দিল্লি, মুম্বই, পাটনা, কোচির পর এবার কলকাতার রাজপথেও ছড়িয়ে পড়েছে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের ঢেউ। শুক্রবার সন্ধ্যায় ধর্মতলা চত্বরে আয়োজিত হয় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচি। ছাত্র-যুবদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই আন্দোলনে যোগ দেন। হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান, মুষ্টিবদ্ধ হাতে ভরে ওঠে গোটা এলাকা। শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার দাবিতেই এই কর্মসূচি বলে জানান আন্দোলনকারীরা। সন্ধ্যা নামার আগেই ধর্মতলা পরিণত হয় প্রতিবাদের এক বড় মঞ্চে।
এই প্রতিবাদ মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন টলিউড অভিনেতা ঋদ্ধি সেন (Riddhi Sen) এবং অভিনেত্রী সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Surangana Bandyopadhyay)। শিক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মতামত জানতে চান সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। প্রতিবাদে সামিল হয়ে ঋদ্ধি স্পষ্ট বলেন, “এই আন্দোলনের ফলে সরকার যদি এটার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে, তা হলে সেটাকে স্বাগত। কিন্তু এটা ঘটতে এতদিন সময় লাগল কেন? কিন্তু ছাত্রদের এই জনরোষ তো ভুল নয়। ভবিষ্যতের প্রশ্ন।”
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই আন্দোলনকে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করেই দেখছেন। শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়েও নিজের মত প্রকাশ করেন অভিনেতা। তিনি বলেন, “এত বিল আসছে, অথচ ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করলে সেটার কী বিল আসবে, সেটাই জানতে চাই আমরা।” তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই বিষয়টি আরও বেশি করে আলোচনায় উঠে আসে। অনেকেই মনে করছেন, ছাত্রদের দাবি নিয়ে শিল্পীদের এভাবে সরব হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আবার অন্য একাংশের মতে, এই বিষয়ে অভিনেতাদের মন্তব্য করা নিয়েও প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। ঋদ্ধি সেন ও সুরঙ্গনার এই উপস্থিতি এবং মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় জোর চর্চা। তাঁদের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন যেমন অনেকেই, তেমনই কটাক্ষও ধেয়ে এসেছে বিভিন্ন দিক থেকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক পোস্ট ও মন্তব্য ভাইরাল হয়ে যায়। আন্দোলনে শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিয়েও শুরু হয় বিস্তর বিতর্ক। ফলে বিষয়টি শুধুমাত্র প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমেও।
নেটিজেনদের একাংশ সরাসরি কটাক্ষ করে লিখেছেন, “পৃথিবীর সেরা বুদ্ধিজীবীর আওয়ার্ড দেওয়া হোক…দাড়িওলা আরশোলা!” আবার অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “এদের নিটের সঙ্গে কী সম্পর্ক? কতদূর পড়াশোনা করেছে তার ঠিক নেই, নিট পরীক্ষার দুর্নীতি নিয়ে চিন্তা!” এই ধরনের মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। ফলে অভিনেতাদের বক্তব্যের পাশাপাশি সেই প্রতিক্রিয়াও এখন সমানভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এতেই শেষ নয়!
আরও পড়ুনঃ “আমি ওনাকে অ্যাডমায়ার করছি, আমাদের দলের না হলেও…” চন্দন সেনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বিরোধী শিবিরের অভিনেতাকে নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে সরগরম রাজ্য রাজনীতি! নেপথ্যে কোন ঘটনার যোগ?
আরও এক নেটিজেন লেখেন, “দেখবেন বাবা..এটা কিন্তু কলকাতা, টাইম স্কয়ার না! এখানে যেন চুমু খেয়ে নেবেন না, প্রতিবাদের নামে!” এই মন্তব্যও দ্রুত ভাইরাল হয়। একদিকে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা, অন্যদিকে শিল্পীদের উপস্থিতি নিয়ে সমর্থন এবং সমালোচনা, দুই মিলিয়েই ধর্মতলার এই আন্দোলন নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এখন এই আন্দোলনের প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট মহলের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে সকলের।






