“আমার স্পর্শই যদি এত অস্বস্তিকর হয়, তাহলে সকালে ওয়ার্কআউটের জন্য আমার পায়ের উপর দাঁড়াতে বলেছিলেন কেন?” সোনামণির ‘ব্যাড টাচ’ অভিযোগে ‘দাদার দরবারে’ রাজবীরের সপাটে জবাব! ‘এটা বাংলা সিরিয়াল নয়, এখানেও কি নায়িকা ভাবছেন নিজেকে?’ ‘রিয়েলিটি শো না বুঝলে বেরিয়ে যান তাড়াতাড়ি, অন্যের খেলা নষ্ট করবেন না’ দ্বিচারিতা ঘিরে অভিনেত্রীকে কটাক্ষ ক্ষু’ব্ধ দর্শকদের!

গতকাল বিগ বস বাংলায় ‘দাদার দরবারে’ বিশেষ পর্বে সোনামণি সাহা এবং রাজবীর দে-কে ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয় আলোচনা। সোনামণি রাজবীরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তার গুরুত্ব কতটা তা তিনি বুঝে বলছেন কি না, সরাসরি জানতে চান সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। উত্তরে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, অভিযোগের গুরুত্ব তিনি জানেন এবং বুঝেশুনেই এই কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই রাজবীরের তাকানো এবং তাঁর গায়ে হাত লাগার বিষয়টি তাঁর ভালো লাগছে না। তবে সোনামণির বক্তব্য শোনার পর সৌরভ তাঁকে মনে করিয়ে দেন, তিনি যে খেলায় অংশ নিয়েছেন সেখানে ছেলে এবং মেয়েদের আলাদা করে রাখা হয়নি। বিভিন্ন টাস্কে প্রতিযোগীদের একে অপরের গায়ে হাত লাগতেই পারে বলেও জানান তিনি। তাই শুধুমাত্র সাধারণ কোনও স্পর্শের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এত বড় অভিযোগ তোলা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নই তোলেন সৌরভ।

একই সঙ্গে রাজবীরকেও সতর্ক করেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ভবিষ্যতে তাঁর কোনও আচরণকে কেন্দ্র করে যাতে এমন গুরুতর অভিযোগ না ওঠে, তার জন্য নিজের চারপাশে একটি স্পষ্ট সীমারেখা রাখার পরামর্শ দেন তিনি। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার উত্তেজনার মধ্যেও এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি না করাই উচিত, যা পরে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। তবে এই আলোচনায় রাজবীরও চুপ করে থাকেননি। সোনামণির অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে তিনি পালটা প্রশ্ন করেন, তাঁর স্পর্শ যদি সত্যিই এতটা অস্বস্তিকর হয়ে থাকে, তাহলে সকালে শরীরচর্চার সময় সোনামণি কেন তাঁর সাহায্য নিয়েছিলেন। রাজবীরের দাবি, সেই সময় সোনামণিই তাঁকে নিজের পায়ের উপর দাঁড়াতে বলেছিলেন। এই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বোঝাতে চান, অস্বস্তি থাকলে আগের সেই পরিস্থিতিতে তাঁর সাহায্য চাওয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে।

রাজবীরের এই বক্তব্যের সঙ্গে আলোচনার সময় সৌরভও একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেন। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, প্রয়োজনের সময়ে তাঁর কাছ থেকেই সাহায্য নেওয়া হচ্ছে কি না, সেদিকেও সোনামণিকে ভবিষ্যতে খেয়াল রাখতে বলেন তিনি। সৌরভের বক্তব্যে উঠে আসে পরিস্থিতির সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বোঝার প্রয়োজনীয়তা। কারণ একটি টাস্কের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে হাত বা শরীরের কোনও অংশে স্পর্শ লেগে যাওয়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্মানজনক আচরণ করা এক বিষয় নয়। এই পার্থক্যটি মাথায় রেখেই কোনও অভিযোগ নিয়ে কথা বলা দরকার বলে আলোচনায় ইঙ্গিত দেন তিনি। অন্যদিকে রাজবীরের বক্তব্যেও স্পষ্ট ছিল, তিনি সোনামণির অভিযোগ মেনে নিতে রাজি নন। ফলে বিশেষ পর্বের এই কথোপকথনের পর দু’জনের মধ্যে আগের টানাপোড়েন আরও একবার প্রকাশ্যে চলে আসে।

সোনামণি এবং রাজবীরের মধ্যে অবশ্য এই প্রথম এমন বিতর্ক তৈরি হয়নি। এর আগেও রাজবীরের খাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সোনামণির মন্তব্য ঘিরে বিগ বস বাংলার ঘরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই সময় একজনের খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে বারবার কথা বলা নিয়ে দর্শকদের একাংশ সোনামণির সমালোচনা করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, রাগ বা মতবিরোধ থাকলেও কারও ব্যক্তিগত খাওয়ার বিষয় নিয়ে বারবার খোঁটা দেওয়া ঠিক নয়। পরবর্তী সময়ে টাস্ক চলাকালীন রাজবীরের হাত সোনামণির পায়ে লাগার ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করে। সেই ঘটনাকে সোনামণি খারাপ স্পর্শ হিসেবে দেখেছেন বলে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা হয়, যদিও রাজবীর তা অস্বীকার করেন। এবার ‘দাদার দরবারে’ সেই অভিযোগের গুরুত্ব এবং আগের ঘটনাগুলির প্রেক্ষাপট সামনে আসায় পুরনো বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

পর্বের এই অংশ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ফের সোনামণির আচরণ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, সাধারণ একটি স্পর্শকে কেন্দ্র করে এত বড় অভিযোগ তোলার আগে পুরো পরিস্থিতি বিচার করা উচিত ছিল কি না। কেউ কেউ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কাজের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে হাত লেগে যাওয়া এবং ইচ্ছা করে কাউকে স্পর্শ করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আরও একাংশের বক্তব্য, অভিযোগ যদি সত্যিই গুরুতর হয়, তাহলে সেই অভিযোগের সঙ্গে আগের আচরণ এবং পরিস্থিতিগুলিও পরিষ্কারভাবে দেখা প্রয়োজন। সামাজিক মাধ্যমে এমন কথাও উঠেছে যে, বাংলা ধারাবাহিকে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা থেকে সোনামণি যেন বাস্তবতার মঞ্চেও সেই ভূমিকাই ধরে রাখছেন। তাঁদের দাবি, বিগ বস বাংলা কোনও ধারাবাহিকের সেট নয়, এটি একটি বাস্তব প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান, তাই এখানে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলার প্রয়োজন রয়েছে। এমন মন্তব্যের পাশাপাশি কেউ কেউ আবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অভিযোগের বিষয়টি নিয়েও সংবেদনশীলভাবে আলোচনা করা দরকার।

আরও পড়ুনঃ “স্কলারশিপের টাকায় পড়েছে, উচ্চমাধ্যমিকে ৯৩ শতাংশ পেয়ে স্ট্যান্ড করেছিল, আত্মীয়দের সামনে আমাদের মুখ ছোট হতে দেবে না বলে…” ছেলে আবীর চট্টোপাধ্যায়ের ছোটবেলা থেকে পড়াশোনা, অভিনয়ে আসা ও তারকাখ্যাতির নেপথ্যের অনুপ্রেরণার গল্প শোনালেন ‘গর্বিত বাবা’ ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায় ও মা রুমকি চট্টোপাধ্যায়!

সব মিলিয়ে সোনামণি ও রাজবীরের এই নতুন পর্বে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। একদিকে রয়েছে রাজবীরের স্পর্শ নিয়ে সোনামণির অভিযোগ, অন্যদিকে রয়েছে সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁরই আগে রাজবীরের সাহায্য নেওয়ার প্রসঙ্গ। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশ্ন এবং সতর্কবার্তার পর বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাজবীরও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছেন। এর আগের খাওয়ার বিষয়ক ঝামেলা এবং টাস্কের সময়ের বিতর্কও নতুন আলোচনার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে সোনামণির আচরণ নিয়ে যেমন সমালোচনা হচ্ছে, তেমনই গোটা ঘটনাটি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা চাইছেন দর্শকদের একাংশ। আগামী দিনে সোনামণি ও রাজবীরের সম্পর্ক কোন দিকে যায় এবং এই অভিযোগের পর দুজনের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ে কি না, এখন সেদিকেই নজর বিগ বস বাংলার দর্শকদের।

You cannot copy content of this page