“তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না…আগে তোমাকেই মে*রে ফেলব, তারপর নিজেও শেষ হয়ে যাব” প্রাক্তন এমনই ভয়ঙ্কর হু*মকি দিয়েছিল মধুপ্রিয়া চৌধুরীকে! দিনের পর দিন নি*র্যাতন, ভালোবাসার আড়ালে টক্সি’ক সম্পর্কের শিহরণ জাগানো অভিজ্ঞতার ভাগ করলেন অভিনেত্রী? শেষমেষ অমানুষ প্রেমিকের হাত থেকে নিস্তার পেলেন কীভাবে?

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ মধুপ্রিয়া চৌধুরী। অভিনয় জীবনের শুরু থেকেই তিনি দর্শকদের নজর কেড়েছেন মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। পরবর্তীকালে ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন অভিনেত্রী। পর্দায় হাসিখুশি ও আত্মবিশ্বাসী এই অভিনেত্রী বাস্তব জীবনেও বেশ স্পষ্টভাষী। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে হাজির হয়ে তিনি নিজের অভিনয় জীবনের সংগ্রাম, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কাস্টিং কাউচের অভিজ্ঞতা, বডি শেমিং এবং ভবিষ্যতের জীবনদর্শন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। অভিনয় জগতে তাঁর আসাটা খুব একটা সহজ ছিল না বলেই জানিয়েছেন মধুপ্রিয়া।

ছোটবেলা থেকেই অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তাঁর পরিবারের কেউ এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পিসি চন্দ্র গোল্ডলাইট ডিভা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পর সংবাদপত্রে তাঁর ছবি প্রকাশিত হয় এবং সেখান থেকেই প্রথম অভিনয়ের সুযোগ আসে। অভিনেত্রীর কথায়, শুধুমাত্র প্রতিভা বা কঠোর পরিশ্রমই নয়, এই ইন্ডাস্ট্রিতে ভাগ্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেকেই পোর্টফোলিও তৈরি করে সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন, কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের নজরে পড়াটাও সমান জরুরি। নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, অভিনয় শেখার পাশাপাশি স্ক্রিপ্ট পড়ার অভ্যাস এবং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার মানসিকতা গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যক্তিগত জীবন এবং প্রেম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মধুপ্রিয়া জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি সিঙ্গল এবং কোনও সম্পর্কে নেই। তবে ভবিষ্যতে সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর কিছু স্পষ্ট চাহিদা রয়েছে। তাঁর মতে, সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মান, ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালো সেন্স অফ হিউমার অত্যন্ত জরুরি। তিনি নিজেকে ‘এক্সট্রোভার্টেড লোনার’ বলে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ তিনি যেমন মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, তেমনই নিজের জন্য একান্ত সময়ও তাঁর কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। একা সিনেমা দেখতে যাওয়া, ক্যাফেতে বই নিয়ে বসে থাকা কিংবা নিজের মতো সময় কাটানো তাঁর ভীষণ পছন্দের। তাই ভবিষ্যতে যিনি তাঁর জীবনে আসবেন, তাঁকে এই ব্যক্তিত্বটাকেও সম্মান করতে হবে বলেই মনে করেন অভিনেত্রী।

তবে প্রেম নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা সবসময় সুখকর ছিল না। মধুপ্রিয়া জানিয়েছেন, অতীতে তিনি একটি অত্যন্ত টক্সিক সম্পর্কে ছিলেন। সেই সম্পর্কে এমন মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যেখানে তাঁর সঙ্গী তাঁকে ছেড়ে বাঁচতে পারবেন না বলে হুমকি দিতেন। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে, তাঁকে বলা হয়েছিল “তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না, তাই আগে তোমাকে মেরে ফেলব, তারপর নিজেকেও শেষ করে দেব।” অভিনেত্রীর মতে, অনেক সময় মানুষ ভালোবাসার নাম করে মানসিকভাবে একজনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। সম্পর্কের শুরুতে অনেকেই নিজের ভুল ভেবে সেই পরিস্থিতি মেনে নেন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝতে পারেন সেটি ভালোবাসা নয়, বরং মানসিক নির্যাতন। বর্তমানে তিনি নিজের মানসিক শান্তিকেই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন।

আরও পড়ুনঃ হুয়া রায়চৌধুরীর মৃ’ত্যুর দিন স্টুডিওপাড়া জুড়ে নেমেছিল অদ্ভুত নীরবতা! প্রতিদিন যাদের নিজের হাতে খাওয়াতেন মহুয়া, অভিনেত্রীর নি’থর দেহ দেখে কী করেছিল সেই পথকুকুরেরা? সেদিন কী অলৌকিক ঘটেছিল, যা মনে পড়লে আজও শিউরে ওঠেন বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়? বর্ষীয়ান অভিনেতা শোনালেন সেই গল্প!

অভিনয় জগতের অন্ধকার দিক নিয়েও এদিন সরব হয়েছেন মধুপ্রিয়া চৌধুরী। তিনি জানান, সম্প্রতি একটি হিন্দি সিরিজের অডিশনের নামে তাঁকে হোটেলের ঘরে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের অডিশন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি সেই অডিশনে কাস্টিং সংস্থার কর্তার সঙ্গেও অভিনয় করার কথাও বলা হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে অভিনেত্রী স্পষ্টভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর কথায়, অভিনয় জগতে সুযোগের লোভে কখনও নিজের মর্যাদা বা নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা উচিত নয়। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় বডি শেমিং এবং ট্রোলিং নিয়েও তিনি বলেন, অন্যের মন্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কাজের মাধ্যমেই তার জবাব দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুনদের উদ্দেশে তাঁর একটাই বার্তা এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসার আগে চোখ-কান খোলা রাখুন, নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিন এবং কোনও পরিস্থিতিতেই নিজের আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করবেন না।

You cannot copy content of this page