“চুড়ি পরা হাজার হাত ক্ষমতার হাতে হাতকড়া পরাবে শিগগিরই!” ‘চুড়ি পরে বসে থাক’ এই লিঙ্গবৈষ’ম্যমূলক অ’সুখে যারা আক্রান্ত, তাদের জবাব দিচ্ছে ভারতবর্ষের নতুন প্রজন্ম? রিয়া আহিরকে সামনে রেখে দিল্লিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সমর্থনে সরব ঋদ্ধি সেন, অভিনেতার পোস্ট ঘিরে জোর বিতর্ক!

সমাজের নানা ইস্যুতে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে বরাবরই দেখা যায় জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা ঋদ্ধি সেনকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তিনি কখনও পিছিয়ে থাকেন না। এর আগেও নিট ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দিল্লির জন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ, জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় তিনি সরব হয়েছিলেন। এবারও এক সামাজিক বিষয় নিয়ে তাঁর পোস্ট নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এইবার তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিবাদী যুবতী রিয়া আহির এবং নারীদের নিয়ে সমাজে প্রচলিত এক পুরনো মানসিকতা।

আর জি কর হাসপাতালের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে কলকাতায় যখন বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন চলছিল, তখন একটি ছাত্র মিছিলে এমন একটি মন্তব্য উঠে আসে, যা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়। পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করতে গিয়ে এক প্রবীণ বিক্ষোভকারী হাতের ইশারায় বোঝাতে চেয়েছিলেন, পুলিশের উচিত ছিল ‘হাতে চুড়ি পরে বসে থাকা’। অর্থাৎ চুড়িকে দুর্বলতা বা অক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের মন্তব্যকেই লিঙ্গবৈষম্যমূলক বলে মনে করছেন ঋদ্ধি সেন। তাঁর মতে, প্রতিবাদের ভাষায় নারীকে বা নারীর অলঙ্কারকে অপমানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্প্রতি নিজের সমাজমাধ্যমের পোস্টে অভিনেতা মুম্বইয়ের প্রতিবাদী যুবতী রিয়া আহিরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে একা দাঁড়িয়ে মুম্বই পুলিশের ভ্যান আটকে প্রতিবাদ করার ছবি ইতিমধ্যেই অনেকের নজর কেড়েছে। সেই ছবির সঙ্গে ঋদ্ধি লেখেন, “ধ*র্ষণ বিরোধী প্রতিবাদে পুলিশকে ধিক্কার জানানোর জন্য যারা ‘হাতে চুড়ি পরে বসে থাকার’ ভাবনায় বিশ্বাসী, তাদের সকলকে উত্তর দিলেন মুম্বাই পুলিশ ভ্যান আটকে দাঁড়িয়ে থাকা রিয়া আহির। ‘চুড়ি পরে বসে থাক’ নামক এই লিঙ্গবৈষম্যমূলক অসুখে যারা আক্রান্ত, তাদের সকলকে জবাব দিচ্ছে ভারতবর্ষের নতুন প্রজন্ম।” এই বক্তব্যের মাধ্যমেই তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিবাদের শক্তি লিঙ্গ দিয়ে বিচার করা যায় না।

ঋদ্ধি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমাজে নারীদের চুড়ি পরাকে দুর্বলতা বা নিষ্ক্রিয়তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ের নারীরা সেই ধারণা ভেঙে দিচ্ছেন নিজেদের সাহসী অবস্থানের মাধ্যমে। তাঁর পোস্টের শেষেও ছিল একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা। অভিনেতা লেখেন, “চুড়ি পরা হাজার হাত ক্ষমতার হাতে হাতকড়া পরাবে শিগগিরই।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যে নারীদের একসময় দুর্বল ভাবা হতো, তাঁরাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

আরও পড়ুনঃ “অনেকেরই একটা-আধটা কাজ করে ভাবে ‘দারুণ করলাম’, ‘ফাটিয়ে দিলাম’…আমায় সিট এগিয়ে না দিলে আমি বসি না, প্রয়োজনে নিজের চেয়ারটা…” ৩০ বছর ইন্ডাস্ট্রিকে দিয়েছেন নিজের সবটা, তবুও কপালে জুটেছে ‘এক্সপেনসিভ’ তকমা! থিয়েটার থেকে যাত্রার মঞ্চে নতুন পথচলা, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল নিয়ে অকপট তুলিকা বসু!

ঋদ্ধি সেনের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর তা দ্রুত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নেটিজেন, শিল্পী এবং সাধারণ মানুষ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের একাংশের মতে, প্রতিবাদের ভাষা কখনওই নারী বিদ্বেষী হওয়া উচিত নয়। আবার অনেকেই মনে করছেন, রিয়া আহিরের মতো তরুণদের সাহসী অবস্থানই আজকের প্রজন্মকে নতুন বার্তা দিচ্ছে। ফলে নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবাদের ভাষা এবং সমাজে প্রচলিত লিঙ্গবৈষম্যমূলক ধারণা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

You cannot copy content of this page