টলিউডের অন্যতম স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজ, রাজনীতি, ইন্ডাস্ট্রি কিংবা ব্যক্তিগত বিশ্বাস, যে কোনও বিষয়েই নিজের মতামত অকপটে প্রকাশ করেন তিনি। সেই কারণেই তাঁকে নিয়ে যেমন প্রশংসা হয়েছে, তেমনই একাধিকবার বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর মন্তব্য বা সাক্ষাৎকারের নানা বক্তব্য প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। তবে কয়েক বছর আগে প্রকাশিত একটি ভিডিও বাংলা বিনোদন জগতে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সেই ভিডিওতেই টলিউডের অন্দরমহল নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন অভিনেত্রী।
২০২০ সালে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর যখন গোটা দেশে স্বজনপোষণ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছিল, সেই সময় নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন শ্রীলেখা। সেখানে তিনি দাবি করেন, শুধু বলিউড নয়, টলিউডেও ক্ষমতার রাজনীতি এবং স্বজনপোষণের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিল্পী শুধুমাত্র প্রভাবশালী সমর্থন না থাকায় বড় সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “আমার ট্যালেন্ট ছিল, কিন্তু গডফাদার ছিল না।” এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শিল্পীমহলেও শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
ভিডিওতে শ্রীলেখা আরও অভিযোগ করেন, নব্বইয়ের দশক এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর জুটি ইন্ডাস্ট্রিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিল। তাঁর দাবি, একাধিক ছবিতে অভিনয়ের জন্য চূড়ান্ত হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে তাঁকে বাদ দিয়ে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে নেওয়া হতো। অভিনেত্রীর কথায়, সে সময় অনেক ক্ষেত্রে প্রসেনজিতের বিপরীতে কে অভিনয় করবেন, সেই সিদ্ধান্তেও তাঁর প্রভাব থাকত। ফলে ইন্ডাস্ট্রিতে শক্তিশালী কোনও ‘গডফাদার’ না থাকায় তাঁকে বারবার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাতে হয়েছে এবং অধিকাংশ সময় পার্শ্বচরিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এই অভিযোগের জবাবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শ্রীলেখা একজন অত্যন্ত দক্ষ এবং শক্তিশালী অভিনেত্রী। তাঁর মতে, প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটিকে দর্শক এতটাই ভালোবাসতেন যে পরিচালক ও প্রযোজকেরাই তাঁদের নিয়ে কাজ করতে চাইতেন। তাই বিষয়টিকে তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখেননি, বরং শ্রীলেখার দীর্ঘদিনের অভিমান বলেই মনে করেছিলেন। এই পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টলিউডে আলোচনা চলেছিল।
আরও পড়ুনঃ মেয়ের নাম গোপী আর ছেলের নাম গদা! কয়েক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় সন্তান নিয়ে ছিল ভয়, আজ হাসপাতালের বেডেই ছেলে-মেয়ের প্রথম খুনসুটিতে ভরল মন! কৃষভির আদুরে কাণ্ডের ভিডিও ভাগ করে নিলেন শ্রীময়ী! ছোট্ট দিদি কী বলল ভাইকে প্রথম দেখে?
শুধু এই ঘটনাই নয়, রাজনৈতিক বিষয়, সামাজিক সমস্যা, পশুদের অধিকার কিংবা বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যুতেও শ্রীলেখা মিত্র বরাবরই সরব থেকেছেন। নিজের মত প্রকাশ করতে তিনি কখনও পিছিয়ে যাননি। ফলে তাঁকে ঘিরে মতামতও দু’ভাগে বিভক্ত। একাংশের মতে, তিনি এমন কিছু বিষয় সামনে এনেছেন, যেগুলো নিয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, কাজ না পাওয়ার হতাশা বা আলোচনায় থাকার কারণেই তিনি সময়ে সময়ে প্রতিষ্ঠিত তারকাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তবে এত কিছুর পরও শ্রীলেখা মিত্র এখনও টলিউডের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।






