‘হিজ*রে কোথাকার!’ মঞ্চে উঠে রাধা-কৃষ্ণের গান গাইতেই চরম কটাক্ষে’র মুখে পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়! শ্রীকৃষ্ণের কীর্তন শুনিয়ে কোন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন গায়িকা? কীভাবেই বা নিজের ও ঈশ্বরের অপমানের জবাব দিলেন তিনি?

মঞ্চে উঠে শিল্পীদের শুধু গান গাইলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। হাজার হাজার দর্শকের সামনে পারফর্ম করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁদের প্রশংসা যেমন কুড়োতে হয়, তেমনই কখনও কখনও অশালীন মন্তব্য, কটূক্তি কিংবা অপমানজনক আচরণেরও মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে লাইভ পারফরম্যান্সের সময় শিল্পীদের মানসিক দৃঢ়তা এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা অনেক বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কেউ অপমান হজম করে চুপ থাকেন, আবার কেউ প্রতিবাদ করতে পিছপা হন না। সম্প্রতি জনপ্রিয় গায়িকা পৌষালী ব্যানার্জি তাঁর জীবনের এমনই এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন, যা শুনে অনেকেই তাঁর সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করেছেন।

বাংলা সংগীত জগতের পরিচিত মুখ পৌষালী ব্যানার্জি। লোকগান থেকে আধুনিক, ভক্তিগীতি থেকে বিভিন্ন লাইভ পারফরম্যান্স সব ক্ষেত্রেই নিজের কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিত্বের জন্য আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি। নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার জন্যও তিনি পরিচিত। ব্যক্তিগত জীবন হোক কিংবা পেশাগত অভিজ্ঞতা, কোনও বিষয় নিয়েই রাখঢাক করে কথা বলতে পছন্দ করেন না এই গায়িকা। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এমন একটি ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, যা তাঁর জীবনে অপমানজনক হলেও প্রতিবাদের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

সাক্ষাৎকারে পৌষালী ব্যানার্জি জানান, একবার একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়েছিলেন তিনি। অনুষ্ঠান শুরু করেছিলেন রাধা-কৃষ্ণের ভক্তিমূলক গান দিয়ে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে গান গাওয়ার সময় আচমকাই সামনের সারি থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলেন, “হিজরে কোথাকার!” হঠাৎ করে এমন অপমানজনক মন্তব্য শুনে মুহূর্তের জন্য তিনি হতবাক হয়ে গেলেও নিজেকে সামলে নেন। তবে বিষয়টি সেখানেই শেষ করেননি গায়িকা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এমন মানুষ নন যিনি অপমান সহ্য করে চুপচাপ বাড়ি ফিরে আসবেন।

আরও পড়ুন: ‘বালিকা বধূ’ থেকে ‘দেবী চৌধুরানী’, একের পর এক হিট ধারাবাহিক! যাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ ছিল দর্শক, হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেলেন অভিনেত্রী অদ্রিজা মুখোপাধ্যায়? অভিনয় জগতকে বিদায় জানিয়ে বর্তমানে কী করছেন এই জনপ্রিয় শিশু শিল্পী? এখন কত বড় সে, জানলে অবাক হবেন! তাঁকে কি আবারও পর্দায় দেখতে চান?

পৌষালী আরও জানান, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর তিনি ওই ব্যক্তিকে নিজের গাড়িতে উঠতে বলেন। এরপর গাড়িতে বসেই তাঁকে এমনভাবে নিজের বক্তব্য শুনিয়েছিলেন যে, তাঁর বিশ্বাস ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে আর কোনও শিল্পী বা মানুষকে সেই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য করার সাহস পাবেন না। যদিও তিনি কী কী কথা বলেছিলেন, তা বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কাউকে অপমান করার অধিকার কারও নেই। একজন শিল্পী মঞ্চে উঠে দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেন। তাই বিনা কারণে কাউকে ছোট করা বা তাঁর পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করা কখনওই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

নিজের বক্তব্যের শেষে পৌষালী ব্যানার্জি আরও বলেন, তিনি এমন মেয়ে নন, যিনি সব কিছু শুনে মুখ বুজে চলে আসবেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই তিনি বিশ্বাসী। তাঁর এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও ইতিমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, শিল্পীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি দর্শকের দায়িত্ব। পাশাপাশি, অপমানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহসও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, সেই বার্তাই যেন নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তুলে ধরলেন পৌষালী ব্যানার্জি। তাঁর এই স্পষ্ট অবস্থান নিঃসন্দেহে অন্য অনেক শিল্পীকেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে অনুপ্রাণিত করবে।

You cannot copy content of this page