বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে অন্যতম নাম শতাব্দী রায়। দীর্ঘদিনের সাংসদ হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রী এবার একটি পডকাস্টে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিদ্রোহী সাংসদদের সিদ্ধান্ত এবং শিল্পীদের রাজনীতিতে আসা নিয়ে একাধিক প্রসঙ্গ। সেই সাক্ষাৎকারের একাধিক মন্তব্য এখন নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
শতাব্দী রায়ের দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিতেন, তাহলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। তাঁর মতে, অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দল ছাড়ার আগে কিংবা পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়নি। শুধু তাই নয়, কোনও টেক্সট মেসেজও আদানপ্রদান হয়নি। শেষবার দলনেত্রীর সঙ্গে দেখাও করেননি তিনি। কারণ তখন তাঁর মনে অনেক অভিমান ও অভিযোগ জমে ছিল। ভবিষ্যতে তাঁদের দেখা হলে কী কথা হবে, তা সময়ই বলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিনেত্রী, পরিচালক এবং লেখক হিসেবে পরিচিত শতাব্দী রায় জানান, ভবিষ্যতে একদিন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থান-পতনকে কেন্দ্র করে একটি চিত্রনাট্য লিখতে চান। তাঁর কথায়, “ততদিনে আরও বয়স হবে, realize করব সত্যিই কার ভুল ছিল, ঠিক ছিল, তবে এই মুহূর্তে দলের ভুলেই দেখতে পাচ্ছি৷ না হলে পাশের লোকগুলো কেন চলে যাবে?” এই প্রসঙ্গে তিনি ববি হাকিম এবং অরূপ বিশ্বাসের নামও উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, এত মানুষ দল ছাড়ছেন কেন, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পীদের দলবদল নিয়ে যে সমালোচনা শুরু হয়েছে, সেই বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শতাব্দী। অনেকেই বলছেন, শিল্পীদের রাজনীতিতে আনা ভুল ছিল এবং তাঁরাই দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এই অভিযোগের জবাবে শতাব্দী বলেন, “শুধু আর্টিস্টদের আনা কেন ভুল হবে, কেন শুধু তাঁদের বেইমানি নিয়ে কথা হচ্ছে, যাঁরা পুরোপুরি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাঁরাও তো এখন বিদ্রোহী, মমতা-অভিষেকের সঙ্গে আর নেই৷” তাঁর আরও বক্তব্য, “মমতা-অভিষেকের দল ছাড়ার ক্ষেত্রে ৫ জন artist হলে, ৫০ জন politician।”
সাক্ষাৎকারে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায় এবং মুনমুন সেনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রচনার প্রসঙ্গে শতাব্দী বলেন, মাত্র দু’বছর হয়েছে তিনি সাংসদ হয়েছেন। তাঁর ধারণা, রচনা নিজের কাজের প্রতি অত্যন্ত সিরিয়াস এবং নিজের এলাকায় গিয়ে মানুষের জন্য কাজ করবেন। অন্যদিকে, সন্ধ্যা রায়কে দলে আনার সিদ্ধান্তকে তিনি সঠিক বলেই মনে করেন। তবে মুনমুন সেন সম্পর্কে তাঁর মত ছিল আলাদা। শতাব্দীর মতে, সুচিত্রা সেনের কন্যা মুনমুন সেই ধরনের মানসিকতার মানুষ নন, তাই সক্রিয় রাজনীতিতে খুব বেশি স্বচ্ছন্দ হতে পারবেন না বলেই তাঁর ধারণা ছিল।
আরও পড়ুনঃ “আমার সৌভাগ্য কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বাবা আর চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় মা, কিন্তু পেশাজীবনে কোনও সম্পর্ক নেই!” “বিদেশে চলে গিয়েছিলাম পড়াশোনা করতে, ‘প্রফেশনাল ফোমো’ নিয়ে আমার…” দুটো মাস্টারডিগ্রি অর্জন করেও কেন পড়াশোনা নিয়ে এগোলেন না? ছ’বছর পরে পর্দায় ফিরছেন উজান গঙ্গোপাধ্যায়! জানালেন, কীভাবে সামলাবেন মা-বাবর সঙ্গে তুলনা ও সমালোচনা?
পডকাস্টে শতাব্দী রায়ের একাধিক মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক এবং বিনোদন মহলে জোর আলোচনা তৈরি করেছে। দল ছাড়ার কারণ থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ঘটনাকে নিয়ে চিত্রনাট্য লেখার ইচ্ছা এবং শিল্পীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য এখন নেটমাধ্যমেও ভাইরাল। ফলে এই সাক্ষাৎকারকে ঘিরে আগামী দিনে আরও নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।






