেনি। বরং তিনি এখনও এমন গল্পই বলতে চান, যেটা তাঁর নিজের কাছে সত্যি এবং গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। তাঁর ইচ্ছা, ভবিষ্যতেও যেন তিনি নিজের পছন্দমতো কাজ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারেন। অভিনয় বা পরিচালনা, দুই ক্ষেত্রেই তিনি তাড়াহুড়ো করে নয়, নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী এগোতে চান।

সাক্ষাৎকারে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে বাবা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং মা চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ। দুই প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর সন্তান হওয়ায় বাড়তি চাপ অনুভব করেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে উজান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমার তো সৌভাগ্য কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় আমার বাবা আর চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় আমার মা। এটাতে তো আমার কোনও হাত ছিল না।” তিনি আরও বলেন, তাঁদের ছেলে হিসেবে পরিচয় অস্বীকার করার কোনও প্রশ্নই নেই। বরং এত বড় দুই শিল্পীকে নিজের মা-বাবা হিসেবে পাওয়াটা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। কাজের তুলনা হলে তিনি সেটাকে সম্মানের সঙ্গেই গ্রহণ করবেন বলেও জানান।

Bengali cinema

আরও পড়ুনঃ “ওঁর মা গত ৯ বছর ধরে মেয়ের সমাধিতে ফুল শুকাতে দেননি…আগের সরকারের ভীষণই স্নেহভাজন ছিল বিক্রম চ্যাটার্জি…” ৯ বছর ধরে যে কেস এগোয়নি, সরকার বদলাতেই পরপর শুনানি! প্রাক্তন সনিকা সিং চৌহানের রহস্যমৃ’ত্যুর মামলায় সাক্ষ্য দিয়েই বি*স্ফোরক দাবি সাহেব ভট্টাচার্যের! অবশেষে ফাঁস করলেন একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য?

উজানের কথায়, তাঁর বাবা-মা যেভাবে মানুষ করেছেন, তার সঙ্গে তাঁদের পেশাগত পরিচয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। পরিবারে কখনও এমন পরিবেশ তৈরি হয়নি, যাতে তিনি অযথা চাপ অনুভব করেন। তাই তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “ওঁরা আমার মা-বাবা বলে জীবনে বাড়তি চাপ, এ কথা কোনও দিন বলতেই পারব না আমি।” বরং তিনি বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক শিল্পীরই নিজস্ব গল্প বলার ধরন থাকে। তাঁর কাজও বাবা-মায়ের পথ অনুসরণ নয়, নিজের স্বতন্ত্র ভাবনা নিয়ে এগিয়ে চলা। নতুন ছবি ‘কাতুকুতু বুড়ো’র মাধ্যমে সেই আলাদা পরিচয়ই দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চান উজান গঙ্গোপাধ্যায়।

You cannot copy content of this page