দেশজুড়ে NEET-UG আন্দোলন ঘিরে টানা উত্তেজনার পর অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। ছাত্রদের দীর্ঘ আন্দোলন, শিক্ষা-সমাজসংস্কারকর্মী সোনম ওয়াংচুর অনশন এবং দিল্লির যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বহু শিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও সরব হন। কলকাতাতেও প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন ঋদ্ধি সেন, সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বাংলা বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ। পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ করেন দেব, জিৎ, ইমন চক্রবর্তী, লোপামুদ্রা মিত্র-সহ অনেকেই। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর তাঁদের প্রতিক্রিয়াও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এই প্রসঙ্গে গায়িকা লোপামুদ্রা মিত্রের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি প্রথমেই স্পষ্ট করেন, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া তাঁর প্রতিবাদী গানটি বর্তমান ছাত্র আন্দোলনকে সামনে রেখে তৈরি হয়নি। তাঁর কথায়, “গানটা আমি এই আন্দোলনের জন্য গাইনি। ওটা ২০২৩-এ গেয়েছিলাম। তখন শ্রোতারা সে ভাবে শোনেননি। তবু বলব, মানুষ ভাল থাকুক। আমার দেশটা খুব সুন্দর।” একই সঙ্গে তিনি জানান, কোনও রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং মানুষের ভাল থাকাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগও স্পষ্ট ছিল।
ছাত্রদের আন্দোলন সম্পর্কে নিজের মত জানাতে গিয়ে লোপামুদ্রা বলেন, “এই প্রজন্ম, ছাত্ররা আমার কাছে সন্তানসম। ওরা আমাদের ভবিষ্যৎ। ওদের যেটা উচিত মনে হয়েছে, সেটা মেনে নিলে যদি ওরা ভাল থাকে, ওদের ভাল হয়, তা হলে সেটাই হোক।” তিনি আরও বলেন, “যে উন্মাদনার জায়গায় বিষয়টি পৌঁছে গিয়েছিল, সেই জায়গা থেকে আমরা বড়রা যদি মেনে নিয়ে বা মানিয়ে নিয়ে ওদের ভাল রাখতে পারি, তাতে কোনও ক্ষতি নেই।” তাঁর মতে, অনেক সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু বিষয়ে সমঝোতা প্রয়োজন হয়। তা না হলে সংঘাত আরও বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব সমাজের উপরও পড়বে।
আরও পড়ুন: “রাত ৩ টে থেকে পায়ের কাছে চুপ করে বসে ছিলেন, তারপর যা করলেন…” উত্তম কুমারের মৃ’ত্যুর দিনে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের সেই অদ্ভুত কাণ্ড, আজও মনে পড়লে গায়ে কাঁটা দেয় রত্না ঘোষালের! কী অবস্থা ছিল সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের? দুই কিংবদন্তি জুটির ইতি ঘটেছিল সেদিন, মহানায়কের প্রয়াণে দুই প্রিয় নায়িকার প্রতিক্রিয়ার স্মৃতি ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী?
একই বিষয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন গায়িকা ইমন চক্রবর্তীও। তাঁর বক্তব্য, “আমার বাড়িতে এই প্রজন্মের দুই প্রতিনিধি আছে। ওদের দেখি, ওরা কোনও কিছুর পরোয়া করে না! ভয় বলে শরীরে কোনও বস্তুই নেই।” এরপর তিনি আরও বলেন, “এটা একটা ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। যে কোনও দেশের প্রতিবাদী আন্দোলন কেউ যদি করতে পারে, সেটা ছাত্ররা ছাড়া পারে না। ছাত্ররা যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন সরকার সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য।” ইমনের মতে, ছাত্র আন্দোলনের শক্তিকেই আবারও প্রমাণ করেছে এই ঘটনা।
তবে শুধু আন্দোলনের সাফল্য নয়, পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিণতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই শিল্পীই। ইমন জানান, আন্দোলনের পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছিল, তা দেখে তাঁর মনে হয়েছিল দেশের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে লোপামুদ্রারও বিশ্বাস, নতুন প্রজন্মের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনলে এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় সমঝোতার পথ বেছে নিলে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়ানো সম্ভব। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর তাই ছাত্র আন্দোলন, প্রতিবাদ এবং তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে নানা মহলে।






