“নন্দিনীকে উস্কে নিজে সাধু সাজছে সবচেয়ে অমানবিক নিরঞ্জন, সৃজলা হাসপাতালে থাকতে বলেছিল নাটক করছে!” “ঘরে শাড়ি পরে আলু চপ সেজে ভিডিও করত, বিগ বসে না এলে বুঝতেই পারতাম না এত বড় সাই*কো!” সৌরভের মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে গলাবাজি, অপমান! নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট করে ফেলেছেন নিরঞ্জন, ক্ষু’ব্ধ দর্শক চাইছেন বিগ বস থেকে বেরিয়ে যাক?

বিগ বস বাংলার শনিবারের পর্বে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও নিরঞ্জন মণ্ডলের তর্ক ঘিরে এখন জোর চর্চা। সৃজলা গুহর সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ উঠতেই নিরঞ্জনের সঙ্গে মুখোমুখি হন সঞ্চালক। টাস্ক চলাকালীন নন্দিনীর ধাক্কায় ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে সৃজলাকে পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। এই ঘটনা নিয়ে আলোচনার সময় সৌরভ দাবি করেন, সৃজলাকে অধিনায়কের পদ থেকে সরানোর পরিকল্পনায় নিরঞ্জন ও নন্দিনী ছিলেন। সৃজলার চিঠি এবং গোলাপ ছিঁড়ে ফেলার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এরপরই সৌরভের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নিরঞ্জন এবং শুরু হয় দুজনের তর্ক। শেষে নিরঞ্জনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন সৌরভ, এমনকী তাঁকে উঠে চলে যেতেও বলেন।

পুরো বিষয়টি নিয়ে নিরঞ্জনের বক্তব্য ছিল, সৌরভ এবং সৃজলা কি সত্যিই ঘটনার সম্পূর্ণ দৃশ্য দেখে কথা বলছেন।
সৌরভ তখন স্পষ্ট করে জানান, তাঁরা পুরো ঘটনাটি দেখেই কথা বলছেন। নন্দিনীও পরে স্বীকার করেন, নিরঞ্জনের সঙ্গে পরিকল্পনা করেই সৃজলার কার্ড বের করেছিলেন। এরপর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে নিরঞ্জন জানান, শুরুতে তিনি নন্দিনীর সঙ্গে সেই পরিকল্পনায় ছিলেন। কিন্তু পরে তাঁর মনে হয় কাজটি ঠিক হচ্ছে না এবং ক্ষতি হতে পারে এমন জিনিস তিনি ঘর থেকে সরিয়ে রাখেন। এমনকী সৃজলার কার্ডটিও তিনি দুর্নিবারকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বলে জানান। এই ঘটনার পরেই দর্শকদের একাংশ নিরঞ্জনের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

সমাজ মাধ্যমে এক দর্শক লিখেছেন, “এটা ঠিক নয়, এটা ঠিক নয়। আজ নিরঞ্জনকে যেভাবে সৌরভ ধমকেছেন, সেটা দেখে শান্তি পেয়েছি। মনে হয়েছে, সব জায়গায় ভাঙচুর আর গলার জোর দেখালেই সবকিছু নিজের মতো করে নেওয়া যায় না।” আরও এক দর্শকের দাবি, “নিরঞ্জনের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি চালাকি দেখা যায়। নন্দিনীকে উস্কে দিয়ে পরিকল্পনার পরে কী সুন্দরভাবে তাঁকেই একা দোষী বানিয়ে নিজে ভালো সাজার চেষ্টা করেছেন।” এই মন্তব্যগুলিতে মূলত সৃজলার ঘটনা এবং নন্দিনীর সঙ্গে নিরঞ্জনের পরিকল্পনার প্রসঙ্গই উঠে এসেছে। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, পুরো ঘটনার দায় শুধু একজনের উপর চাপিয়ে দেখার চেষ্টা করা ঠিক নয়। আবার কেউ কেউ নিরঞ্জনের আগের আচরণগুলিও টেনে এনে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। ফলে সৌরভের সঙ্গে তাঁর তর্কের পর নিরঞ্জনকে ঘিরে দর্শকদের আলোচনা আরও বেড়েছে। তবে এগুলি দর্শকদের ব্যক্তিগত মতামত, শোয়ের ঘটনার বিষয়ে তাঁদের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবেই সামনে এসেছে।

অন্য এক দর্শক লিখেছেন, “সৃজলা হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় একমাত্র নিরঞ্জনই বলেছিলেন যে সৃজলা নাটক করছেন। মনে হয়, তিনি সবাইকে নিজের মতো করেই বিচার করেন।” আরও একজন মন্তব্য করেছেন, “কলা চুরির ঘটনা দেখেই আমার মনে হয়েছিল, নিরঞ্জনের আচরণ স্বাভাবিক নয়।” কেউ আবার লিখেছেন, “ঘরে বসে শাড়ি পরে মা মাসি, আলু চপ, বেগুন সেজে মজা করে কথা বলে বিষয় বানানোই নিরঞ্জনের জন্য ভালো ছিল। বিগ বসে এসে নিজের তৈরি ভাবমূর্তিই নষ্ট করে ফেলেছেন।” অর্থাৎ দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, অনুষ্ঠানে নিরঞ্জনের সাম্প্রতিক আচরণ তাঁর আগের পরিচিত ভাবমূর্তির সঙ্গে মিলছে না। তাঁদের কথায়, ঘরের বিভিন্ন ঘটনায় তাঁর মন্তব্য এবং আচরণ নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। সৌরভের সঙ্গে তর্কের ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিক আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সঞ্চালকের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলার বিষয়টি দর্শকদের একটি অংশ ভালোভাবে নেননি।

নিরঞ্জনের সঙ্গে সৌরভের তর্কের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের অন্য ঘটনাও এদিন আলোচনায় আসে। সৌরভকে আগে থেকে লেখা কথা পড়ে বলতে হয়, এমন অভিযোগেরও জবাব দেন তিনি। সৃজলার গুরুতর চোটের উদাহরণ দিয়ে সৌরভ জানান, অনুষ্ঠান আগে থেকে সবকিছু ঠিক করে চললে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে দেওয়া হত না। মনামী ঘোষকে টাস্কের সময় টেনে সরানোর ঘটনায় জিতু কমলকেও তিনি ভর্ৎসনা করেন। জিতু নিজের ভুল মেনে সবার সামনে কান ধরে ক্ষমা চান। সোনামণি সাহার তোলা অনিচ্ছাকৃত স্পর্শের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন সৌরভ এবং জানান, জিতু ইচ্ছা করে তাঁর গায়ে হাত দেননি। এদিকে নিরঞ্জনের সঙ্গে সৌরভের তর্ক নিয়ে বিগ বস বাংলার প্রথম মরসুমের বিজয়ী অনীক ধরও সমাজ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান।

আরও পড়ুনঃ “জানিস তোর বাবা যেতেই চাইছিল না, পর্দাটা টেনে ধরেছিল… মায়ের মুখে কথাটা শুনে বুকটা কেঁপে উঠেছি” “বাবা মা*রা গেলেন পরদিনই… শুটিং চলাকালীন হারালাম প্রথম সন্তানকেও, কারোর যেন এমন না হয়!” বুকভরা ক’ষ্ট নিয়ে ক্যামেরার সামনে হাসতে হয়েছে বহুবার! পর্দায় যাঁকে দেখে বছরের পর বছর হেসেছে দর্শক, তাঁর জীবনেই লুকিয়ে আছে একাধিক য’ন্ত্রণার অধ্যায়, জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন বিশ্বনাথ বসু!

নাম না করে অনীক লেখেন, “ভদ্রভাবে থাকতে এত অসুবিধা কেন? সামনে কে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, সেটাও না দেখে মুখে মুখে তর্ক করতে হবে? দাদার রুদ্র রূপ দেখতে চেয়েছিলে, এবার সেটা দেখতেই পাবে।” এই মন্তব্যের পর নিরঞ্জনকে ঘিরে দর্শকদের আলোচনায় আরও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। কারও মতে, সৌরভের মতো সঞ্চালকের সঙ্গে এমন তর্কে না জড়ালেই ভালো হত। আবার দর্শকদের একাংশ নিরঞ্জনের আচরণ নিয়ে আগের ঘটনাগুলিও মনে করিয়ে দিচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন, বিগ বসের ঘরে নিজের আচরণের কারণেই নিরঞ্জন এখন বেশি সমালোচনার মুখে পড়ছেন। অন্যদিকে অনুষ্ঠানের এই ঘটনাগুলির পর আগামী পর্বে নিরঞ্জনের অবস্থান কী হয়, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে সৌরভ ও নিরঞ্জনের তর্ক এবং তাকে ঘিরে দর্শকদের নানা প্রতিক্রিয়ায় বিগ বস বাংলার ঘরের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

You cannot copy content of this page