বাংলা সিনেমার ইতিহাসে উত্তম কুমারের নাম আজও সমান উজ্জ্বল। তাঁর প্রয়াণের ৪৭ বছর কেটে গেলেও জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। নতুন প্রজন্মও তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দার উপস্থিতিতে মুগ্ধ। প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে মহানায়ককে ঘিরে নানা স্মৃতিচারণার মধ্যেই তাঁর নাতবউ দেবলীনা কুমার জানালেন, কেন এত বছর পরেও উত্তম কুমার মানুষের হৃদয়ে একইভাবে জায়গা ধরে রেখেছেন। তাঁর মতে, এই ভালোবাসার পেছনে শুধু অভিনয় নয়, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। উত্তম কুমার সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে দেবলীনা বলেন, “বিয়ের পর এই বাড়িতে এসে আমার আলাদা কিছু অনুভূতি হয়নি।
এই মানুষগুলো ভীষণ সাধারন, সব থেকে বেশি সাধারণ আমার স্বামী। তবে বিশেষ কিছু দিনে আমি বুঝতে পারি যে, কেন উত্তম কুমার আজও সকলের মধ্যে মহানায়ক হিসাবে রয়েছেন।” তিনি আরও জানান, “২৪ জুলাই হোক বা ৩ সেপ্টেম্বর, এই দিনগুলোয় আমাদের বাড়িতে আজও যেভাবে মানুষরা ভিড় করেন তাতে বোঝা যায় তিনি আজও কতটা প্রাসঙ্গিক।” এত বছর পরেও সাধারণ মানুষের এই ভালোবাসাই মহানায়কের জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ বলে মনে করেন তিনি। দেবলীনার মতে, উত্তম কুমারের দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার আরেকটি বড় কারণ ছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে আড়াল করে রাখার অভ্যাস।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তবে মহানায়কের এই প্রাসঙ্গিকতা থাকার অন্য একটি কারণ হলো তিনি নিজের জীবনকে ভীষণভাবে ব্যক্তিগত রাখতে পছন্দ করতেন।” বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যমের যুগে বিষয়টি আরও বেশি করে চোখে পড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, অনেক তারকাই এখন মানুষের নজরে থাকার জন্য ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় প্রকাশ্যে আনেন, কিন্তু উত্তম কুমার সম্পূর্ণ উল্টো পথেই হেঁটেছিলেন। এই প্রসঙ্গে দেবলীনা আরও বলেন, “এখন যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকারা একটু রিচ কম হলেই নিজেদের আবার তুলে ধরার জন্য সব কিছু করতে রাজি থাকেন।
সেখানে একটা সময় দিনের পর দিন নিজের জীবনকে ব্যক্তিগত রেখেছেন মহানায়ক। দাদুর এই জীবনকে ব্যক্তিগত রাখার কায়দা কিছুটা রপ্ত করেছেন গৌরব। তিনিও একইভাবে নিজের জীবন ব্যক্তিগত রাখতেই পছন্দ করেন।” তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, মহানায়কের ব্যক্তিত্ব এবং সংযমই তাঁকে আজও অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে। এদিকে উত্তম কুমারের ৪৭তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকেও বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুনঃ “এটা কিন্তু কলকাতা, টাইম স্কয়ার না… দেখবেন প্রতিবাদী হয়ে এখানে যেন চুমু খেতে শুরু করবেন না!” “দাড়িওলা আরশোলা, এদের নিটের সঙ্গে কী সম্পর্ক?” পৃথিবীর সেরা বুদ্ধিজীবীর আওয়ার্ড দেওয়া হোক! ধর্মতলায় ছাত্র আন্দোলনে ঋদ্ধি ও সুরঙ্গনার মন্তব্য ঘিরে তুমুল কটাক্ষ নেটপাড়ায়! ঠিক কী বলেছেন তাঁরা?
সেই কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল দুপুর ১২টায় নির্ধারিত সময়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেওড়াতলা মহাশ্মশানে পৌঁছে মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সেখানেই তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর উত্তম কুমারের জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। শুধু কেওড়াতলা নয়, এদিন মহানায়কের ভবানীপুরের বাড়িতেও যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানান তিনি। প্রয়াণের ৪৭ বছর পরেও উত্তম কুমারকে ঘিরে মানুষের আবেগ, পরিবারের স্মৃতিচারণ এবং সরকারি উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করে দিল, বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক আজও বাঙালির হৃদয়ে একইভাবে অমলিন।






